ব্যক্তিগত অর্জনের আনন্দের চেয়ে দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ই বেশি পোড়াচ্ছে সাদমান ইসলামকে। মিরপুর টেস্টে ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেওয়ার পরও তৃপ্ত নন বাংলাদেশের এই ওপেনার। তার আক্ষেপ, ইনিংসটা আরও বড় করতে পারলে দলের সংগ্রহ পৌঁছাতে পারত চার শ কিংবা পাঁচ শ রানে। নিজের আউটের পরই বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে ধস নামায় দায়টাও নিচ্ছেন নিজের কাঁধে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিনে আজ ১০৫ রানে থামে সাদমানের ইনিংস। আগের দিন ৯৯ রানে অপরাজিত থাকা এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান দিনের শুরুতেই পূর্ণ করেন সেঞ্চুরি। আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এটিই তার প্রথম শতক। এর আগে ক্যারিয়ারের দুটি সেঞ্চুরিই করেছিলেন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে, যারা টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ নয়।
তবে সাদমানের ব্যক্তিগত অর্জন শেষ পর্যন্ত ঢাকা পড়ে যায় বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়ে। চার শ রানের আশায় দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করা দল তাঁর বিদায়ের পর দ্রুত হারায় বাকি সাত উইকেট। শেষ সাত উইকেটের পতন ঘটে মাত্র ৫১ রানের মধ্যে। ২৭২ রানে অলআউট হয়ে যাওয়ার পর তাই নিজের ইনিংস আরও বড় করতে না পারার আক্ষেপই বেশি সাদমানের কণ্ঠে।
দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে সাদমান বলেন, ‘আমরা টপ অর্ডাররা যদি এই স্কোরটা আরেকটু বড়-১৫০, ১৭০ বা ২০০ করতে পারতাম, তাহলে হয়তো দলের রান সাড়ে চার শ বা পাঁচ শ থাকত, আমাদের ভুল হয়ে গেছে। এরপর যখন এমন পরিস্থিতি আসবে, চেষ্টা থাকবে যত বড় করা যায়।’
সাদমানের এই আক্ষেপ অবশ্য নতুন নয়। ভালো শুরু পেয়েও ইনিংস বড় করতে না পারার সমস্যা তাকে ভুগিয়েছে বেশ কিছুদিন ধরেই। এবারের সেঞ্চুরির আগে টেস্টে তার শেষ শতকের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে ১৭ ইনিংস। গত তিন বছরে টেস্টে বাংলাদেশের ওপেনারদের মধ্যে রান সংগ্রহে সপ্তম স্থানে থাকলেও এই সময়ে আটটি অর্ধশতকের বিপরীতে সেঞ্চুরি ছিল মাত্র একটি।
এই ধারাবাহিকতাকে বদলাতে নিজের ব্যাটিং ও ফিটনেস নিয়ে কাজ করেছেন সাদমান। কেন নির্দিষ্ট একটি পর্যায়ে গিয়ে উইকেট হারাচ্ছেন, তা নিয়ে নিজেও ভেবেছেন। মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে সে অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সব সময় চিন্তা করতাম, কেন একটা নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে আউট হয়ে যাচ্ছি। কিছুদিন ধরে এটা নিয়ে অনেক কাজ করেছি। আমার মনে হচ্ছিল, ফিটনেসের সমস্যা হতে পারে। তাই ফিটনেস নিয়ে ভালোভাবে কাজ করেছি। আবার ব্যাটিংয়েও হয়তো কিছু ঘাটতি ছিল।’
বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে উদ্বোধনী জুটি দীর্ঘদিন ধরেই দুশ্চিন্তার কারণ। গত চার বছরে টেস্টে একবারই শতরানের উদ্বোধনী জুটি পেয়েছে দল। ২০২২ সালে ভারতের বিপক্ষে সেই জুটি গড়েছিলেন জাকির হাসান ও নাজমুল হোসেন। ওপেনিংয়ে ভালো শুরুকে বড় সংগ্রহে রূপ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তাই ভালোভাবেই বুঝতে পারছেন সাদমান।
এ বিষয়ে তার বক্তব্য, ‘আমরা এখন অনেক আলোচনা করি, কীভাবে ওপেনিংয়ে একটা ভালো জুটি গড়ে তোলা যায়, যেন দলের রানটা বড় হয় এবং আমরা ভালো একটা অবস্থানে যেতে পারি।’
ব্যাটিংয়ে হতাশার দিনেও ম্যাচে ফেরার সুযোগ দেখছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে স্বাগতিকদের ২৭২ রানের জবাবে দ্বিতীয় দিন শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৩৪ রান। হাতে ছয় উইকেট থাকলেও বাংলাদেশের চেয়ে এখনো ১৩৮ রানে পিছিয়ে ক্যারিবীয়রা। দিনের শেষ দিকে স্পিনারদের নৈপুণ্যে ম্যাচে ফিরেছে বাংলাদেশ। মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলামের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে আরও দ্রুত উইকেট তুলে নেওয়ার প্রত্যাশা সাদমানের।
তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওপেনার জন ক্যাম্পবেল মনে করছেন, বড় জুটি গড়তে পারলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবেন তারা, ‘আমার মনে হচ্ছে, ম্যাচটা বেশ সমানে সমান অবস্থায় আছে। আমরা যদি আরও এক-দুটি বড় জুটি গড়তে পারি, তাহলে আগামীকাল (আজ) ম্যাচে এগিয়ে থাকব।’



