উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বের শেষ রাত ছিল আবেগ, উত্তেজনা আর অঙ্কের হিসাবের এক বিরল মেলবন্ধন। একসঙ্গে চলা ম্যাচগুলোর প্রতিটি গোল যেন নতুন করে লিখে দিচ্ছিল পয়েন্ট টেবিলের গল্প। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই কোথাও উল্লাস, কোথাও নিস্তব্ধতা, কারণ তখনই স্পষ্ট হয়ে গেছে কারা এগোল স্বপ্নের শেষ ষোলোর দিকে, আর কারা পড়ল অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে।
এই লিগ পর্বে সবচেয়ে স্থির ও ধারাবাহিক দল হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছে আর্সেনাল। শীর্ষে থেকে পর্ব শেষ করা গানাররা আগেই নিশ্চিত করেছিল সরাসরি শেষ ষোলো।
তাদের সঙ্গী হয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ, যারা শেষ ম্যাচে পিএসভি আইন্দহোভেনের মাঠে ২-১ ব্যবধানে জিতে নিজেদের জয়যাত্রা ধরে রেখেছে। শেষ রাউন্ড শেষে লিভারপুল, টটেনহ্যাম হটস্পার, বার্সেলোনা, চেলসি, স্পোর্তিং সিপি ও ম্যানচেস্টার সিটিও জায়গা করে নিয়েছে সেরা আটে। ফলে ইউরোপ সেরার দৌড়ে এই আট দল পাচ্ছে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার বাড়তি সুবিধা।
তবে এই রাত ইউরোপের সবচেয়ে সফল ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের জন্য ছিল অস্বস্তির। তৃতীয় স্থান থেকে শেষ রাউন্ডে নেমে বেনফিকার বিপক্ষে ৪-২ গোলে হেরে তারা নেমে যায় নবম স্থানে। ১৫ বারের চ্যাম্পিয়নদের তাই এবার শেষ ষোলো নিশ্চিত করতে নামতে হবে দুই লেগের প্লে-অফে। বিপরীতে, বিদায়ের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়েও বেনফিকা বাঁচিয়ে রেখেছে নিজেদের আশা। যোগ করা সময়ের অষ্টম মিনিটে গোলরক্ষকের করা গোল গোল ব্যবধানে তাদের এনে দেয় প্রয়োজনীয় সুবিধা, আর তাতেই নিশ্চিত হয় প্লে-অফ।
নতুন ফরম্যাটের এই আসরে ৩৬ দলের মধ্যে নবম থেকে ২৪তম স্থানে থাকা দলগুলোর জন্য অপেক্ষা করছে নকআউট প্লে-অফ। সেখান থেকে জয়ী আট দল পূরণ করবে শেষ ষোলোর বাকি আটটি জায়গা। গত মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন পিএসজি এই তালিকায়ই রয়েছে। শেষ ম্যাচে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের সঙ্গে ১-১ ড্র করে তারা অবস্থান করছে ১১ নম্বরে। ইন্টার মিলান, আতলেতিকো মাদ্রিদ, জুভেন্টাস ও আটালান্টার মতো অভিজ্ঞ দলগুলোকেও পাড়ি দিতে হবে এই কঠিন পথ।
অন্যদিকে লিগ পর্বের শেষ দিনে চূড়ান্ত বিদায় নিশ্চিত হয়েছে একাধিক পরিচিত নামের। টেবিলের একেবারে নিচে থেকে আসর শেষ করেছে কাইরাত আলমাতি। তাদের সঙ্গে শেষ দিনে ছিটকে পড়েছে মার্সেই, পাফোস, ইউনিয়ঁ সাঁ-জিলোয়া, পিএসভি আইন্দহোভেন, আথলেতিক বিলবাও, নাপোলি, কোপেনহেগেন ও আয়াক্স। ইউরোপের বড় মঞ্চে এমন বিদায় অনেকের জন্যই ছিল তিক্ত অভিজ্ঞতা।










Discussion about this post