মিরপুর টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়ানোর কঠিন সমীকরণের সামনে বাংলাদেশ। তৃতীয় দিনের খেলা শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৭৯ রান তুলেছে স্বাগতিকরা। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের লিড দাঁড়িয়েছে ১০৬ রানে। এমন পরিস্থিতিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে ফেরাতে চতুর্থ দিনে বড় সংগ্রহ গড়ার বিকল্প নেই বাংলাদেশের সামনে। দলের সেই কঠিন দায়িত্ব এখন অনেকটাই বর্তেছে নাঈম হাসান ও জাকের আলী অনিকের কাঁধে।
তৃতীয় দিনের শেষ বিকেলে ২৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দিন শেষ করেছেন নাঈম ও জাকের। দুজনই ১৮ রান করে অপরাজিত আছেন। অথচ এই ম্যাচে জাকের আলীর খেলারই কথা ছিল না। মুমিনুল হকের কনকাশন বদলি হিসেবে একাদশে সুযোগ পেয়েছেন তিনি। অন্যদিকে নাঈম মূলত দলের একজন বোলার। তবে এই মুহূর্তে দুজনের ব্যাটিংয়ের দিকেই তাকিয়ে বাংলাদেশ। তাঁদের জুটি বড় হলে ম্যাচের চিত্র বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখছে দল।
আজ তৃতীয় দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে নাঈমের কণ্ঠে ছিল আত্মবিশ্বাস ও সৃষ্টিকর্তার ওপর ভরসার কথা। তাঁর বিশ্বাস, উইকেটে টিকে থেকে যত বেশি সম্ভব রান সংগ্রহ করতে পারলে বাংলাদেশের সামনে ম্যাচ জয়ের সুযোগ তৈরি হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দেখেন, আসলে আমরা চেষ্টা করব যত বেশি রান দিতে পারি। আল্লাহর রহমতে এখন আমি আর জাকের ভাই ব্যাটিং করছি। আমরা যদি লম্বা খেলতে পারি, ইনশাআল্লাহ আল্লাহ যদি চান, তাহলে যত বেশি রান দিতে পারব, ততই আমাদের জন্য ভালো। ২০০ রান হলে ইনশাআল্লাহ খুবই ভালো হবে। চেষ্টা থাকবে আরও বেশি করার।’
বাংলাদেশ এই ম্যাচ জিততে পারবে কি না, এমন প্রশ্নেও আশাবাদী উত্তর দিয়েছেন নাঈম, ‘ইনশাআল্লাহ। আমরা যদি ভালো সংগ্রহ দিতে পারি, ইনশাআল্লাহ আল্লাহ চাইলে সবই সম্ভব।’
প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের ঘাটতি পুষিয়ে নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে বড় লক্ষ্য দেওয়ার পরিকল্পনা বাংলাদেশের। মিরপুরের উইকেটে চতুর্থ ইনিংসে ব্যাটিং করা যে সহজ হবে না, তা ভালোভাবেই জানেন নাঈম। ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনাররা উইকেট থেকে সহায়তা পাচ্ছেন। বল কখনো ঘুরছে, আবার কখনো নিচু হয়ে আসছে। এমন পরিস্থিতিতে ২০০ রানের লিডকে ভালো অবস্থান হিসেবে দেখছেন এই অফ স্পিনার। তবে নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য ঠিক করতে চান না তিনি। নাঈম বলেছেন, ‘আমাদের তো উইকেট আছে। ইনশাআল্লাহ আমরা ট্রাই তো করব, যত বেশি পারি। আমরা যত বেশি রান করতে পারব, ততই তো আমাদের জন্য ভালো।’
চতুর্থ দিনের শুরুতে নিজের ও জাকেরের ওপর বিশ্বাস রাখার আহ্বানও জানিয়েছেন নাঈম। সুযোগ পেলে দুজনই বড় ইনিংস খেলতে চান। এ প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, ‘আপনারা বিশ্বাস করেন, আমরা যাতে-আমি আর জাকের ভাই যাতে বড় ইনিংস খেলতে পারি। প্রত্যেকদিন তো সবাই ভালো খেলে না। এবার সুযোগটা আমাদের কাছে আসছে। ইনশাআল্লাহ যদি আমরা ভালো কাজে লাগাতে পারি, তাহলে বড় দলগুলো এই জায়গা থেকে ব্যাক করে। ইনশাআল্লাহ আমি আর জাকের ভাই চেষ্টা করব আমরা ব্যাক করার জন্য।’
দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়ের পেছনে দিনের শেষভাগের আলোকস্বল্পতার প্রভাবও দেখছেন নাঈম। তাঁর মতে, আলো কমে আসার সময় উইকেটের আচরণে পরিবর্তন দেখা গেছে। একই ধরনের বল কখনো সোজা এসেছে, আবার কখনো ঘুরেছে। এ কারণে ব্যাটারদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠেছিল। নাঈম বলেন, ‘আর যখন ব্যাটিং করতে গিয়েছে শান্ত ভাইরা, তখন কিন্তু আন্ডার লাইট। আন্ডার লাইটে কিন্তু বল দুই রকম হচ্ছিল। সোজাও যাচ্ছিল, ঘুরতেও ছিল। তো ওই জায়গায় আমরা হয়তো একটু আরেকটু ভালো ব্যাটিং করার দরকার ছিল। ওই জায়গা থেকে ওটা হয় নাই। ইনশাআল্লাহ আমরা ব্যাক করব। ব্যাক করলে সব ঠিক হয়ে যাবে।’
এদিকে বাংলাদেশ যখন দ্বিতীয় ইনিংসে ২০০ রানের লিড নেওয়ার স্বপ্ন দেখছে, তখন দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে স্বাগতিকদের আটকে রাখার পরিকল্পনা ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ক্যারিবীয় ব্যাটিং কোচ ফ্লয়েড রেইফার মনে করছেন, ১৭৫ রানের লক্ষ্য পেলেও তাঁদের দলের জয়ের ভালো সুযোগ থাকবে। তবে সে জন্য চতুর্থ দিনের শুরুতেই জাকের ও নাঈমের জুটি ভাঙতে হবে।



