চোট কাটিয়ে বল হাতে মাঠে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন নাহিদ রানা। পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শেষে জাতীয় দলের হয়ে আবারও গতির ঝড় তোলার প্রস্তুতিও চলছিল। পরিকল্পনা ছিল, আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে সতর্কতার কারণে বিশ্রামে থাকলেও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ত্রিদেশীয় সিরিজ দিয়ে ফিরবেন বাংলাদেশের এই গতিতারকা। কিন্তু সেই প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছে। ত্রিদেশীয় সিরিজ তো বটেই, এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজেও নাহিদকে পাওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
পুরোনো চোট কাটিয়ে ওঠার পথে নতুন করে নিতম্বের পেশিতে চোট পেয়েছেন এই পেসার। ফলে মাঠে ফেরার প্রস্তুতি আবারও বাধাগ্রস্ত হয়েছে। শুধু একটি দ্বিপক্ষীয় সিরিজ নয়, নাহিদের অনুপস্থিতি দীর্ঘ হলে তার প্রভাব পড়তে পারে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অন্তর্ভুক্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচেও।
আপাতত অপেক্ষা শারীরিক অবস্থার পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের। ১১ অক্টোবর নাহিদের চোটের অবস্থা পরীক্ষা করে দেখার কথা রয়েছে। সেই মূল্যায়নের পরই জানা যাবে, তার চোট কতটা গুরুতর এবং কবে নাগাদ প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফেরার মতো অবস্থায় পৌঁছাতে পারবেন তিনি।
ক্রিকবাজকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচক প্যানেলের এক সদস্য জানিয়েছেন, নাহিদের শারীরিক অবস্থা মূল্যায়নের পরই চোট সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে তাকে পাওয়ার আশা অবশ্য এখনো ছাড়েননি নির্বাচকেরা। তবে দুই টেস্টেই খেলতে পারবেন, নাকি কেবল একটি ম্যাচে ফেরার সুযোগ মিলবে, তা নির্ভর করছে তার ফিটনেসের ওপর।
নাহিদের চোটের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য বাড়তি দুশ্চিন্তার কারণ হলো, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। চলতি বছর জিম্বাবুয়ে সফরে গ্রেড-২ সাইড স্ট্রেইনের চোটে পড়েছিলেন তিনি। সেই চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়া সফর, এশিয়ান গেমস এবং আফগানিস্তানের বিপক্ষে চলমান টেস্টে খেলা হয়নি তার। দীর্ঘ বিরতির পর ফেরার প্রস্তুতি যখন এগোচ্ছিল, তখনই নতুন চোট আবারও ছন্দপতন ঘটাল।
এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ত্রিদেশীয় সিরিজের দল নির্বাচনেও। সংযুক্ত আরব আমিরাতে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে অনুষ্ঠেয় এই প্রতিযোগিতার জন্য ঘোষিত দলে জায়গা হয়নি নাহিদের। এখন তার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দ্রুত মাঠে ফেরা নয়, বরং চোটের প্রকৃত অবস্থা শনাক্ত করে নিরাপদে সুস্থ হয়ে ওঠা।
এখানেই শেষ নয়, নাহিদের চোটের পেছনে অন্য কোনো জটিলতা আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখতে চায় বিসিবি। আক্রান্ত স্থানে সিস্ট থাকার সম্ভাবনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সন্দেহ রয়েছে। এ কারণে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার কথা ভাবছে বোর্ড। প্রথমে দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়া হবে। এরপর প্রয়োজন হলে উন্নত চিকিৎসা ও পরীক্ষার জন্য তাকে দেশের বাইরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত আসতে পারে।



