তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেটে এবার নিয়মের বেড়াজাল আরও শক্ত করছে ঢাকা মহানগর ক্রিকেট কমিটি (সিসিডিএম)। বয়সসীমা কমিয়ে সর্বোচ্চ ২৫ বছর নির্ধারণের পাশাপাশি ম্যাচ পাতানোসহ যেকোনো অনিয়ম ঠেকাতে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। এমনকি টুর্নামেন্টে প্রভাবশালী কারও প্রভাব খাটানোরও সুযোগ দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট করেছেন সিসিডিএম চেয়ারম্যান মঈনউদ্দিন চৌধুরী।
শনিবার মিরপুর শেরে-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে ঢাকা তৃতীয় বিভাগ কোয়ালিফায়ার টুর্নামেন্ট। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেটের নতুন বয়সনীতির কথা জানান সিসিডিএম চেয়ারম্যান।
মঈনউদ্দিন বলেন, ‘আমাদের যারা এখন আছে, এটা একদম সর্বোচ্চ সীমা ২৫ (বছর) করে দিয়েছি। ২৫ বছর বয়সের বেশি একজনও খেলতে পারছে না এখানে।’
তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেটে বয়সসীমা নির্ধারণের পাশাপাশি প্রতিযোগিতাটিকে অনিয়মমুক্ত রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। অতীতে ম্যাচ পাতানোসহ নানা অভিযোগ ওঠায় এবার আম্পায়ার থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার কথা বলেছে সিসিডিএম।
মঈনউদ্দিন বলেন, ‘সব ধরনের প্রোটেকশন আমরা নিয়েছি। আপনারা নিজেরাই ওই খেলাগুলো দেখতে যাবেন। নিজেরা গিয়ে দেখবেন। আমরা কীভাবে প্রোটেকশন নিয়েছি, আপনারা ওখানে গেলে দেখতে পারবেন। আম্পায়ারদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। প্রতিটা ডিপার্টমেন্ট, যে ডিপার্টমেন্টগুলোর সঙ্গে এই খেলা জড়িত, তাদের সবার সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। তারা সবাই সিরিয়াস যে এ ব্যাপারে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আম্পায়াররাও খুবই সিরিয়াস।’
শুধু মাঠের অনিয়ম নয়, বাইরে থেকে কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টাও বরদাশত করা হবে না বলে জানিয়েছেন সিসিডিএম চেয়ারম্যান। এ বিষয়ে তার বক্তব্য, ‘এখানে কোনো রকমের কারও ইনফ্লুয়েন্স, কোনো বড় বড় লোকের কোনো ইনফ্লুয়েন্স হবে-এরকম কোনো সুযোগ নেই এই খেলায়। কোনো সুযোগ দেব না আমরা, ইনশাআল্লাহ। ১০০ পারসেন্ট ফেয়ারলি খেলা হবে।’
এদিকে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে কয়েকটি ক্লাবের ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক না পাওয়ার অভিযোগ নিয়েও কথা বলেছেন মঈনউদ্দিন। এ ক্ষেত্রে সিসিডিএমের এখতিয়ার সীমিত বলে জানিয়েছেন তিনি, ‘সিসিডিএম হলো খেলাটাকে অর্গানাইজ করার জন্য। প্রিমিয়ার ডিভিশন, ফার্স্ট ডিভিশন, সেকেন্ড ডিভিশন-এগুলো আমরা অর্গানাইজ করি। এখন কোন ক্লাব টাকা দেয়নি, সেটার ব্যাপারে আমাদের কাছে অবজেকশন আসলে আমরা ক্লাবগুলোকে রিকোয়েস্ট করতে পারি এবং ওয়ার্ন করতে পারি যে আপনারা আপনাদের প্লেয়ারদের টাকা দেন। কিন্তু আমরা এর বেশি তো কোনো কিছু করতে পারি না, কারণ ক্লাবের অধীনে ওরা খেলছে।’



