বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন শুরু হলেও পুরো আয়োজনজুড়ে দেখা গেছে উত্তাপহীন ও একপেশে পরিবেশ। রোববার সকাল ১০টায় মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ভোটগ্রহণ শুরু হলেও প্রথম ৩৫ মিনিটে মাত্র একটি ভোট পড়ার ঘটনা নির্বাচন নিয়ে আগ্রহহীনতার চিত্রই স্পষ্ট করেছে।
স্টেডিয়াম এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া উপস্থিতি এবং সীমিত চলাচলের মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। সকাল থেকে কাউন্সিলর, জেলা ও বিভাগীয় প্রতিনিধি এবং ক্লাব কর্মকর্তারা এলেও নির্বাচনের ফল নিয়ে অনিশ্চয়তা খুব কম। কারণ, বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের বড় একটি অংশ আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে গেছেন।
জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা ক্যাটাগরির ১০ পরিচালকের মধ্যে সাতজন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় ভোটের আগেই অনেকটা নির্ধারিত হয়ে গেছে বোর্ডের কাঠামো। সিলেটের আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরি, বগুড়ার মীর শাকরুল আলম সীমান্ত, ঠাকুরগাঁওয়ের মির্জা ফয়সল আমীন, ঢাকার সাইদ বিন জামান ও এস এম আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ আগেই পরিচালক নিশ্চিত করেছেন। ক্যাটাগরি-৩ থেকেও একমাত্র প্রার্থী হিসেবে পরিচালক হয়েছেন সিরাজউদ্দিন মো. আলমগীর।
খুলনা বিভাগে তিন প্রার্থীর বিপরীতে দুটি পদ এবং বরিশালে দুই প্রার্থীর বিপরীতে একটি পদে ভোট হলেও সেখানেও সম্ভাব্য বিজয়ীদের নাম আগেই আলোচনায় চলে এসেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, খুলনায় শফিকুল আলম ও শান্তনু ইসলাম এবং বরিশালে মিজানুর রহমানই এগিয়ে রয়েছেন।
সবচেয়ে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাচ্ছে ক্লাব ক্যাটাগরিতে। তবে সেখানেও ১৬ প্রার্থীর মধ্যে বেশ কয়েকজনের জয় প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে। সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালসহ মাসুদুজ্জামান, রফিকুল ইসলাম বাবু, ইয়াসির আব্বাস, ইসরাফিল খসরু, সাঈদ ইব্রাহিম, শাহনিয়ান তানিম, ফাহিম সিনহা, আসিফ রাব্বানী ও ড. মাহবুব শামীমের মতো প্রার্থীদের আগেভাগেই এগিয়ে রাখা হচ্ছে।
সমালোচকদের অভিযোগ, বিসিবির এবারের নির্বাচনও আগের নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় নিয়ন্ত্রিত ও প্রশ্নবিদ্ধ পরিবেশেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত বছর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মতো এবারও সরকারি প্রভাব ও পছন্দের প্রার্থী নির্ধারণের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে গত এপ্রিলে ‘স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ’ নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার নিয়ে গঠিত তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটির সাত সদস্যেরই এবার নির্বাচনে অংশ নেওয়া নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক না রেখে পরিকল্পিতভাবেই অনেক ক্ষেত্র ফাঁকা রাখা হয়েছে। এমনকি যাঁরা অতীতে নির্বাচনের অস্বচ্ছতা নিয়ে সরব ছিলেন, তাঁরাও এবার একই প্রক্রিয়ার অংশ হয়েছেন। নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের একটি বড় অংশের রাজনৈতিক সংযোগ নিয়েও আলোচনা রয়েছে। অনেকেই ক্ষমতাসীন দলের নেতা, মন্ত্রী বা সংসদ সদস্যদের ঘনিষ্ঠজন বলে পরিচিত।
গত বছরের নির্বাচনের সঙ্গে এবারের পার্থক্য মূলত স্থান পরিবর্তনে সীমাবদ্ধ। আগেরবার পাঁচতারকা হোটেলে ভোট হলেও এবার হচ্ছে বিসিবি কার্যালয়ে। তবে নির্বাচন পদ্ধতি, ফল নিয়ে আগাম আলোচনা এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন পরিবেশ-সবকিছুই আগের চিত্রের পুনরাবৃত্তি বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সন্ধ্যা ৬টার দিকে আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণার কথা থাকলেও নির্বাচনের চূড়ান্ত চিত্র অনেকটাই আগে থেকেই নির্ধারিত বলে মনে করছেন ক্রিকেট সংশ্লিষ্টদের একটি বড় অংশ। তাঁদের মতে, ভোটগ্রহণের চেয়ে এবারের নির্বাচনে আনুষ্ঠানিকতাই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।









Discussion about this post