ব্যাট হাতে সেঞ্চুরি, উইকেটের পেছনে অবিশ্বাস্য ক্যাচ আর একের পর এক ডিসমিসাল-আবুধাবি টেস্টে যেন নিজের সামর্থ্যের সবটুকু উজাড় করে দিচ্ছেন লিটন দাস। আফগানিস্তানের বিপক্ষে পঞ্চম দিনের খেলায় দুর্দান্ত এক ক্যাচ নিয়ে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়েছেন বাংলাদেশের এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার। অন্যদিকে, ম্যাচের শেষ দিনে জয়ের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ।
আজ আবুধাবি টেস্টের পঞ্চম দিনে লাঞ্চ বিরতির ঠিক আগে ইবাদত হোসেনের বাউন্সারে গ্লাভস ছোঁয়ানো ইকরাম আলীখিলের অসাধারণ এক ক্যাচ নেন লিটন। ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে নেওয়া সেই ক্যাচে সাজঘরে ফেরেন ইকরাম। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই উইকেট তুলে নিয়ে স্বস্তি ফেরে বাংলাদেশ শিবিরে। একই সঙ্গে লিটনের ব্যক্তিগত রেকর্ডের খাতায় যোগ হয় নবম ডিসমিসাল।
এই কীর্তির মধ্য দিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস গড়েছেন লিটন। এক টেস্টে দুই ইনিংসে পঞ্চাশোর্ধ্ব রান এবং উইকেটরক্ষক হিসেবে অন্তত নয়টি ডিসমিসাল করা প্রথম ক্রিকেটার তিনি। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার ডেনিস লিন্ডসে ১৯৬৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এক টেস্টে দুটি পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংসের পাশাপাশি আটটি ডিসমিসাল করেছিলেন। এবার তাঁকে ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড গড়লেন বাংলাদেশের এই তারকা।
আবুধাবি টেস্টে ব্যাট হাতেও দুর্দান্ত ছিলেন লিটন। প্রথম ইনিংসে তার ব্যাট থেকে আসে ৫৩ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে খেলেন ১০২ রানের দারুণ ইনিংস। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি উইকেটের পেছনে আটটি ক্যাচ ও একটি স্টাম্পিং করেছেন তিনি। সব মিলিয়ে এই টেস্টে তাঁর অবদান বাংলাদেশের জন্য বড় প্রাপ্তি হয়ে উঠেছে।
পঞ্চম দিনের সকালে আফগানিস্তান দ্বিতীয় ইনিংসে আগের দিনের ১৩২ রানের সঙ্গে আরও রান যোগ করে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিল। সেদিন দ্রুত আরেকটি উইকেট নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে সেদিকউল্লাহ আতালের ক্যাচ নিতে পারেননি তানজিদ হাসান তামিম। সেই সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার পরও লড়াই ছাড়েনি বাংলাদেশ।
এরপর শারীরিক অসুস্থতার কারণে মাঠ ছাড়তে হয় আফগান অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শহিদিকে। ৩৩ বলে ২০ রান করে আহত অবসর নেন তিনি। তার জায়গায় ব্যাট করতে নামেন ইকরাম আলীখিল। সেদিকউল্লাহ আতালের সঙ্গে জুটি গড়ে বাংলাদেশের বোলারদের বেশ কিছুক্ষণ পরীক্ষা নেন ইকরাম। তবে লাঞ্চের আগে ইবাদতের বলে লিটনের অসাধারণ ক্যাচে শেষ হয় তাঁর ইনিংস।
প্রথম সেশন শেষে আফগানিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭৯ ওভারে চার উইকেটে ২০৩ রান। সেদিকউল্লাহ আতাল ৬৬ রানে অপরাজিত ছিলেন, আর ইসমাত আলম তখনও রানের খাতা খুলতে পারেননি। বাংলাদেশের হয়ে ইবাদত হোসেন তিনটি এবং হাসান মাহমুদ একটি উইকেট নিয়েছেন।
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৩৪৬ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে সাত উইকেটে ৩৭২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। লিটনের ১০২ রানের পাশাপাশি নাজমুল হোসেন শান্তর ৮২, মুশফিকুর রহিমের ৮১ এবং মেহেদী হাসান মিরাজের অপরাজিত ৫২ রান দলকে বড় সংগ্রহ এনে দেয়। জবাবে আফগানিস্তান প্রথম ইনিংসে ২৪০ রানে অলআউট হওয়ায় তাদের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৭৯ রান।
লাঞ্চ বিরতির সময় আফগানিস্তানের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল আরও ২৭৬ রান, হাতে ছিল ছয় উইকেট। বাকি দুই সেশনে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ছয়টি উইকেট তুলে নেওয়া। ফলে ম্যাচের শেষ ভাগে দুই দলের সামনেই ছিল কঠিন পরীক্ষা।



