ওয়ানডে ক্রিকেটে ফেরার গুঞ্জনকে একেবারে স্পষ্ট ভাষায় নাকচ করে দিয়েছেন মুশফিকুর রহিম। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অবসর ভেঙে ফেরার উদাহরণ নতুন কিছু নয়, বরং অনেক ক্রিকেটারই বারবার সেই বৃত্তে ঘুরেছেন। কিন্তু ১৬ মাস আগে ওয়ানডেকে বিদায় বলা বাংলাদেশের অভিজ্ঞ এই উইকেটকিপার-ব্যাটার জানিয়ে দিয়েছেন, তার আর ফেরার কোনো পরিকল্পনা নেই।
২০২২ সালে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিকে বিদায় বলেছিলেন মুশফিক। এরপর ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির পর সামাজিক মাধ্যমে ওয়ানডে থেকেও অবসরের ঘোষণা দেন তিনি। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়-বাংলাদেশ দলের প্রয়োজনেই নাকি আবার ফিরতে পারেন তিনি।
পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের আগে সিলেটে সংবাদ সম্মেলনে সেই প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে মুশফিক বলেন, ‘ওয়ানডে ক্রিকেটে যেটা বললেন, আমি পেয়েছিলাম (প্রস্তাব)। তবে আমার মতে বাংলাদেশ ইনশা আল্লাহ এমন এক পর্যায়ে আছে এবং ভবিষ্যতেও যাবে। তখন মনে হয় না আমাকে দলের কোনো প্রয়োজনে আসবে।’
মুশফিকের অবসরের পর একসময় ওয়ানডে ক্রিকেটে ধাক্কা খেয়েছিল বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ হারের পাশাপাশি আফগানদের কাছে ধবলধোলাইও হতে হয়েছিল মেহেদী হাসান মিরাজের দলকে। তবে সময়ের সঙ্গে বদলেছে দৃশ্যপট। গত সাত মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা তিনটি ওয়ানডে সিরিজ জিতে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে বাংলাদেশ। মিডল অর্ডারে তাওহীদ হৃদয় ও লিটন দাসের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সও দলকে স্থিতি দিয়েছে। যে জায়গায় একসময় দীর্ঘদিন ভরসা ছিলেন মুশফিক নিজেই। তাই বর্তমান দলের অগ্রগতিতে সন্তুষ্ট হয়েই হয়তো ফেরার ভাবনা থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন তিনি।
তবে সাদা বলের ক্রিকেটে উন্নতির গল্প থাকলেও টেস্টে বাংলাদেশের পথচলা এখনো কঠিন বাস্তবতায় ঘেরা। ২৫ বছর পার করেও ২৬ জয়ের বিপরীতে ১১২ হার-পরিসংখ্যান খুব বেশি আশাব্যঞ্জক নয়। কিন্তু এই সংস্করণে দলের যে অগ্রগতি হয়েছে, তার পেছনে মুশফিক সবচেয়ে বেশি কৃতিত্ব দিচ্ছেন মুমিনুল হক ও তাইজুল ইসলামকে।
দুজনই সীমিত ওভারের ক্রিকেটে অনেকটা আড়ালে পড়ে থাকা নাম। মুমিনুল সবশেষ ওয়ানডে খেলেছেন ২০১৮ সালে, টি-টোয়েন্টি তো আরও আগে হারিয়ে গেছে তাঁর ক্যারিয়ার থেকে। আর তাইজুলও দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে খুব কমই সুযোগ পেয়েছেন সাদা বলের ক্রিকেটে। অথচ টেস্টে দুজনই বাংলাদেশের নির্ভরতার প্রতীক। পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে তৃতীয় বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে ৫ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন মুমিনুল, দুই ইনিংসেই পেয়েছেন ফিফটি। অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে উইকেট নিয়ে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিয়েছেন তাইজুল।
এই দুই সতীর্থকে নিয়ে মুশফিকের মূল্যায়ন ছিল আবেগমিশ্রিত। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের এত দূর আসার পেছনে আমার কাছে দুই ব্যক্তির অবদান অনেক বেশি মনে হচ্ছে। তারা হচ্ছে মুমিনুল আর তাইজুল। কারণ, আমি গত দুই-তিন বছর ধরে একটা জিনিস বুঝতে পেরেছি যে শুধু এক সংস্করণে খেলার অনুভূতি কেমন হয়। কোনোরকম অভিযোগ না করেই প্রসেস অনুযায়ী কাজ করছে।’
২০০৫ সালে লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যাত্রা শুরু হয়েছিল মুশফিকের। দুই দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে খেলেছেন ১০১টি টেস্ট, বাংলাদেশের একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে ছুঁয়েছেন শততম টেস্টের মাইলফলক। ৩৯ বছর বয়সে এসে ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ের বাস্তবতা বুঝলেও টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি তাঁর ভালোবাসা একটুও কমেনি।
মুশফিকের কণ্ঠে সেটিরই প্রতিধ্বনি শোনা গেল সিলেটের সংবাদ সম্মেলনে, ‘ভালো লাগছে অবশ্যই খুবই ভালো। আর অবশ্যই ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে চলে এসেছি। প্রত্যেক দিনই আমার কাছে আশীর্বাদ। সব সময় টেস্টকে প্রাধান্য দিয়ে থাকি।’









Discussion about this post