১৯৯৭ সালের ১৬ জুলাই, বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এক বিশেষ দিন হয়ে আছে। সেদিন হঠাৎই দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসেন এক আম্পায়ার-মোহাম্মদ আসগর। কারণ, বাংলাদেশেরই একজন আম্পায়ার হয়ে তিনি আন্তর্জাতিক ম্যাচে বাংলাদেশের এক ব্যাটসম্যানকে আউট ঘোষণা করেছিলেন। সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা হয়েছিল দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে এবং সাধারণ দর্শকদের মধ্যেও।
আজ সেই মোহাম্মদ আসগর আর নেই। ৭৩ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না লিল্লাহি রাজিউন)। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর জানিয়ে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম আম্পায়ারিং দায়িত্ব পালনকারী আসগর ১৯৯৭ সালে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপের সাতটি ম্যাচেই টিভি আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যা ছিল দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ঘরোয়া ক্রিকেটে আম্পায়ার হিসেবে তিনি বহু বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে তিনি ম্যাচ রেফারি হিসেবেও কাজ করেন এবং ২০২১ সালে ঘরোয়া ক্রিকেটে শেষবারের মতো দায়িত্ব পালন করেন। তার এই দীর্ঘ পথচলা বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রশাসন ও পরিচালনায় এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।
তবে তার নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে ১৯৯৭ সালের সেই বিতর্কিত সিদ্ধান্তকে ঘিরে। কলম্বোতে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপের বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচে পাকিস্তান বড় সংগ্রহ দাঁড় করানোর পর বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা প্রায় ক্ষীণ হয়ে যায়। কিন্তু ওপেনার আতহার আলী খান দুর্দান্ত ব্যাটিং করে আশার সঞ্চার করেছিলেন। তিনি ৮২ রান করে ফেলেছিলেন এবং সেঞ্চুরির সম্ভাবনাও জাগিয়েছিলেন।
এই সময় সাকলায়েন মুশতাক-এর বল ধরে উইকেট ভেঙে দেন উইকেটকিপার মঈন খান। মাঠের আম্পায়াররা সিদ্ধান্তের জন্য থার্ড আম্পায়ার আসগরের দ্বারস্থ হন। রিপ্লেতে দেখা যায়, আতহারের পা ক্রিজের ভেতরে থাকলেও তা মাটিতে স্পর্শ করেনি। নিয়ম অনুযায়ী আসগর তাকে আউট ঘোষণা করেন।
এই সিদ্ধান্ত ছিল ক্রিকেটের নিয়ম অনুযায়ী সঠিক, কিন্তু তবুও তা মেনে নিতে পারেননি বাংলাদেশের সমর্থকেরা। কারণ, আতহার তখন দেশের হয়ে ওয়ানডেতে প্রথম সেঞ্চুরির সম্ভাবনা তৈরি করেছিলেন। সেই আবেগঘন মুহূর্তে একজন বাংলাদেশি আম্পায়ারের এমন সিদ্ধান্ত অনেকের কাছেই বেদনাদায়ক হয়ে ওঠে।
দীর্ঘ রোগভোগের পর মোহাম্মদ আসগরের মৃত্যুতে শেষ হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তার নিরপেক্ষতা, দায়িত্ববোধ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সাহস তাকে স্মরণীয় করে রাখবে ক্রিকেট ইতিহাসে।










Discussion about this post