বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করার ঘোষণার মধ্যেই বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে ঢাকা ক্যাপিটালস। বিসিবির অ্যান্টি করাপশন ইউনিটের কার্যক্রমকে সমর্থন করলেও তাদের কাজের ধরনকে অপেশাদার ও অসম্মানজনক বলে দাবি করেছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে বিপিএল থেকে সরে যাওয়ার মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হতে পারে ঢাকা-এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন দলের প্রধান নির্বাহী আতিক ফাহাদ।
ঢাকার আপত্তির মূল জায়গা হলো, জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম প্রোটোকল মানা হচ্ছে না। রহমানুল্লাহ গুরবাজের হোটেল রুমে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ এবং সাইফ হাসানকে ম্যাচের ঠিক আগে জেরা করার ঘটনা দলের মধ্যে ভীতি ও অস্থিরতা তৈরি করেছে বলে দাবি ঢাকার।
আতিক ফাহাদ এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘সকাল সাতটা কিংবা আটটার দিকে গুরবাজ ঘুমাতে গেছে। তখন হুট করে তাঁর রুমে কয়েকজন ঢুকে পড়ে। বিষয়টি আগে টিম ম্যানেজার বা খেলোয়াড় কাউকেই জানানো হয়নি। শুধু দরজায় নক করেই ঢুকেই পড়েছে। এরপর গুরবাজ এসে বলল কী হচ্ছে এটা? সে তো ১০-১৫ মিনিট সংশয়ে ছিল যে আসলে কী হচ্ছে। কাঁচা ঘুমের কারণে সে বুঝতে পারছিল না। পরে জানতে পারি তারা অ্যান্টি করাপশনের লোকজন ছিল। তারা গুরবাজের ফোন দেখেছে এবং বিভিন্ন প্রশ্ন করেছে।’
এই ঘটনার পর গুরবাজ নিজের দেশের অ্যান্টি করাপশন ইউনিটের সঙ্গেও যোগাযোগ করেন বলে জানান ঢাকার সিইও।
আতিক ফাহাদের ভাষায়, ‘আকুর লোকজন যাওয়ার পর গুরবাজ আফগানিস্তানের অ্যান্টি করাপশন ইউনিটকে কল দিয়ে জিজ্ঞেস করলো যে এভাবে কি জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে কিনা অ্যান্টি করাপশন। পরে আফগানিস্তান আফগানিস্তানের অ্যান্টি করাপশন ইউনিট থেকে তাকে বললো অবশ্যই প্রথমে ম্যানেজারকে জানাতে হবে ম্যানেজার প্লেয়ারকে জানিয়ে সময় নিবে। এরপর খেলোয়াড় সময় দেওয়ার পর পরে তাকে জেরা করতে পারে। এই যে একটা প্লেয়ারকে এভাবে রুমে গিয়ে আপনার আগে থেকে না জানিয়ে বিরক্ত করা এটা আইসিসিও সমর্থন করবে না। গুরবাজ আমাকে পরে বলছে যদি এই ধরনের পরিস্থিতি হলে তো আর এখানে খেলতে আসতে পারবে না।’
ঢাকা ক্যাপিটালসের অভিযোগ, এ ধরনের আচরণ শুধু খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরই আঘাত করছে না, বরং পুরো দলের পরিবেশ নষ্ট করছে। আতিক ফাহাদ বলেন, ‘ম্যানেজমেন্ট এবং খেলোয়াড়রা যদি মানসিকভাবে স্থিতিশীল না থাকে সেখানে আমরা কি ভালো ফল আশা করতে পারি? প্রতি বছর আমরা ২-৩ কোটি টাকা লোকসান দিয়ে বিপিএল চালিয়ে যাচ্ছি। তার ওপর যদি আমাদের এভাবে মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয় তাহলে আমরা কীভাবে ম্যাচে থাকব বা ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ কীভাবে চালিয়ে যাব সে বিষয়ে আমার কোনো ধারণা নেই।’
এই বাস্তবতাই বিপিএল ছাড়ার চিন্তা সামনে আনছে বলে জানান তিনি। আতিক ফাহাদ বলেন, ‘এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে আমরা কখনো বিপিএল চালিয়ে যাওয়ার সাহস পাব না। আমি এখানে খরচ করব, ক্ষতি হবে, বিভিন্ন কোম্পানির সিআর ফান্ড এনে ঢুকাব আর যাওয়ার সময় অসম্মান নিয়ে যাব এটা তো হতে পারে না।’
বিপিএলের চলতি আসরে ইতিমধ্যেই একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজি আর্থিক ও ব্যবস্থাপনাগত সংকটে পড়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে ঢাকার এই অভিযোগ টুর্নামেন্টের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও নতুন প্রশ্ন তুলছে। মাঠে ৬ ম্যাচে ২ জয় নিয়ে ঢাকা ক্যাপিটালস এখনো লড়াইয়ে থাকলেও, মাঠের বাইরের এই অস্থিরতা তাদের ভবিষ্যৎ অংশগ্রহণ নিয়েই বড় অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।










Discussion about this post