এক ম্যাচে নিঃশ্বাস ফেলারও সুযোগ নেই, আর তিন ম্যাচে শেষ দিনের আগে কিছুই নিশ্চিত নয়। জাতীয় ক্রিকেট লিগের প্রথম রাউন্ডের তৃতীয় দিনটা যেন চার ম্যাচে চার রকম গল্প লিখে গেল। খুলনার কাছে ইনিংস ও ১৩৫ রানে হেরে তিন দিনেই শেষ বরিশালের লড়াই। মিরপুরে তাইবুর রহমানের সেঞ্চুরির পর তিন টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানকে শূন্য রানে ফিরিয়ে রংপুরকে চাপে ফেলেছে ঢাকা। সিলেটে সেঞ্চুরির অপেক্ষায় মাহফিজুল ইসলাম, আর চট্টগ্রামে রাজশাহীর বিপক্ষে জমে উঠেছে শেষ দিনের সমীকরণ।
বরিশালের জন্য শুরুটা খারাপ ছিল, শেষটাও হলো বড় হতাশায়। খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়ামে প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রান করার পর বরিশালকে মাত্র ৯৪ রানে গুটিয়ে দিয়েছিল খুলনা। ৩৩২ রানের বিশাল লিড নিয়ে ফলোঅন করানোর পরও স্বস্তি ফেরেনি বরিশালের ড্রেসিংরুমে।
দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য কিছুটা লড়াই করেছে বরিশাল। হাফিজুর রহমান একাই প্রায় টেনে নিয়ে গেছেন দলকে। ১৪৫ বলে ৯১ রানের ইনিংসে ছিল ৭ চার ও ১ ছক্কা। রাফসান আল মাহমুদ করেন ৪৩। কিন্তু লড়াইটা শেষ পর্যন্ত ইনিংস হার ঠেকানোর জন্য যথেষ্ট হয়নি। ১৯৭ রানে থামে বরিশালের দ্বিতীয় ইনিংস। খুলনার পেসার সফর আলী নেন ৪ উইকেট, শেখ পারভেজ ৩টি। ফল—ইনিংস ও ১৩৫ রানের জয় খুলনার।
মিরপুরে গল্পটা একেবারেই উল্টো। প্রথম ইনিংসে পিছিয়ে থেকেও ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে ঢাকা। ৬ উইকেটে ১২০ রান নিয়ে তৃতীয় দিন শুরু করা দলটিকে টেনে তোলেন তাইবুর রহমান ও সুমন খান। তাইবুরের ব্যাট থেকে আসে ঝকঝকে ১০৮, সুমন থামেন ৯৪ রানে। ঢাকার ইনিংস শেষ হয় ২৮৪ রানে।
তাইবুরের সেঞ্চুরিতে আছে আরেকটি মাইলফলকের ছোঁয়া। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৫ হাজার রান পূর্ণ করেছেন তিনি। তবে দিনের শেষ দৃশ্যটা ঢাকার জন্য আরও আনন্দের। ব্যাট হাতে রংপুরের প্রথম ইনিংসের লিড পুরোপুরি মুছে ফেলতে না পারলেও বল হাতে তাদের টপ অর্ডারকে তছনছ করে দিয়েছে ঢাকা।
দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৬.১ ওভারে ৬ রান তুলতেই ৩ উইকেট হারিয়েছে রংপুর। অনিক সরকার, মিম মোসাদ্দেক ও আবদুল্লাহ আল মামুন-তিনজনই ফিরেছেন কোনো রান না করেই। প্রথম ইনিংসে ৫৬ রানের লিড থাকায় রংপুর এখনো ৬২ রানে এগিয়ে, কিন্তু দিনের শেষে সেই লিডের চেয়ে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে তাদের টপ অর্ডারের ধস। শেষ দিনে ম্যাচ কোন দিকে যাবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
সিলেটে আবার অপেক্ষা মাহফিজুল ইসলামের ব্যাটে। প্রথম ইনিংসে ৭০ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে সেঞ্চুরির খুব কাছে চলে গেছেন ময়মনসিংহের ওপেনার। তৃতীয় দিন শেষে তার সংগ্রহ ৮৬, অপরাজিত।
প্রথম ইনিংসে ময়মনসিংহের ৩১১ রানের জবাবে সিলেট করেছিল ৩২৭। ১৬ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে নেমে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ময়মনসিংহ। মাহফিজুল ও খালিদ হাসানের উদ্বোধনী জুটিতে আসে ১৪৮ রান। ৫৭ রানে খালিদ ফিরলেও মাহফিজুল এখনো ক্রিজে। দিন শেষে ময়মনসিংহের লিড ১৩২। শেষ দিনে তাদের লক্ষ্য শুধু লিড বড় করা নয়, মাহফিজুলের ব্যাটে সেঞ্চুরি দেখাও।
চট্টগ্রামে আবার লড়াইটা আরও সূক্ষ্ম। রাজশাহীর ৩৬৪ রানের জবাবে চট্টগ্রাম করেছে ৩৯৩। মাহমুদুল হাসানের পর সেঞ্চুরি পেয়েছেন আরেক ওপেনার সাদিকুর রহমান। মাহমুদুলের ব্যাট থেকে আসে ১০৫, সাদিকুর করেন ১১৫। তাসামুল হকের ফিফটি ও ইরফান শুক্কুরের ৮৬ রানের ওপর ভর করে ২৯ রানের লিড নেয় স্বাগতিকেরা।
কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে দ্রুত দুই উইকেট হারিয়েও রাজশাহী ম্যাচটা হাতছাড়া হতে দেয়নি। নাঈম আহমেদের ৩০ এবং প্রিতম কুমারের অপরাজিত ৯ রানে দিন শেষে তাদের লিড দাঁড়িয়েছে ১৭। অর্থাৎ শেষ দিনে চট্টগ্রামের সামনে জয়ের সুযোগ যেমন আছে, তেমনি রাজশাহীরও ম্যাচ নিজেদের দিকে নেওয়ার রাস্তা খোলা।



