এশিয়ান গেমসে পাকিস্তানের বিপক্ষে সেমিফাইনালটা একটা সময় পর্যন্ত বাংলাদেশের হাতের মুঠোয়ই ছিল। ৯ ওভার শেষে পাকিস্তানের স্কোর ৪ উইকেটে ৭৬। জয়ের জন্য শেষ ৪ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৩৬ রান। ১৩ ওভারের ম্যাচে ১১২ রানের লক্ষ্যও এমন উইকেটে খুব সহজ ছিল না। কিন্তু দশম ওভারে বল হাতে মুস্তাফিজুর রহমান আসতেই বদলে গেল ম্যাচের গতিপথ। সেই এক ওভারেই পাকিস্তান তুলে নেয় ২৩ রান। সমীকরণ নেমে আসে ১৮ বলে ১৩ রানে। এরপর বাংলাদেশের সামনে ম্যাচে ফেরার বাস্তব সুযোগ আর থাকেনি।
শেষ পর্যন্ত ১১.৩ ওভারে ১১২ রান তুলে ৬ উইকেটে জিতে যায় পাকিস্তান। বাংলাদেশের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন থেমে যায় সেমিফাইনালেই। আগামী রোববার তাই সোনার পদকের বদলে ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে নামতে হবে লিটন দাসের দলকে।
বাংলাদেশের হারের সবচেয়ে বড় আলোচনার জায়গা হয়ে উঠেছে মুস্তাফিজের বোলিং। স্পিনবান্ধব উইকেটে দুই ওভারে ৪১ রান দিয়েছেন বাঁহাতি এই পেসার। প্রথম ওভারে ১৮ রান দেওয়ার পরও কেন তাকে দ্বিতীয় ওভার করানো হলো-ম্যাচ শেষে অধিনায়ক লিটন দাসকে সেই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে। জবাবে তাঁর বক্তব্য ছিল, ‘আজকে মুস্তাফিজ ৩ উইকেট পেলে আপনি এই প্রশ্ন করতেন না।’
পাকিস্তান ১৩ ওভারের ম্যাচে মাত্র তিন ওভার পেস দিয়ে করালেও বাংলাদেশ সাইফ হাসান কিংবা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের মতো স্পিনারদের ব্যবহার করেনি। কেন মুস্তাফিজই দ্বিতীয়বার বল হাতে এলেন, সেই প্রশ্নে লিটনের উত্তর আরও সরাসরি, ‘আমার কাছে বেস্ট অপশন মুস্তাফিজ মনে হয়েছে, আমি করিয়েছি। আপনার কাছে যদি কখনও মনে হয় অন্য অপশন বেস্ট, আপনি করাবেন।’
তবে মুস্তাফিজের ৪১ রান দেওয়া যে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে, সেটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। দলের অন্যতম প্রধান বোলারের এমন পারফরম্যান্স ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লিটন বলেছেন, ‘দেখেন, ও আমাদের টিমের বেস্ট বোলার অনেক বছর ধরে। তো ক্রিকেটে আপনি কখনও একই ওয়েতে যেতে পারবেন না, আপস অ্যান্ড ডাউনস থাকবে। আমার কাছে মনে হয় তার জন্য আজকের দিনটা খুব একটা সুইটেবল ছিল না।’
অন্যদিকে ব্যাট হাতেও বাংলাদেশ শুরু থেকেই চাপে ছিল। ২১ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর তাওহিদ হৃদয় দাঁড়িয়ে যান একাই। চার ছক্কা ও দুই চারে ২৫ বলে ৪২ রান করে তিনি বাংলাদেশকে ১১১ পর্যন্ত নিয়ে যান। সাইফ হাসান করেন ১৯, মোসাদ্দেক ১১। কিন্তু ১৩ ওভারে ১১১ রান পাকিস্তানের জন্য যথেষ্ট বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।
পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ের পার্থক্যটা ছিল আক্রমণাত্মক মানসিকতায়। নিয়মিত উইকেট পড়লেও তাদের ব্যাটসম্যানরা রান তোলার চেষ্টা থামাননি। মাজ সাদাকাত ৭ বলে ১৪, উসমান খান ৯ বলে ১৪, সাইম আইয়ুব ১২ বলে ২১ রান করেন। সামাদ ১৫ বলে ৩০ এবং হাসান নেওয়াজ অপরাজিত ২২ বলে ২৭ রান করে দলকে জয় এনে দেন। ছোট ছোট দ্রুতগতির ইনিংসেই বাংলাদেশের বোলিংয়ের ওপর চাপ তৈরি করে পাকিস্তান।
ম্যাচ শেষে লিটনের নিজের ব্যাটিং নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তিন বলে মাত্র দুই রান করে ফেরেন তিনি। এ নিয়ে অনুশীলনের ঘাটতির প্রসঙ্গ টেনে অধিনায়ক বলেন, ‘আমরা অনেক দিন ধরে রুমে বসা, আবার আমরা টসে হেরে গেছি। তো আমাদের হাতে তো কোনো অপশন ছিল না, উইকেটটাও একটু ডিফিকাল্টি ফেস করার ছিল। যদি ভালো খেলতে পারতাম ভালো হতো, বাট এটা খুবই ইজি না যে আপনি এতদিন বসে থাকবেন এবং গিয়ে খুব এক্সট্রাঅর্ডিনারি ইনিংস খেলবেন।’



