ক্রীড়াবিদদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের পেশাদার মানসিকতা ও জাতীয় দায়িত্ববোধকে সামনে আনতেই নতুন বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ক্রীড়া কার্ড ও ভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি খেলোয়াড়দের রাজনীতির বাইরে থাকার আহ্বান জানিয়ে ক্রীড়াকে দেশের প্রতিনিধিত্বের সর্বোচ্চ মাধ্যম হিসেবে তুলে ধরেন।
আজ রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ১২৯ জন ক্রীড়াবিদের হাতে ক্রীড়া কার্ড ও ভাতা তুলে দেওয়া হয়। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য অর্জনকারী খেলোয়াড়দের আর্থিক পুরস্কার প্রদান করা হয়। জাতীয় ক্রীড়াবিদদের প্রথমবারের মতো সরকারি বেতন কাঠামোর আওতায় আনার এই উদ্যোগ দেশের ক্রীড়া ব্যবস্থায় একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই ব্যবস্থার আওতায় খেলোয়াড়রা মাসিক এক লাখ টাকা ভাতা পাবেন এবং পর্যায়ক্রমে আরও প্রায় ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে পুরো আয়োজনের কেন্দ্রীয় বার্তা ছিল খেলোয়াড়দের ভূমিকা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট অবস্থান। তিনি ক্রীড়াবিদদের উদ্দেশে বলেন, ‘ক্রীড়াবিদদের প্রতি আমার একান্ত আহ্বান, একান্ত অনুরোধ, পেশাদার খেলোয়াড়ি জীবনে আপনারা কোনো বা রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধি নন বা হবেন না দয়া করে। বরং ক্রীড়া নৈপুণ্য দিয়ে দেশের প্রতিনিধি হয়ে উঠবেন আপনারা। দেশের জন্য সম্মান বয়ে নিয়ে আসবেন, গৌরব বয়ে নিয়ে আসবেন। দেশে-বিদেশে বিজয় মালা বরণ করে বিশ্বে ক্রীড়া জগতে বাংলাদেশকে উচ্চতর মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করবেন ইনশাআল্লাহ।’
শুধু রাজনীতি থেকে দূরে থাকার আহ্বানই নয়, পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রেও বাস্তববাদী দিকনির্দেশনা দেন তিনি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ধারাবাহিক সাফল্য অর্জনের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টগুলোর দিকে আমাদের লক্ষ্য থাকবে। আমাদের ছেলেমেয়েরা যে দেশের জন্য সম্মান বয়ে নিয়ে আসতে পারে, সেটা এরই মধ্যে প্রমাণ হয়েছে। ইনশাআল্লাহ আগামী দিনেও এটা অব্যাহত থাকবে। কথা বলার অনেক কিছুই আছে। আমার মনে কথা কম কাজ বেশি করতে হবে। কথা কম, খেলতে হবে বেশি। দেশপ্রেম, দৃঢ় ইচ্ছা আর টিম স্পিরিট থাকলে আপনাদের সাফল্যের পথে কেউ বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না বলে আমি বিশ্বাস করি।’
সরকারের বৃহৎ ক্রীড়া পরিকল্পনার কথাও তিনি তুলে ধরেন। ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’-এই অঙ্গীকারের ভিত্তিতে দেশের প্রতিটি জেলায় আন্তর্জাতিক মানের স্পোর্টস ভিলেজ এবং প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ তৈরির উদ্যোগ চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাবিনা খাতুন নারী ফুটসাল ও ফুটবলের উন্নয়নে অবকাঠামোগত ঘাটতির বিষয়টি তুলে ধরেন এবং উন্নত মাঠের দাবি জানান। তাঁর বক্তব্যের পরপরই প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, ‘সাবিনা, সাবিনা তোমার যে মাঠের দাবিটা, এটা আমরা প্রক্রিয়া শুরু করেছি। মোটামুটিভাবে শেষ হয়ে আসছে কাজটা। মেয়েরা যেন প্র্যাকটিস করতে পারে, খেলতে পারে সেটা মাঠ মোটামুটি সিলেকশন হয়েছে। অলমোস্ট ডান।’










Discussion about this post