বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) আদলে নতুন টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তিন সংস্করণের নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট ‘ডি-থ্রি ট্রফি’র ছয় দলের আইকন ক্রিকেটার নির্বাচন ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তবে আইকন তালিকায় জায়গা হয়নি জাতীয় দলের দুই অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাস এবং তিন পেসার নাহিদ রানা, তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমানের।
ছয় দলের আইকন ক্রিকেটার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ, তাওহীদ হৃদয়, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, নুরুল হাসান সোহান, মুশফিকুর রহিম ও নাঈম শেখ। আইকন ড্রাফটে প্রথমে ডাকের সুযোগ পায় ওয়ালটন গ্রুপ। তারা মেহেদী হাসান মিরাজকে দলে নেয়। এরপর ফরচুন গ্রুপ তাদের আইকন হিসেবে তাওহীদ হৃদয়কে বেছে নেয়। পর্যায়ক্রমে বাকি ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো মোসাদ্দেক হোসেন, নুরুল হাসান, মুশফিকুর রহিম ও নাঈম শেখকে দলে নেয়।
আইকন ক্রিকেটার বাছাইয়ের এই তালিকা নিয়ে নিজের মতামত জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। তাঁর মতে, মুস্তাফিজুর রহমান আইকন হিসেবে নির্বাচিত হলে টুর্নামেন্টের জন্য সেটি ইতিবাচক হতো।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের তামিম বলেন, ‘আপনাদের কিছু পয়েন্টের সঙ্গে আমি একমত। তবে একটা কথা বলতে চাই, মুস্তাফিজ যদি আইকন হিসেবে নির্বাচিত হতো, সেটা অবশ্যই টুর্নামেন্টের জন্য ভালো হতো।’
নাহিদ রানা, তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমানের মতো পেসারদের আইকন হিসেবে না নেওয়ার সম্ভাব্য কারণও ব্যাখ্যা করেছেন বিসিবি সভাপতি। তাঁর ধারণা, যেসব ক্রিকেটারকে পুরো টুর্নামেন্টে বেশি সময় পাওয়া যাবে, ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো হয়তো তাদেরই আইকন হিসেবে বেছে নিয়েছে। এতে নিলামে অন্য ক্রিকেটারদের দামও বাড়তে পারে বলে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো বিবেচনা করে থাকতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
তামিম বলেন, ‘হয়তো ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো ভেবেছে, যাদের পুরো সময় বেশি পাওয়া যাবে, তাদের নিলে নিলামে অন্য খেলোয়াড়দের দাম আরও বাড়তে পারে। আবার মুস্তাফিজদের মতো কিছু খেলোয়াড়কে কম পাওয়া যাবে, সেই ভাবনা থেকেই হয়তো তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয়, নাহিদ রানা, তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান আইকন হলে টুর্নামেন্টের জন্য ভালো হতো।’
ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর খেলোয়াড় নির্বাচনের সিদ্ধান্তে বিসিবির সরাসরি হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই বলেও জানিয়েছেন তামিম। তাঁর ভাষ্য, দলগুলো মালিকদের হাতে দেওয়ার পর নিজেদের নির্বাচক ও থিংক ট্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর।
এ প্রসঙ্গে বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘দেখুন, দলগুলো যখন মালিকদের কাছে দেওয়া হয়েছে, তখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্বও তাদের। প্রতিটি দলের নিজস্ব নির্বাচক আছে, আমরাও প্রতিটি দলে একজন করে নির্বাচক দিয়েছি। তারা নিজেদের থিংক ট্যাংক নিয়ে আলোচনা করে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আমার অবস্থান থেকে সেটাকে সম্মান করতেই হবে।’
তবে আইকন তালিকায় জায়গা না পাওয়া বড় তারকারা ডি-থ্রি ট্রফিতে থাকবেন বলে জানিয়েছেন তামিম। টুর্নামেন্টের প্রচারণায়ও তাদের ভূমিকা থাকবে বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, কোন ক্রিকেটার কোন দলের আইকন-এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তারা টুর্নামেন্টের অংশ হিসেবে মাঠে থাকবেন।
তামিম বলেন, ‘প্রচারণার দিক থেকে দেখলে, আমরা সবাই জানি তারা এই টুর্নামেন্টেরই অংশ থাকবে। কোনো না কোনো দলে তারা খেলবেই। বিসিবির পক্ষ থেকে, খেলোয়াড়দের পক্ষ থেকেও, এই টুর্নামেন্টকে যতোটা প্রচার করা দরকার, আমরা সেটাই করবো।কে কোন দলে আছে, সেটা এখানে বড় বিষয় নয়।’
এদিকে বাকি ক্রিকেটারদের দলে নেওয়া ড্রাফট নাকি নিলামের মাধ্যমে হবে, সেটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন তামিম। তবে জাতীয় দলের পেস বোলিং ইউনিটের তারকা ক্রিকেটারদের দল পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী তিনি। নিলাম হলে তাদের চড়া দামে বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছেন বিসিবি সভাপতি।
তামিম বলেন, ‘ড্রাফট নাকি অকশন এটা এখনও নিশ্চিত না। আমি নিশ্চিত আমাদের যারা সুপারস্টার পেস বোলিং ইউনিট, তারা দল পাবে। যদি অকশন হয়, তাহলে চড়া দাম পাবে।’
তবে নিলামে বেশি দাম পেলেই ক্রিকেটারদের আর্থিক সুবিধা সরাসরি খুব বেশি বাড়বে না বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, খেলোয়াড়রা মূলত ম্যাচ ফি পাবেন। পাশাপাশি টুর্নামেন্টে আর্থিক ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়েছে বলে জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটাররা খেলতে আগ্রহী হবেন বলে আশা করছেন তিনি।
তামিম আরও বলেন, ‘অকশনে বেশি দাম পেলেও তাদের (ক্রিকেটারদের) খুব বেশি লাভ হবে না। কারণ খেলোয়াড়রা শুধু ম্যাচ ফি পাবে। আর্থিকভাবে, সুযোগ-সুবিধার দিক থেকে এত কিছু বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি নিশ্চিত জাতীয় দলের বড় বড় তারকারাও খেলার জন্য আগ্রহী হবে।’



