বাংলাদেশের পেস আক্রমণের অন্যতম সম্ভাবনাময় মুখ নাহিদ রানাকে নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার ইয়ান বিশপ। তার বিশ্বাস, তরুণ এই পেসার একদিন বিশ্ব ক্রিকেটের সুপারস্টার হয়ে উঠতে পারেন। তবে সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে রানার চোট ব্যবস্থাপনা ও শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখার দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।
চলমান বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট সিরিজে ধারাভাষ্য দিতে বাংলাদেশে এসেছেন বিশপ। মিরপুরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নাহিদকে নিয়ে নিজের প্রত্যাশার কথা জানান ক্যারিবীয় এই ক্রিকেট বিশ্লেষক।
রানার দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘দুঃখজনক শব্দটি সঠিক নয়। রানার জন্য এটা দুর্ভাগ্যজনক। কারণ, আমি বিশ্বাস করি নাহিদ বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সম্ভাব্য সুপারস্টার। আপনি যখন বিশ্বের দিকে তাকান এবং তরুণ ফাস্ট বোলারদের উঠে আসতে দেখেন, সেখানে নাহিদ সম্ভবত অনেকের চেয়ে দ্রুততম বা তাদের সমকক্ষ। তার বয়স এখন শুরুর ২০-এর দিকে। কত বয়স? ২৩? হ্যাঁ ২৩ বা হয়তো ২২।’
২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন নাহিদ। এখন পর্যন্ত পাঁচবার ইনিংসে পাঁচ বা তার বেশি উইকেট নিয়েছেন তিনি, যার চারবারই চলতি বছরে। গত জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২১ রানে ৬ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড গড়েন এই পেসার। তবে চোটের কারণে সেই সিরিজের পর থেকে আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মাঠে নামা হয়নি তার।
নাহিদকে নিয়ে বিশপের প্রত্যাশা ছিল অস্ট্রেলিয়ার বাউন্সি উইকেটেও তাকে দেখার। গত আগস্টে অস্ট্রেলিয়া সফরে বাংলাদেশের টেস্ট সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ হলেও নাহিদকে সেখানে পাওয়া যায়নি। ডারউইনে প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক নয় উইকেটের জয়ে হাসান মাহমুদ ৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন। সেই সিরিজে নাহিদের অনুপস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে বিশপ বলেন, ‘আমি অস্ট্রেলিয়ায় বাউন্সি পিচে তাকে দেখার প্রত্যাশায় ছিলাম। যখন সেটা হলো না, তখন আমি হতাশ হয়েছিলাম। কিন্তু তার স্বাস্থ্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাই তাকে খুব দ্রুত ফেরানো যাবে না। কারণ, আপনি গতি কিনতে পারবেন না। বিশ্বের প্রতিটি দলই একজন নাহিদ রানাকে খুঁজছে। তাকে ফিট রাখুন।’
রানার ফিটনেস ও চোট ব্যবস্থাপনায় অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের উদাহরণ টেনেছেন বিশপ। তার মতে, বাংলাদেশের মেডিকেল ও স্ট্রেংথ-কন্ডিশনিং দলকে নাহিদের শারীরিক সক্ষমতা বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে। তিনি বলেন, ‘রানার এসএনসির (স্ট্রেংথ-কন্ডিশনিং) ব্যাপারে খুব সতর্ক থাকতে হবে। রানাকে যতটা সম্ভব বুলেটপ্রুফে করার দায়িত্ব নিতে হবে আপনাদের মেডিকেল টিমের। যেমনটা অস্ট্রেলিয়া করেছে। অজিরা তাদের খেলোয়াড়দের চিকিৎসাগত দিক ভালোভাবে সামলায়। যেমন মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্সের চোট সামলানো, জশ হ্যাজলউড। কারণ, তারা ৩৩, ৩৫, ৩৬, ৩৭ বছর বয়সেও ভালো খেলছে। স্কট বোল্যান্ডের কথাও বলতে পারেন।’
চোটের কারণে জিম্বাবুয়ে সফরের পর আর মাঠে ফিরতে পারেননি নাহিদ। বাংলাদেশের সবশেষ আমিরাত সফরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট দলেও জায়গা হয়নি তাঁর। জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজেও খেলতে পারেননি ২৪ বছর বয়সী এই পেসার। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের দলেও নেই তিনি। নাহিদকে দ্রুত ফেরানোর চেয়ে পুরোপুরি ফিট করে দীর্ঘ সময়ের জন্য পাওয়াকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশপ।
নাহিদকে নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি বাংলাদেশের সাবেক ক্রিকেটারদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর বিষয়েও নিজের মত জানিয়েছেন বিশপ। সাকিব আল হাসানকে কোচ বা মেন্টর হিসেবে কাজে লাগানো যায় কি না, এমন প্রশ্নে সরাসরি মন্তব্য করতে চাননি তিনি। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের জার্সিতে সর্বশেষ খেলেছেন সাকিব। এরপর রাজনৈতিকসহ নানা কারণে দেশে ফিরতে পারেননি এই অলরাউন্ডার।
সাকিব প্রসঙ্গে বিশপ বলেন, ‘সাকিব কেন এখানে নেই, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানার মতো অবস্থানে আমি নেই। সংবাদমাধ্যমে যা পড়েছি, তার বাইরে বিষয়টির জটিলতা সম্পর্কে আমার জানা নেই। তাই এ নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না।’
তবে সাবেক তারকাদের অভিজ্ঞতা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পক্ষে বিশপ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘ক্যারিবীয় অঞ্চলে ব্রায়ান লারা, কার্টলি অ্যামব্রোস, মাইকেল হোল্ডিং, জোয়েল গার্নার ও গর্ডন গ্রিনিজের মতো কিংবদন্তি ক্রিকেটার রয়েছেন। ক্যারিবীয় ক্রিকেট যদি পোলার্ড, ব্রাভো কিংবা ড্যারেন স্যামির মতো ক্রিকেটারদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে, তাহলে আমাদের ক্রিকেট আরও সমৃদ্ধ হবে। তারা জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন, আবার স্কুলপর্যায়ের শিশুদেরও শেখাতে পারেন। এর মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ের ক্রিকেটব্যবস্থাও শক্তিশালী হবে।’



