আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দীর্ঘদিন ধরেই অনিয়মিত নাজমুল হোসেন শান্ত। সবশেষ গত বছরের মে মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে খেলেছিলেন তিনি। এরপর জাতীয় দলের টি-টোয়েন্টি দলে আর দেখা যায়নি বাংলাদেশের এই বাঁহাতি ব্যাটারকে। এবার এশিয়ান গেমস দিয়ে ১৬ মাস পর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ফিরছেন শান্ত। সংক্ষিপ্ত সংস্করণে জায়গা পাকা করার লক্ষ্য নিয়েই ফিরছেন তিনি।
২০১৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ৫০ ম্যাচ খেলে শান্তর রান ৯৮৭। একসময় এই সংস্করণে বাংলাদেশকে নেতৃত্বও দিয়েছেন তিনি। তবে ২০২৫ সালে লিটন দাস টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক হওয়ার পর দলে জায়গা হারান শান্ত। টি-টোয়েন্টির চাহিদা অনুযায়ী ব্যাটিং করতে না পারায় বাদ পড়েন তিনি। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ছয় বছরের ক্যারিয়ারে শান্তর স্ট্রাইকরেট ১০৯.০৬।
এশিয়ান গেমসে এবার টি-টোয়েন্টি সংস্করণে খেলবে বাংলাদেশ। লিটনের নেতৃত্বাধীন দলে ফিরেছেন শান্তও। দীর্ঘ বিরতির পর এই সংস্করণে ফিরতে পেরে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত তিনি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ভিডিও বার্তায় শান্ত বলেন, ‘অনেক দিন পরে এই সংস্করণে আবার ফিরে আসা অবশ্যই ভাল লাগার একটা বিষয়। আমি বিশ্বাস করি যে এই সংস্করণে দলের যে চাহিদা থাকবে, সেই অনুযায়ী পারফর্ম করার চেষ্টা করব। এশিয়ান গেমস অনেক বড় একটা প্ল্যাটফর্ম আমি মনে করি।’
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে প্রত্যাশামতো পারফর্ম করতে না পারলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে এই সংস্করণে শান্তর রেকর্ড বেশ ভালো। ২০২৬ বিপিএলে তাঁর নেতৃত্বে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। টুর্নামেন্টে ২৯.৫৮ গড় ও ১৩৫.৪৯ স্ট্রাইকরেটে ৩৫৫ রান করেছেন তিনি। একটি সেঞ্চুরির পাশাপাশি করেছেন একটি ফিফটিও।
তবে এশিয়ান গেমসে ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে দলীয় অর্জনকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন শান্ত। তার লক্ষ্য বাংলাদেশের হয়ে সোনা জয়। বিসিবির ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগত কোনো লক্ষ্য নাই। সত্যি বলতে আমার মতে দল হিসেবে ভালো ফল করাই প্রধান লক্ষ্য থাকবে। অবশ্যই চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো সোনা জেতা। ভালো ক্রিকেট খেলে যদি আমরা লক্ষ্য অর্জন করতে পারি, এটাও সবচেয়ে বড় প্রাপ্তির জায়গা হবে।’
এশিয়ান গেমসের এবারের ক্রিকেটে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী দল অংশ নিচ্ছে। বাংলাদেশের দলে লিটনের পাশাপাশি আছেন শান্ত, তানজিদ হাসান তামিমরা। পেস বোলিংয়ে রয়েছেন শরীফুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান ও হাসান মাহমুদ। তাঁদের সঙ্গে পেস বোলিং অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনও আছেন।
ভারত শ্রেয়াস আইয়ারকে অধিনায়ক করে দল দিয়েছে। তাদের দলে ২০২৬ সালে আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছে শুধু বৈভব সূর্যবংশীর। পাকিস্তানের দলে থাকা আলী রাজার আবার এখনো আন্তর্জাতিক অভিষেকই হয়নি। এমনকি তিন ক্রিকেটারের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে কোনো ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতাও নেই। ফলে এবারের এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে বলেই মনে করছেন শান্ত।
