কাফ মাসলের চোট কাটিয়ে প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের স্কোয়াডে শেষ মুহূর্তে জায়গা পেয়েছেন লিটন দাস। শুরুতে চোটের কারণে দলে রাখা না হলেও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক অগ্রগতির পর তাকে স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রোববার দ্বিতীয় বহরের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনের উদ্দেশে দেশ ছাড়ছেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটার।
গত ১৪ জুন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে ব্যাটিংয়ের সময় কাফ মাসলে চোট পান লিটন। সেই ইনজুরির কারণে লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগেও (এলপিএল) অংশ নিতে পারেননি তিনি। এমনকি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে তার খেলা নিয়েও ছিল অনিশ্চয়তা। সিঙ্গাপুরে করানো স্ক্যানে পেশিতে ফোলাভাব ধরা পড়লেও চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পর দ্রুত উন্নতি হওয়ায় এখন পরিস্থিতি অনেকটাই আশাব্যঞ্জক।
বাংলাদেশ দলের সাবেক সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন মনে করেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছাতে পারায় কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবেন লিটন। বিশেষ করে প্রস্তুতি ম্যাচে খেলতে পারলে সেটি তার জন্য বড় সহায়ক হবে।
লিটনকে নিয়ে আশা প্রকাশ করে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘সে আগে যাচ্ছে, এটা ভালো হচ্ছে। কারণ সেখানে গিয়ে মানিয়ে নিতে পারবে। আমার মনে হয় গত ৪৫ দিনে সে ম্যাচের মধ্যে নেই। সে যদি অনুশীলন ম্যাচটা খেলতে পারে আমি মনে করি সেটা তার জন্য অনেক ভালো হবে। তার জন্য টেস্ট ম্যাচ খেলাও অনেক সহজ হবে। নয়ত সরাসরি টেস্ট ম্যাচে গেলে আমার মনে হয় একটু কঠিন হতো।’
তবে প্রথম টেস্টেই লিটনকে উইকেটকিপারের দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দল সতর্ক থাকবে বলেই মনে করেন তিনি। তার মতে, ব্যাটার হিসেবে লিটন যদি স্বাভাবিকভাবে খেলতে পারেন এবং রানিং বিটুইন দ্য উইকেটে স্বাচ্ছন্দ্য দেখাতে পারেন, তাহলে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার হিসেবে তাকে একাদশে রাখা যৌক্তিক সিদ্ধান্ত হবে।
সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আমি মনে করি টেস্ট হয়ত হাই ইন্টেন্স নিয়ে খেলা হয় না। টেস্ট ম্যাচে হয়ত সে তিন বা চার রানের জন্য দৌড়াবে না। উইকেটকিপার হিসেবে তাকে হয়ত ৮০/৯০ ওভারও টানতে হবে না। সে যদি ব্যাটিংটা করতে পারে এবং রানিং বিটুইন দ্য উইকেটে যদি কিছুটা ভালো থাকে এবং সে যদি খেলার মতো অবস্থায় থাকে তাহলে অভিজ্ঞ একজনকে খেলানো অবশ্যই যুক্তিযুক্ত।’
চোট কাটিয়ে দ্রুত ফিরে আসায় এখন লিটনের সামনে রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ। প্রস্তুতি ম্যাচে নিজেকে প্রমাণ করতে পারলে প্রথম টেস্টে তার খেলার সম্ভাবনাও আরও জোরালো হয়ে উঠবে।
আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের প্রথম টেস্ট। দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে ২২ আগস্ট ম্যাকাইয়ে।









Discussion about this post