বয়সভিত্তিক ক্রিকেট থেকে শুরু করে ঢাকা লিগের বিভিন্ন স্তরে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে জাতীয় দলের ক্রিকেটার মেহেদী হাসান মিরাজের। দীর্ঘদিন পর চলতি বছর আবারও শুরু হয়েছে তৃতীয় বিভাগ বাছাইপর্ব। এই আয়োজনকে ঘিরে নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের শুরুর দিনের স্মৃতিতে ফিরে গেছেন মিরাজ। তার আশা, এই বাছাইপর্ব থেকেই উঠে আসবে বাংলাদেশের পরবর্তী প্রজন্মের অনেক ক্রিকেটার।
মিরপুর শেরে-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তৃতীয় বিভাগ বাছাইপর্বের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নিজের ক্রিকেটযাত্রার কথা তুলে ধরেন মিরাজ। তিনি বলেন, ‘আমার ক্রিকেট খেলা শুরু হয়েছে ২০০৯ সালে। তখন আমি বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৫ দলে খেলতাম। তখন থেকেই আমার শুরু হয়েছিল। আমি সিসিএসের হয়ে খেলেছিলাম। আর আমি যেহেতু বাছাইপর্ব থেকে শুরু করেছিলাম, তাই ঢাকা লিগের প্রত্যেকটা স্তরেই খেলার সুযোগ হয়েছে-বাছাইপর্ব, তৃতীয় বিভাগ, দ্বিতীয় বিভাগ, প্রথম বিভাগ, প্রিমিয়ার লিগ। আমার সৌভাগ্য হয়েছে প্রত্যেকটা লিগে খেলার।’
দীর্ঘ বিরতির পর আবারও বাছাইপর্ব আয়োজন হওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন মিরাজ। তিনি বলেন, ‘অভিজ্ঞতা থেকে যেটা বলব, অনেক দিন পর আবার এভাবে বাছাইপর্ব শুরু হচ্ছে, এটা খুবই ভালো লাগছে। মাঝখানে তো আমরা দেখেছি, খেলাটা হতো না। কিন্তু এখন আবার শুরু হচ্ছে। অবশ্যই এর কৃতিত্ব ক্রিকেট বোর্ডকে দিতে চাই। তারা সুন্দরভাবে আয়োজন করছে, নতুন করে আবার বাছাইপর্ব শুরু করেছে।’
তরুণ ক্রিকেটারদের একসঙ্গে খেলার পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকার খেলোয়াড়দের মধ্যে যোগাযোগ ও বন্ধুত্ব তৈরির সুযোগকেও গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন মিরাজ। তার নিজের অভিজ্ঞতাতেও এমন পরিবেশের প্রভাব ছিল বলে জানান তিনি।
মিরাজ বলেন, ‘আশা করি, বাছাইপর্ব যেহেতু শুরু হয়েছে, প্রত্যেকটা খেলোয়াড় খেলার সুযোগ পাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে। কারণ এই স্মৃতিটা আমার খুব ভালোভাবে মনে আছে। যেহেতু আমি খেলেছি, তাই প্রত্যেকটা বিভাগে বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা অনেক বন্ধুও তৈরি হয়েছে।’
বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ক্রিকেটারদের একসঙ্গে থাকার অভিজ্ঞতাও তরুণদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে মনে করেন জাতীয় দলের এই ক্রিকেটার। তিনি বলেন, ‘রংপুর, সিলেট, খুলনা, বগুড়া-বিভিন্ন জায়গা থেকে খেলোয়াড়রা আসবে, একসঙ্গে রুম শেয়ার করবে, ম্যাচের আগে একসঙ্গে অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করবে, কীভাবে খেলবে সেটা নিয়ে আলোচনা করবে, উত্তেজিত থাকবে। আমার কাছে মনে হয়, তোমরাও এই পরিবেশটা অনুভব করবে এবং তোমাদের ভেতরে সেই আগ্রহটা তৈরি হবে।’
নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়া এই বাছাইপর্বকে ভবিষ্যতের ক্রিকেটার তৈরির একটি সম্ভাব্য মঞ্চ হিসেবেই দেখছেন মিরাজ। তরুণদের উদ্দেশে তার প্রত্যাশা, এই পর্যায় থেকেই উঠে আসবে জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ ক্রিকেটার।
মিরাজ বলছিলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, তোমাদের মধ্য থেকেই অনেক অনেক খেলোয়াড় তৈরি হবে, যারা বাংলাদেশের পরবর্তী প্রজন্মকে নেতৃত্ব দেবে।’



