ভারতের বিপক্ষে এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে বাংলাদেশের ৪০ রানের হারের পেছনে মূল কারণ হিসেবে ব্যাটিং ব্যর্থতাকেই দেখছেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। তার মতে, বল হাতে বাংলাদেশ ভালোই করেছে, এমনকি একাধিক ক্যাচ মিসের পরও ফিল্ডিং ইউনিটের প্রশংসা করেছেন তিনি। জ্যোতির দাবি, ভারতকে ১৩০-১৩৫ রানের মধ্যে আটকে রাখা সম্ভব ছিল। সেটি করতে পারলে ব্যাটিং ইউনিটের সামনে ম্যাচের চিত্র ভিন্ন হতে পারত।
ভারতকে ১৪৯ রানে থামানো গেলেও বাংলাদেশের পরিকল্পনা ছিল আরও কম রানে প্রতিপক্ষকে আটকে রাখা। ম্যাচ শেষে জ্যোতি বলেন, ‘আমরা ওদের ১৩০ রানের মধ্যে আটকে রাখার কথা ভেবেছিলাম। গত কয়েক ম্যাচে যেভাবে বোলিং-ফিল্ডিং করেছি, তবে সেটা হয়নি। আমরা উইকেটও বিলিয়ে এসেছি। এতে রান তাড়া কঠিন হয়ে যায়।’
বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতার অভাব নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে অধিনায়ক বলেন, ‘এটা দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের বড় এক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ২ ম্যাচে যারা রান করেছে এবার তারা রান পায়নি। রানের এই অধারাবাহিকতাই আমাদের ভোগাচ্ছে।’
ব্যাটিং ব্যর্থতার বিপরীতে বোলারদের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট জ্যোতি, ‘বোলাররা গত ৩ ম্যাচে ভালো করেছে। আমরা ভুগছি ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণে। উইকেট অবশ্য একটু ধীর গতির ছিল। ব্যাট করার জন্য এত সহজ ছিল না।’
শুরুতেই স্মৃতি মান্ধানাকে ফিরিয়ে ভারতকে চাপে ফেলেছিল বাংলাদেশ। তবে সেই চাপ ধরে রাখতে পারেনি তারা। বিশেষ করে শেফালি ভার্মার ক্যাচ মিসকে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন জ্যোতি। তিনি বলেন, ‘স্মৃতি মান্ধানা না শুধু, আমরা ওদের সব ব্যাটারকে নিয়েই কথা বলেছি। তারা সুযোগ দিয়েছিল, আমরা কাজে লাগাতে পারিনি। দ্বিতীয় ওভারেই লং অনে ক্যাচ দিয়েছিল শেফালি ভার্মা। ঐ ক্যাচ ধরলে পুরো দৃশ্য অন্যরকম হতে পারত। তবে যেভাবে মেয়েরা লড়াই করেছে, আমি খুশি।’
একাধিক ক্যাচ মিসের পরও দলের ফিল্ডিং নিয়ে অধিনায়কের মূল্যায়ন ইতিবাচক। জ্যোতি বলেন, ‘আমরা ভালো ফিল্ডিংই করেছি। এই বিভাগেই বাকি দুই বিভাগের চেয়ে ভালো করেছি। বোলাররা ভালোই তো করছে। ভারত অনেক ভালো ব্যাটিংও করছিল। শেষদিকে অনেক রান তুলেছে।’
ভারতের ইনিংসের মাঝের অংশে বাংলাদেশ ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে ছিল বলেও মনে করেন জ্যোতি। স্পিনারদের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘মাঝখানে আমরা ঠিকই নিয়ন্ত্রণ রেখেছিলাম। স্পিনাররা পরিকল্পনা অনুযায়ী বল করেছে। ১৩০-১৩৫ রানেই ওদের আটকে রাখা যেত, তাহলে ব্যাটিং ইউনিটের সামনে ভিন্ন দৃশ্যপট থাকত।’
জ্যোতির বক্তব্যে স্পষ্ট, ভারতের কাছে সেমিফাইনালে হারের জন্য বোলিং বা ফিল্ডিংকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে চান না তিনি। বরং দীর্ঘদিনের ব্যাটিং অধারাবাহিকতাকেই দলের বড় সমস্যা হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তার মতে, বোলাররা প্রতিপক্ষকে নিয়ন্ত্রণে রাখার সুযোগ তৈরি করলেও ব্যাটিং ইউনিট সেটিকে কাজে লাগাতে পারেনি। ফলে ১৩০-১৩৫ রানের সম্ভাব্য লক্ষ্যের বদলে বড় লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ।



