নারী টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপে ব্যাট হাতে ধারাবাহিক ব্যর্থতা আর সেমিফাইনালে থেমে যাওয়া বাংলাদেশের পথচলার পর দলের নেতৃত্ব নিয়েও শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। এর মধ্যেই টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন নিগার সুলতানা জ্যোতি। ফলে সংক্ষিপ্ত সংস্করণে বাংলাদেশ নারী দলের নেতৃত্বে এখন নতুন অধ্যায়ের অপেক্ষা।
জ্যোতির উত্তরসূরি হিসেবে আপাতত আলোচনায় উঠে এসেছে দুই সিনিয়র ক্রিকেটারের নাম-বাঁহাতি স্পিনার নাহিদা আক্তার ও অলরাউন্ডার সোবহানা মোস্তারি। বিসিবির একটি সূত্রের বরাত দিয়ে ক্রিকবাজ জানিয়েছে, নতুন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক নির্বাচন নিয়ে বোর্ডের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা হলে এই দুজনের নাম সামনে আসতে পারে।
বোর্ডের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা এক কর্মকর্তা ক্রিকবাজকে জানিয়েছেন, জ্যোতির জায়গা পূরণের জন্য এই মুহূর্তে খুব বেশি বিকল্প নেই। তবে অধিনায়কত্ব থেকে তিনি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতেই হবে। সংক্ষিপ্ত সংস্করণে বর্তমান অবস্থান বিবেচনায় নাহিদা ও সোবহানাকে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবেই দেখা হচ্ছে বলে ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
তবে নেতৃত্বের হিসাব কেবল বর্তমান দলেই আটকে রাখতে চাইছে না বিসিবি। ভবিষ্যতের জন্য তরুণ ক্রিকেটারদের নেতৃত্বের উপযোগী করে তোলার ভাবনাও রয়েছে। সেই আলোচনায় ‘এ’ দলের নেতৃত্ব দেওয়া রাবেয়া খাতুনের পাশাপাশি অলরাউন্ডার শারমিন আক্তার ও স্বর্ণা আক্তারের নামও আসতে পারে। যদিও এখনই তাদের কারও হাতে জাতীয় টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্ব তুলে দেওয়া কিছুটা আগেভাগে হয়ে যাবে-বোর্ডের ভেতরে এমন ধারণাও রয়েছে।
জ্যোতির বিদায়ের সময়টিও তৈরি করেছে কিছুটা অনিশ্চয়তা। জাপানে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে জ্যোতির সম্ভাব্য শেষ ম্যাচ হতে পারে। তবে সেই ম্যাচে বাংলাদেশ জয় পেলে পরিস্থিতি বদলানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সে ক্ষেত্রে জ্যোতির নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ থাকতে পারে।
২০২২ সাল থেকে টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন জ্যোতি। তার অধিনায়কত্বের সময় বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সাফল্যের একটি আসে ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে দীর্ঘ এক দশক পর বিশ্বকাপে জয় পায় বাংলাদেশ। ওই ম্যাচসহ পুরো আসরে ব্যাট ও উইকেটের পেছনেও কার্যকর ভূমিকা ছিল জ্যোতির। চার ইনিংসে তার ব্যাট থেকে আসে ১০৪ রান, সঙ্গে ছিল সাতটি ডিসমিসাল।
কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে জ্যোতির ব্যাটিং ফর্ম এবং দলের একের পর এক পরাজয় তাঁকে ঘিরে নতুন প্রশ্ন তৈরি করে। এশিয়া কাপে বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতা সেই আলোচনাকে আরও সামনে নিয়ে আসে। অধিনায়কত্ব ছাড়ার ঘোষণার ফলে এখন সেই প্রশ্নের জায়গা নিয়েছে উত্তরসূরি খোঁজার প্রক্রিয়া।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কোচিং স্টাফেও সম্ভাব্য পরিবর্তন। বাংলাদেশ নারী দলের প্রধান কোচ সারোয়ার ইমরানের জায়গায় ডেভিড হেম্পকে আনার আলোচনা রয়েছে। ফলে অধিনায়ক পরিবর্তনের পাশাপাশি কোচিংয়েও পরিবর্তন এলে নারী ক্রিকেটের টি-টোয়েন্টি দলটি নতুন কাঠামোয় প্রবেশ করতে পারে।



