সহজ জয় নয়, বরং কঠিন লড়াইয়ের মধ্য দিয়েই দলকে গড়ে তুলতে চান লিটন দাস। সামনে বিশ্বকাপ, আর তার আগে দেশের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ছয়টি টি-টোয়েন্টি সিরিজ-এই সময়টাকে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক দেখছেন শেখার ও নিজেদের যাচাইয়ের সেরা সুযোগ হিসেবে।
চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে আগামীকাল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শুরু হচ্ছে তিন ম্যাচের প্রথম সিরিজ। ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে লিটন দাস জানালেন, জয় নয়, তাঁর অগ্রাধিকার খেলোয়াড়দের মানসিক ও কৌশলগত প্রস্তুতি।
‘আমি চাই আমাদের খেলোয়াড়রা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ুক, সেটা ব্যাটিং হোক, বোলিং হোক। আমি মনে করি, যত বেশি আমরা চাপের মধ্যে থাকব, তত বেশি শিখব,’ বলেন লিটন। ‘আমি চাই না প্রতিপক্ষকে সহজে হারাই। বরং চাই, প্রতিটা ম্যাচে লড়াই হোক, খেলোয়াড়রা বুঝুক কঠিন পরিস্থিতি কীভাবে সামলাতে হয়। এটা বিশ্বকাপের জন্য দারুণ প্রস্তুতি হবে।’
লিটনের এই বাস্তববাদী চিন্তা এসেছে সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা থেকে। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ রেকর্ড তিনটি ম্যাচ জিতেছিল শ্রীলঙ্কা, নেদারল্যান্ডস ও নেপালের বিপক্ষে। যদিও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অল্প ব্যবধানে হেরে যেতে হয়েছিল, সেই হারের আক্ষেপই এখন অনুপ্রেরণা।
লিটন মনে করেন, দলের উন্নতির পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে ভালো উইকেটে খেলার সুযোগ, ‘আমরা এখন ভালো উইকেটে খেলছি। এতে ব্যাটারদের সফল হওয়ার সুযোগ বেশি। এখন দলের বেশিরভাগ ক্রিকেটারই ছয় মারতে পারে, এটা ইতিবাচক দিক। কিন্তু ক্রিকেট শুধু ছয়ের খেলা নয়। এক-দুই রানও সমান গুরুত্বপূর্ণ। পরিস্থিতি বুঝে খেলার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।’
সংস্করণ বদলে খেলোয়াড়দের মনোভাবও পাল্টে যায় বলে মনে করেন লিটন, ‘সংস্করণ ভেদে মানসিকতা আর আগ্রাসন পরিবর্তিত হয়। তবে টি-টোয়েন্টিতে সবাই জানে কীভাবে সফল হতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই সংস্করণ খেলায় আমাদের খেলোয়াড়রা অভ্যস্ত এবং আত্মবিশ্বাসী।’
তবে মাঠের বাইরে কাটানো সময় ছিল তার জন্য কষ্টদায়ক। ইনজুরির কারণে এশিয়া কাপ ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ মিস করেছেন লিটন। তখন টিভির সামনে বসে দলের হার দেখা সহজ ছিল না। ‘খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে না থাকা সত্যিই কষ্টদায়ক। আমি ভালো ফর্মে ছিলাম, নেতৃত্ব দিচ্ছিলাম। সেখান থেকে হঠাৎ বাইরে চলে আসা সহজ নয়,’ বলেন লিটন। ‘তবে ইনজুরি এমন কিছু, যেটা কারও হাতে নেই। এটা মেনে নেওয়া ছাড়া উপায়ও নেই।’
বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এখন নতুন উদ্যমে মাঠে ফিরতে প্রস্তুত তিনি। তাঁর চোখে লক্ষ্য একটাই-চ্যালেঞ্জের মুখে দলের পরিণত হওয়া, ‘সহজ জয় থেকে শেখা যায় না। শেখা যায় যখন আপনি ব্যাকফুটে থাকেন, চাপের মধ্যে থাকেন, তারপরও লড়াই করে জেতেন। আমি চাই বাংলাদেশ এমন ক্রিকেটই খেলুক।’










Discussion about this post