জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ চলাকালে চোটটা যে এতটা দীর্ঘায়িত হবে, তখন হয়তো সেটি ভাবেননি নাহিদ রানা। কিন্তু সেই চোটই তাকে বঞ্চিত করেছে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ থেকে। এবার চোট কাটিয়ে বল হাতে ফিরলেও আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ফেরার সুযোগ হচ্ছে না এই তরুণ পেসারের।
প্রায় দেড় মাসের বিরতির পর কদিন আগে অনুশীলনে ফিরেছেন নাহিদ। আপাতত ছোট রান-আপে বল করছেন তিনি। মাঠে ফেরার এই দৃশ্য স্বস্তির হলেও তার পুনর্বাসন এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। তাই ঝুঁকি নিয়ে ম্যাচে নামানোর বদলে ধাপে ধাপে এগোনোর পথই বেছে নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও টিম ম্যানেজমেন্ট।
গেল মাসে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছিলেন নাহিদ। দেশে ফিরে শুরু করেন চোট সারানোর প্রক্রিয়া। এখন চলছে সেই পুনর্বাসনের শেষ দিকের কাজ। অনুশীলনে বল হাতে ফিরলেও ম্যাচের চাপ সামলানোর জন্য তিনি এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন। সেই প্রশ্নের উত্তর আপাতত ‘না’।
বিশেষ করে আফগানিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন টেস্টটি যেহেতু টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ নয়, তাই নাহিদকে নিয়ে কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে চায় না বিসিবি। বরং সামনের গুরুত্বপূর্ণ সিরিজগুলোকে মাথায় রেখে তাকে ধীরে ধীরে ম্যাচের জন্য প্রস্তুত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ত্রিদেশীয় সিরিজেও শুরু থেকেই তাকে না খেলিয়ে ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে মাঠে ফেরানোর পরিকল্পনা রয়েছে টিম ম্যানেজমেন্টের।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে নাহিদের পাশাপাশি শরিফুল ইসলামকেও পাওয়া যাওয়ার সম্ভাবনা কম। ফলে পেস আক্রমণে কিছুটা পরিবর্তন আসাটা অনেকটাই নিশ্চিত। ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটে ব্যস্ত সময় কাটানো হাসান মাহমুদ ও খালেদ আহমেদকে রাখা হচ্ছে টেস্টের পরিকল্পনায়। তাদের অভিজ্ঞতা ও সাম্প্রতিক ম্যাচ অনুশীলন পেস বিভাগে বাড়তি ভরসা দিতে পারে।
এর সঙ্গে যোগ হতে পারে আরেকটি নতুন মুখ। সবকিছু ঠিক থাকলে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে অভিষেক হতে পারে মুশফিক হাসানের। নাহিদ ও শরিফুলের অনুপস্থিতিতে তরুণ এই পেসারের সামনে তাই জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের সামর্থ্য দেখানোর বড় সুযোগ তৈরি হচ্ছে।



