অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট বিগ ব্যাশে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নজর কাড়ার পর এবার নতুন স্বীকৃতির দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছেন বাংলাদেশের লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। হোবার্ট হারিকেন্সের হয়ে অভিষেক মৌসুমেই আলো ছড়িয়ে তিনি জায়গা করে নিয়েছেন দলের মৌসুমসেরা ক্রিকেটারের সংক্ষিপ্ত তালিকায়।
এই পুরস্কারের দৌড়ে রিশাদের সঙ্গে আছেন দলের অধিনায়ক নাথান এলিস, অভিজ্ঞ পেসার ক্রিস জর্ডান এবং অলরাউন্ডার নিখিল চৌধুরী। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের প্রতিক্রিয়া বলছে, সমর্থকদের বড় অংশই ঝুঁকছেন রিশাদের দিকেই। ক্রিকেট তাসমানিয়ার উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে এই স্বীকৃতি।
হোবার্ট কর্তৃপক্ষ রিশাদের পারফরম্যান্স নিয়ে লিখেছে, ‘বেগুনি জার্সিতে নিজের অভিষেক বছরেই রীতিমতো চমক দেখিয়েছেন বাংলাদেশি লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। বিগ ব্যাশের চতুর্দশ আসরে ড্রাফট থেকে হোবার্টে যুক্ত হলেও শুরুতে মাঠে নামা নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত নিজের প্রথম মৌসুমেই ১৫টি উইকেট শিকার করে তিনি দুর্দান্ত এক প্রত্যাবর্তন দেখিয়েছেন।’
শুধু দলে জায়গা করে নেওয়াই নয়, রিশাদ হয়ে উঠেছেন হারিকেন্স বোলিং আক্রমণের প্রধান ভরসা। তাকে নিয়ে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ‘হারিকেন্সের বোলারদের মধ্যে এ বছর রিশাদই সবচেয়ে বেশি উইকেট নিয়েছেন। বিশেষ করে পাওয়ারপ্লের ঠিক পরই তাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে। স্ট্রাইকার্সের বিপক্ষে ২৬ রান দিয়ে ৩ উইকেট ছিল এই মৌসুমে রিশাদের সেরা পারফরম্যান্স। রিশাদ যেভাবে বল হাতে দাপট দেখিয়েছেন, তাতে এ বছরের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারটি জিতে নেওয়ার দৌড়ে তিনি সবার চেয়ে এগিয়ে আছেন।’
পরিসংখ্যানও তার পারফরম্যান্সের পক্ষে জোরালো সাক্ষ্য দিচ্ছে। ২০২৫-২৬ মৌসুমে ১২ ম্যাচে ১১ ইনিংসে বল করে তিনি নিয়েছেন ১৫টি উইকেট। প্রতি উইকেটে খরচ করেছেন গড়ে ২০.৮৬ রান, আর ইকোনমি রেট ছিল ৭.৮২, টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে যা যথেষ্ট প্রতিযোগিতামূলক। তার স্ট্রাইক রেট ১৬.০০, যা তার আক্রমণাত্মক লেগ স্পিনের কার্যকারিতা স্পষ্ট করে।
ব্যাট হাতেও সীমিত সুযোগে অবদান রেখেছেন রিশাদ। চার ইনিংসে ২০ বল খেলে করেছেন ২৭ রান, স্ট্রাইক রেট ১৩৫-যা তার অলরাউন্ড সক্ষমতারও ইঙ্গিত দেয়।










Discussion about this post