বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নতুন ঘরোয়া টুর্নামেন্ট ডমেস্টিক থ্রি মাঠে গড়ানোর কথা আগামী ডিসেম্বরে। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট দিয়ে শুরু হতে যাওয়া এই প্রতিযোগিতার আগে অনুষ্ঠিত হয়েছে তিন বছরের জন্য খেলোয়াড় নিলাম। পাঁচ ক্যাটাগরিতে চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা পাওয়া ২৮১ ক্রিকেটারের মধ্য থেকে ছয়টি দল ২২ জন করে খেলোয়াড় দলে নিয়েছে। তবে নিলামে নাম থাকা অনেক পরিচিত ও সম্ভাবনাময় ক্রিকেটারই শেষ পর্যন্ত দল পাননি।
দল না পাওয়া ক্রিকেটারদের মধ্যে রয়েছেন তরুণ ব্যাটার আশিকুর রহমান শিবলি, স্পিনার নাঈম আহমেদ, আশরাফুল হাসান রিহাদ, মিম মোসাদ্দেক, প্রিতম কুমার ও আব্দুল্লাহ আল মামুন।
ঘরোয়া ক্রিকেটে সাম্প্রতিক সময়ে পারফর্ম করা কয়েকজন ক্রিকেটারের দল না পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে গত দুই বছর ধরে ঘরোয়া ক্রিকেটে রান করে আসা শিবলির মতো প্রতিভাবান ব্যাটারের কোনো দলে জায়গা না পাওয়া অনেকের কাছেই বিস্ময়কর।
বর্তমানে জাতীয় ক্রিকেট লিগে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি স্পিনার নাঈম আহমেদও দল পাননি। ঘরোয়া ক্রিকেটে রান করা মিম মোসাদ্দেক ও আব্দুল্লাহ আল মামুনের পাশাপাশি তরুণ ব্যাটার রিহাদ এবং প্রিতম কুমারের নামও রয়েছে অবিক্রীতদের তালিকায়। একসময়ের তারকা ক্রিকেটার নাসির হোসেনের প্রতিও আগ্রহ দেখায়নি কোনো দল। অন্যদিকে, রোহানতদৌলা বর্ষণ, রবিউল হক ও তানজিম সাকিব চোটের কারণে দল পাননি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
দল না পাওয়া ক্রিকেটারদের বিষয়ে বিসিবির এক পরিচালক বলেছেন, ‘দেখলাম শিবলি দল পায়নি। এটা তো বিসিবির কিছু করার ছিল না। কারণ ৬ ফ্র্যাঞ্চাইজিকে দেওয়া হয়েছে তারা তাদের পছন্দমতো দল করবে। এ ছাড়া কোচরা রয়েছে তারা তো জানে কে কেমন, এখন তারা যদি সুযোগ না দেয় কি বলার আছে তাহলে।’
এদিকে ডমেস্টিক থ্রির নিলামে তানজিম হাসান সাকিবের দল না পাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে আলাদা আলোচনা। নিলামে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে থাকা এই পেস বোলিং অলরাউন্ডারের নামের পাশে চোটে আক্রান্ত থাকার এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চলার তথ্য উল্লেখ ছিল। আগামী ডিসেম্বরে টুর্নামেন্টের টি-টোয়েন্টি পর্ব শুরু হলেও সে সময় তিনি খেলার জন্য প্রস্তুত থাকবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
তবে সাকিবের দল না পাওয়ার পেছনে শুধু চোটকে কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। নিলাম চলাকালে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে তাঁর নাম ডাকার সময় কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। পর্দায় তার ছবি ভেসে উঠলেও নাম প্রদর্শিত হয়নি। পরে নিলাম সঞ্চালক চারু শর্মা জানান, পরবর্তী সময়ে তাকে ডাকা হবে।
কিন্তু নিলামের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি দলের জন্য সর্বোচ্চ ১০ কোটি পয়েন্ট ব্যয়ের সীমা নির্ধারিত ছিল। তানজিম সাকিবকে পরবর্তী সময়ে, অর্থাৎ এক্সেলারেটেড রাউন্ডে ডাকার কথা থাকলেও তার আগেই দলগুলোর নির্ধারিত পয়েন্ট প্রায় শেষ হয়ে যায়। ফলে তাঁকে দলে নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত পয়েন্ট কোনো দলের হাতে ছিল না। শেষ পর্যন্ত নিলামে নাম থাকলেও দল পাওয়া হয়নি এই তরুণ ক্রিকেটারের।
মাত্র ২৩ বছর বয়সেই তিন ফরম্যাটে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছে তানজিম সাকিবের। বাংলাদেশের হয়ে ১৫টি ওয়ানডে, ৪১টি টি-টোয়েন্টি ও একটি টেস্ট খেলেছেন তিনি। আগ্রাসী পেস বোলিং এবং উইকেট নেওয়ার দক্ষতা দিয়ে জাতীয় দলে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন সিলেটের এই ক্রিকেটার।
তবে বর্তমানে মাঠের বাইরে রয়েছেন সাকিব। গত এপ্রিলে চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে সর্বশেষ ম্যাচ খেলেন তিনি। পিঠের চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরার লক্ষ্যে বর্তমানে ইংল্যান্ডে পুনর্বাসনপ্রক্রিয়া চলছে তাঁর। সেখানে কাউন্টি দল কেন্টের ট্রেনার মাইক বেন্টলির তত্ত্বাবধানে চলছে তাঁর পুনর্বাসন। প্রক্রিয়াটি ভালোভাবে এগোলেও ঠিক কবে তিনি মাঠে ফিরতে পারবেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়।



