বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ২০২৫ আসর ঘিরে ওঠা ফিক্সিং ও দুর্নীতির অভিযোগে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দীর্ঘ তদন্ত শেষে একজন ক্রিকেটারসহ অন্তত চারজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিট। একই সঙ্গে আগের কয়েকটি বিপিএল আসরে দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে আরও একজনের বিরুদ্ধে বহিষ্কারাদেশ জারি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিসিবির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আইসিসির দুর্নীতি দমন বিধিমালার বিভিন্ন ধারা ভঙ্গের অভিযোগে কয়েকজন ক্রিকেটার, টিম কর্মকর্তা, ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। তদন্তে জুয়া-সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড, দুর্নীতির প্রস্তাব, তদন্তে অসহযোগিতা, তথ্য গোপন ও ধ্বংস এবং তদন্ত কাজে বাধা দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে।
অভিযুক্তদের সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং নোটিশ পাওয়ার পর আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য ১৪ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। বিসিবি জানিয়েছে, তদন্তের এই পর্যায়ে তারা আর কোনো মন্তব্য করবে না।
অভিযোগের তালিকায় রয়েছেন টিম ম্যানেজার মো. লাবলুর রহমান। তার বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে সহযোগিতা না করা, অনুচ্ছেদ ৪.৩ অনুযায়ী পাঠানো নোটিশের জবাব না দেওয়া এবং তদন্ত কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। বিসিবির ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি তথ্য ও যোগাযোগ সংক্রান্ত প্রমাণ গোপন, মুছে ফেলা বা ধ্বংস করার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে আইসিসির দুর্নীতি দমন বিধিমালার ২.৪.৬ ও ২.৪.৭ অনুচ্ছেদ ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে।
একই ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজি সহ-মালিক মো. তৌহিদুল হক তৌহিদের বিরুদ্ধেও। বিসিবির দাবি, তিনি তদন্তে সহযোগিতা না করার পাশাপাশি তদন্ত বিলম্বিত করতে তথ্য গোপন বা ধ্বংস করার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধেও ২.৪.৬ ও ২.৪.৭ অনুচ্ছেদ ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে।
ঘরোয়া ক্রিকেটার অমিত মজুমদারের বিরুদ্ধে সরাসরি ক্রিকেট ম্যাচ নিয়ে বাজি ধরার অভিযোগ আনা হয়েছে। আইসিসির দুর্নীতি দমন বিধিমালার ২.২.১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ক্রিকেট ম্যাচের ফলাফল, অগ্রগতি কিংবা অন্য যেকোনো বিষয়ে বাজি ধরা বা বাজি গ্রহণ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তদন্তে তার বিরুদ্ধে সেই অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে বিসিবি।
একই অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন টিম ম্যানেজার রেজওয়ান কবির সিদ্দিকী। তার বিরুদ্ধে ক্রিকেট ম্যাচের বিভিন্ন পরিস্থিতি ও ফলাফল নিয়ে বাজিতে অংশ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এছাড়া সামিনুর রহমানের বিরুদ্ধে বিপিএলের নবম, দশম ও একাদশ আসরে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ‘বিসিবি এক্সক্লুডেড পারসন পলিসি’র আওতায় বহিষ্কারাদেশ জারি করা হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, তিনি জুয়া-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া, খেলোয়াড় ও এজেন্টদের দুর্নীতির প্রস্তাব দেওয়া এবং দেশি-বিদেশি বেটিং সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে ম্যাচ-সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিতে ভূমিকা রেখেছেন। বিসিবি জানিয়েছে, নোটিশ পাওয়ার পর তিনি আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার ত্যাগ করে বহিষ্কারাদেশ মেনে নিয়েছেন।
২০২৫ সালের বিপিএল চলাকালেই ফিক্সিংয়ের অভিযোগ সামনে আসে। পরে বিষয়টি তদন্তে তৎকালীন বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করেন। দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে প্রায় ৯০০ পৃষ্ঠার একটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। সেই প্রতিবেদন পরে পাঠানো হয় বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিট প্রধান অ্যালেক্স মার্শালের কাছে। যাচাই-বাছাই শেষে ক্রিকেটার ও সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ পায় বিসিবি।
সবশেষ বিপিএলের নিলামে এনামুল হক বিজয়, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতসহ কয়েকজন ক্রিকেটারকে দেখা যায়নি। ফিক্সিং সন্দেহের কারণে তাদের এবারের আসরে খেলতে দেওয়া হয়নি বলে জানা যায়। তবে বিসিবির চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদনে তাদের কারও নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি।










Discussion about this post