শুরুটা হলো হার দিয়েই-নিউজিল্যান্ডের দেওয়া ২৪৭ রানের জবাবে ২২১ রানে গুটিয়ে গিয়ে ২৬ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। ভালো শুরুর পরও শেষটা করতে পারেনি স্বাগতিকরা।
মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শেষটাতে এসে সমীকরণ মেলাতে পারেনি বাংলাদেশ। মাঝপথে আশা জাগালেও শেষ দিকে ব্যাটিং ধসে ভেঙে পড়ে দল।
এদিন টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ড শুরুতে কিছুটা চাপে পড়লেও ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয়। শুরুতে নিক কেলিকে ফিরিয়ে দেন শরিফুল ইসলাম, কিন্তু এরপর হেনরি নিকোলস ও উইল ইয়ং মিলে গড়ে তোলেন গুরুত্বপূর্ণ জুটি। ইয়ং ৩০ রান করে ফিরলেও নিকোলস ক্রিজে থেকে ইনিংসকে এগিয়ে নেন। মাঝের ওভারে মেহেদী হাসান মিরাজ ও রিশাদ হোসেন কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুললেও শেষদিকে ডিন ফক্সক্রফটর দৃঢ় ব্যাটিং নিউজিল্যান্ডকে লড়াকু সংগ্রহ এনে দেয়। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৪৭ রান তোলে সফরকারীরা। বাংলাদেশের হয়ে শরিফুল, রিশাদ ও তাসকিন আহমেদ জোড়া উইকেট নেন।
২৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ২১ রানের মধ্যে দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তকে হারায় দল। এই ধাক্কার পর ইনিংস মেরামতের দায়িত্ব নেন লিটন দাস ও সাইফ হাসান। তাদের ৯৩ রানের জুটি ম্যাচে ফিরিয়ে আনে বাংলাদেশকে। সাইফ ৭৬ বলে ৫৭ রান করে আউট হন, যেখানে ছিল একাধিক দৃষ্টিনন্দন শট। লিটনও ৪৬ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন।
এরপর তাওহীদ হৃদয় একপ্রান্তে দাঁড়িয়ে লড়াই চালিয়ে যান। তবে তার সঙ্গে অন্য প্রান্তে কেউ বড় জুটি গড়তে পারেননি। আফিফ হোসেন ধীরগতির ২৭ রানের ইনিংস খেলে আউট হলে চাপে পড়ে যায় দল। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। বিশেষ করে শেষ দিকে ব্লেয়ার টিকনারর বোলিং আক্রমণে ধসে পড়ে স্বাগতিকদের ব্যাটিং লাইনআপ। তিনি শেষ তিন ওভারে চারটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেন।
শেষদিকে হৃদয় ফিফটি তুলে নিলেও তার ৫৫ রানের ইনিংস দলকে জয়ের পথে নিতে পারেনি। ৪৯তম ওভারে আউট হওয়ার পর বাংলাদেশের ইনিংস থামে ২২১ রানে। শেষ ৩৭ রানের মধ্যে ৬ উইকেট হারিয়ে কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে তারা।
আইপিএল ও পিএসএলের কারণে প্রথম সারির অনেক ক্রিকেটার ছাড়া দল নিয়ে বাংলাদেশে এলেও নিউজিল্যান্ড মাঠের খেলায় কোনো ঘাটতি রাখেনি। বরং তুলনামূলক অনভিজ্ঞ দল নিয়েই তারা দাপুটে পারফরম্যান্স দেখিয়ে সিরিজে এগিয়ে গেল। ম্যাচের আগে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন প্রধান কোচ ফিল সিমন্স ও অধিনায়ক মিরাজ, কিন্তু বাস্তবে সেই সতর্কতা কাজে লাগাতে পারেনি দল।










Discussion about this post