সময়টা যেন আবারও সাব্বির রহমানের পক্ষে কথা বলতে শুরু করেছে। বয়স ৩৪ পেরিয়েছে, কিন্তু ব্যাট হাতে তার শটের ধার কমেনি। বরং অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে এইচপি দলের হয়ে টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজে নিজের ব্যাটিং দিয়ে নতুন করে নজর কেড়েছেন এই ব্যাটার।
তবে এই পারফরম্যান্সের গল্পে শুধু সাব্বিরের ব্যাটই নেই। আছে দুই অগ্রজ ক্রিকেটারের ছায়া, পরামর্শ আর বিশ্বাস। তারা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও ইমরুল কায়েস।
ঘরোয়া ক্রিকেটকে এখনো বিদায় জানাননি মাহমুদউল্লাহ। অস্ট্রেলিয়া সফরে এইচপি দলের পরামর্শকের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি। শুধু ডারউইনেই নয়, অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার আগেও সাব্বিরকে নিয়ে কাজ করেছেন সাবেক এই অধিনায়ক। আর সাবেক ওপেনার ইমরুল কায়েস এখন অস্ট্রেলিয়াতেই থিতু। দল সেখানে গেলে তিনিও পরামর্শকের ভূমিকায় কাজ করেছেন।
সাব্বিরের চোখে তাই তারা শুধুই সাবেক সতীর্থ কিংবা ক্রিকেটের সহযাত্রী নন। ফিরে আসার পথে তারা হয়ে উঠেছেন অভিভাবক, কোচ ও পথপ্রদর্শক।
দুই সিনিয়রের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আবেগঘন বার্তায় সাব্বির লিখেছেন, ‘মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ভাই ও ইমরুল ভাই! আপনারা আমার কাছে শুধু কলিগ নন; আপনারা আমার গার্ডিয়ান, কোচ, মেন্টর এবং পথপ্রদর্শকও। আপনাদের থেকে ছোটবেলা থেকেই শিখেছি, এখন বড় হয়েও শিখছি। আসলে শেখার কোনো শেষ নেই। আশা করি, সামনেও আপনাদের কাছ থেকে আরও অনেক কিছু শেখার সুযোগ পাব।’
ডারউইনে ব্যাট হাতে সাব্বিরের পরিসংখ্যানও বলছে তার ছন্দে ফেরার কথা। টপ এন্ড টি-টোয়েন্টিতে ছয় ইনিংসে করেছেন ১৮৪ রান। ব্যাটিং গড় ৩৬.৮, স্ট্রাইক রেট ১২৪.৩২। শুধু ব্যক্তিগত রানেই থামেনি তার অবদান; দলের সাফল্যেও রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
এই পারফরম্যান্সের পেছনে রিয়াদ ও ইমরুলের ভূমিকার কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন সাব্বির। প্রত্যাবর্তনের এই সময়ে দুই অগ্রজের বিশ্বাসকে তার কাছে মূল্যবান মনে হয়েছে।
তিনি লিখেছেন, ‘এই সময়ে এসে আপনারা যেভাবে আমাকে ব্যাক করেছেন, সাপোর্ট করেছেন এবং বিশ্বাস রেখেছেন, সেটা আমার জন্য সত্যিই অনেক মূল্যবান। আপনাদের দেওয়া প্রতিটি পরামর্শ ও গাইডলাইন মেনে চলার চেষ্টা করেছি এবং এখনও করে যাচ্ছি।’
একসময় জাতীয় দলের নিয়মিত মুখ ছিলেন সাব্বির। নানা উত্থান-পতনের পর এখন তার সামনে আবারও নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ। সেই পথচলায় ব্যাট হাতে ভালো করার পরও নিজের কৃতিত্ব একা নিতে চাননি তিনি। বরং দুই সিনিয়রের অবদানকেই সামনে এনেছেন।
নিজের বর্তমান ফর্ম নিয়ে সাব্বির লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, বর্তমানে ভালো খেলতে পারছি এবং সামনে আরও ভালো কিছু করার চেষ্টা করছি। আমার এই ভালো করার পেছনে আপনাদের দুজনের অবদান অনেক বেশি। আপনাদের সাপোর্ট, গাইডলাইন ও বিশ্বাস আমাকে সবসময় অনুপ্রেরণা দিয়েছে।’
একটি প্রত্যাবর্তন তখনই পূর্ণতা পায়, যখন নিজের ওপর হারিয়ে যাওয়া বিশ্বাসটা ফিরে আসে। সাব্বিরের ডারউইন অধ্যায়েও যেন সেই বিশ্বাসের গল্পই লেখা হচ্ছে। ব্যাট হাতে রান করে তিনি জানান দিচ্ছেন, এখনো অনেক কিছু দেওয়ার আছে।
আর সেই পথচলায় যারা পাশে ছিলেন, তাঁদের ভুলে যাননি এই ব্যাটার।



