অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য সিরিজটি হয়ে থাকল বিশেষ এক অধ্যায়। দ্বিতীয় টেস্টে হারলেও ডারউইনে প্রথম টেস্ট জিতে ক্রিকেট দুনিয়ায় আলোড়ন তুলেছিল টাইগাররা। সেই ঐতিহাসিক জয়ের রেশ যেমন রয়েছে দলের ক্রিকেটারদের মনে, তেমনি পুরো সিরিজ থেকে প্রত্যেকে বয়ে নিয়ে ফিরেছেন আলাদা আলাদা কিছু স্মৃতি।
বাংলাদেশের হয়ে ডারউইন টেস্টের জয়ে বড় ভূমিকা ছিল হাসান মাহমুদের। প্রথম ইনিংসেই ছয় উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে ধস নামানো এই পেসার ম্যাচে মোট শিকার করেন নয় উইকেট। স্বাভাবিকভাবেই ম্যান অব দ্য ম্যাচ হওয়াটা তাঁর কাছে হয়ে উঠেছে অস্ট্রেলিয়া সফরের অন্যতম সেরা মুহূর্ত।
বিসিবির এক ভিডিওতে নিজের স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে হাসান বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া সিরিজে আমার অন্যতম সেরা স্মৃতি হবে ডারউইনে ম্যাচ জিতে ম্যান অব দ্যা ম্যাচ হওয়া। পাশাপাশি ৫ উইকেট। এটা আমার জীবনের অন্যতম সেরা স্মৃতি হয়ে থাকবে।’
ডারউইনের সেই পারফরম্যান্সের সঙ্গে অবশ্য জড়িয়ে আছে মজার একটি অভিজ্ঞতাও। ম্যান অব দ্য ম্যাচ হওয়ার পর প্রাইজমানি না থাকায় খানিকটা অবাক হয়েছিলেন হাসান। তবে অর্থ পুরস্কারের চেয়ে দলের জয় এবং নিজের স্বীকৃতিকেই বড় করে দেখছেন তিনি।
হাসানের ভাষায়, ‘আসলে আমি আশ্চর্য হয়েছিলাম, ম্যান অব দ্যা ম্যাচের কোনো প্রাইজমানি নাই। সমস্যা নাই। ম্যান অব দ্যা ম্যাচ হওয়াটাই আমার কাছে বড়। পুরো বাংলাদেশ সাক্ষী হয়ে থাকবে। এটা আমার জীবনের স্মরণীয় দিন।’
সিরিজের আরেকটি স্মরণীয় গল্পের কেন্দ্রে অবশ্য ছিলেন এমন একজন, যিনি কোনো ম্যাচেই মাঠে নামার সুযোগ পাননি। তরুণ ক্রিকেটার অমিত হাসান ছিলেন দলের সবচেয়ে কনিষ্ঠ সদস্যদের একজন। কিন্তু সিরিজ শেষে ট্রফি হাতে নেওয়ার মুহূর্তে সতীর্থরা সেটি তার হাতে তুলে দিতে চাওয়ায় আলাদা এক অনুভূতি তৈরি হয় তার মধ্যে।
অমিতের কাছে তাই মাঠে নামতে না পারার আক্ষেপকে ছাপিয়ে গেছে দলের কাছ থেকে পাওয়া সেই ভালোবাসা। তিনি বলেন, ‘এই সিরিজে অনেক স্মৃতিই থাকবে। তার মধ্যে যখন ট্রফি দেওয়া হচ্ছিল, সবাই বলছিল অমিতের হাতে দেও। এটার কারণ আমার মনে হয়েছে, দলে আমিই সবচেয়ে জুনিয়র। ঐ হিসেবে আমার কাছে যখন ট্রফি দিতে চাচ্ছিলেন আমার অনেক ভালো লেগেছে। এটাই আমার সেরা স্মৃতি।’
অন্যদিকে দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশ হারলেও শরিফুল ইসলামের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে ছিল বড় প্রাপ্তি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ উইকেটের দেখা পান এই বাঁহাতি পেসার। প্রথম টেস্টে একাদশে না থাকলেও দলের সঙ্গে থেকে ডারউইনের জয় দেখেছিলেন তিনি। সেই জয় তার কাছে ছিল অবিশ্বাস্য এক অনুভূতি।
শরিফুল বলেন, ‘প্রথম টেস্ট যদিও আমি খেলিনি তবে দলের সাথে ছিলাম। যখন ম্যাচটা জিততে পেরেছি অনেক ভালো লেগেছে। এটা অবিশ্বাস্য অনুভূতি, বলে বোঝানোর মতো না। মাউন্ট মঙ্গানুই, পাকিস্তানে যখন টেস্ট জিতলাম অনেকটা একই অনুভূতি ছিল।’
এরপর দ্বিতীয় টেস্টে নিজের স্বপ্নটাও পূরণ করেন শরিফুল। ম্যাচ শুরুর আগেই এমন কন্ডিশনে পাঁচ উইকেট পাওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। সতীর্থ ও কোচের কাছ থেকে পেয়েছিলেন সুনির্দিষ্ট পরামর্শ-লাইন ও লেংথ ঠিক রেখে বোলিং করে যেতে হবে। শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনাই এনে দেয় কাঙ্ক্ষিত সাফল্য।
শরিফুলের ভাষায়, ‘দ্বিতীয় টেস্টে যখন ৫ উইকেট পাই তখন আরও বেশি ভালো লেগেছে। খেলার আগেই আমি সুমন স্যার ও শান্ত ভাইকে বলেছি, এরকম কন্ডিশনে ড্রিম থাকে ৫ উইকেট নেওয়ার। আল্লাহ যদি কপালে রাখে হতেও পারে। তারা বললেন লাইন লেন্থ মেইনটেইন করবি। এটা চেষ্টা করেই আলহামদুলিল্লাহ সফল হয়েছি।’