তিনি বলেন, ‘এশিয়ার মধ্যে যে দলগুলো আছে, এখানে খেলতে পারা, এখানে পারফর্ম করা, এখানে দেশের হয়ে খেলা- এটা অনেক বড় একটা ব্যাপার। আমি মনে করি এখানে যদি দল হিসেবে বাংলাদেশকে একটা ভালো কিছু এনে দিতে পারি, এটা আমাদের বাংলাদেশ ক্রিকেট এবং বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় একটা অর্জন হবে।’
টেস্ট ক্রিকেটেও শান্তর নেতৃত্বে সাম্প্রতিক সময়ে ভালো সময় কাটাচ্ছে বাংলাদেশ। মে মাসে পাকিস্তানকে ধবলধোলাই করার পর অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৩ বছর পর টেস্ট সিরিজ খেলতে গিয়ে ১-১ সমতায় সিরিজ ড্র করেছে শান্তর নেতৃত্বাধীন দল।
নিসশিনের কোরোগি স্পোর্টস পার্কে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত হবে এশিয়ান গেমসের ছেলেদের ক্রিকেট। ‘এ’ গ্রুপে রয়েছে জাপান, আফগানিস্তান ও নেপাল। ‘বি’ গ্রুপে হংকং, ওমান ও মালয়েশিয়া। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। ২৯ সেপ্টেম্বর মাঠে নামবে বাংলাদেশ। তবে কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ নির্ধারিত হবে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ শেষে।
ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম এশিয়ান গেমসের সোনা এসেছিল ২০১০ সালে। সেবার আফগানিস্তানকে হারিয়ে স্বর্ণপদক জিতেছিল বাংলাদেশ। ১৬ বছর পর লিটন-শান্তদের সামনে সেই সাফল্য পুনরুদ্ধারের সুযোগ।
এদিকে পরবর্তী বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) আসর মাঠে না গড়ালেও দেশের ক্রিকেটে এই ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন শান্ত। বিপিএলকে খেলোয়াড়দের জন্য বড় মঞ্চ হিসেবে দেখেন তিনি। কয়েক বছর ধরে টুর্নামেন্টটিতে খেলার অভিজ্ঞতা থেকে বিপিএল শুরুর আগে নিজের মধ্যে আলাদা রোমাঞ্চ কাজ করে বলেও জানিয়েছেন এই ব্যাটার।
বিপিএলের অফিসিয়াল পেইজে প্রকাশিত এক ভিডিওতে শান্ত বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে বিপিএলে অনেক বছর ধরেই খেলছি। প্রতিবছর যখনই শুনি বিপিএল শুরু হতে যাচ্ছে, তখনই একটি আলাদা রোমাঞ্চ কাজ করে। খেলোয়াড় হিসেবে আমাদের জন্য এটি অনেক বড় একটি মঞ্চ। সেখানে ভালো পারফর্ম করতে পারলে নিজের জন্য এবং ক্যারিয়ারের জন্য সবসময়ই ইতিবাচক কিছু হয়।’
শুধু ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের জন্য নয়, দেশের ক্রিকেটে তরুণ খেলোয়াড়দের উঠে আসার ক্ষেত্রেও বিপিএলের গুরুত্ব দেখেন শান্ত। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের জন্য বিপিএল অনেক বড় একটি টুর্নামেন্ট। প্রতিবছরই দেখা যায় বেশ কয়েকজন উদীয়মান তরুণ খেলোয়াড় এখানে খেলার সুযোগ পায়। তাই এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মঞ্চ।’
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দীর্ঘ বিরতির পর এশিয়ান গেমসের মাধ্যমে শান্তর সামনে তাই নতুন করে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ। ঘরোয়া টি-টোয়েন্টির সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ও নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে জাতীয় দলের সংক্ষিপ্ত সংস্করণে নিজের জায়গা পুনরুদ্ধার করাই এখন তাঁর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।



