অস্ট্রেলিয়া সফরে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য সম্মান অর্জন এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলা বলে জানিয়েছেন টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ প্রতিটি ম্যাচই জয়ের লক্ষ্য নিয়ে খেলবে। বৃহস্পতিবার মিরপুরে সিরিজ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই প্রশ্ন-উত্তর পর্ব শুরুর আগে সাংবাদিকদের উদ্দেশে উল্টো প্রশ্ন ছুড়ে দেন শান্ত। অস্ট্রেলিয়া সিরিজ নিয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রত্যাশা কী-এমন প্রশ্নের জবাবে একজন সাংবাদিক ‘ভালো খেলা’ বললে তিনি রসিকতা করে বলেন, ‘আমি এমন কথা বললে পছন্দ হতো?’ পরে আরেক সাংবাদিক প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশারের বক্তব্য তুলে ধরে বলেন, ‘সুমন ভাই (প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার) বলে গেছেন, সম্মান নিয়ে ফিরতে চান।’ এরপরই আনুষ্ঠানিক প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু হয়।
সিরিজ নিয়ে নিজের প্রত্যাশা জানাতে গিয়ে শান্ত বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য থাকবে কীভাবে আমরা ওখানে ভালো ক্রিকেট খেলে সম্মান অর্জন করতে পারি। ওখানে যদি আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলতে পারি, অবশ্যই তারা আবার ভবিষ্যতে (খেলার জন্য) আমন্ত্রণ জানাবে।’
তবে লক্ষ্য যে শুধু সম্মান অর্জন নয়, সেটিও স্পষ্ট করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। শান্ত বলেন, ‘প্রতিটা ম্যাচই জেতার জন্য খেলি। তবে আমরা কত ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি এবং ওদের কতটুকু কঠিন সময় দিতে পারি, এই জিনিসটা গুরুত্বপূর্ণ। যদি আমরা এমন দুইটা ম্যাচ খেলতে পারি, ভবিষ্যতে দেখা যাবে আরও বেশি বেশি টেস্ট ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছি।’
এই সিরিজের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের দীর্ঘ ২৩ বছরের টেস্ট-অপেক্ষার অবসান হচ্ছে। সর্বশেষ ২০০৩ সালে সেখানে টেস্ট খেলেছিল বাংলাদেশ। এরপর কয়েকটি প্রজন্মের ক্রিকেটার অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট না খেলেই ক্যারিয়ার শেষ করেছেন। এমনকি ২০ বছরের বেশি ক্যারিয়ার এবং শতাধিক টেস্ট খেলা মুশফিকুর রহিমও এখনো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলেননি।
এমন ঐতিহাসিক সফরে দলকে নেতৃত্ব দিতে পারাকে সৌভাগ্যের বলে মনে করছেন শান্ত। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, খুবই ভাগ্যবান অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে তাদের সঙ্গে টেস্ট খেলতে পারছি। গত ২৩ বছরে আমাদের আরও বেশি ম্যাচ খেলা উচিত ছিল, যদিও আমরা টেস্টে (এত দিন) ভালো ক্রিকেট খেলিনি।’
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক টেস্ট পারফরম্যান্সের কারণে দর্শকদের প্রত্যাশা বেড়েছে বলেও মনে করেন শান্ত। এটিকে ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন তিনি। তার ভাষায়, ‘একটা ভালো জিনিস যে আমাদের দর্শকেরা প্রতিটা সিরিজে অনেক প্রত্যাশা করে। তারা আশা করে আমরা প্রতিটা ম্যাচ জিতব, এটা একটা ইতিবাচক দিক। ২৩ বছর আগে হয়তো এই জিনিসটা ছিল না। আমি যদি অর্জনের কথা বলি তাহলে এটা একটা ভালো অর্জন যে এখন বাংলাদেশের মানুষ যেকোনো দলের বিপক্ষে জেতার কথা চিন্তা করে।’
সংবাদ সম্মেলনে নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক লিটন কুমার দাসকেও অভিনন্দন জানান শান্ত। তিনি বলেন, ‘লিটনকে অভিনন্দন। সে টি-টোয়েন্টি দলকে যেভাবে ভালো জায়গায় নিয়ে এসেছে, ওয়ানডে দলকেও ভালো জায়গায় নিয়ে যাবে বলে আমার বিশ্বাস।’
বাংলাদেশ আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে মাঠে নামবে। সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু ২২ আগস্ট।









Discussion about this post