৯ অক্টোবর আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাটিতে টেস্ট খেলতে নামার আগে বাংলাদেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে মরুর গরম। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় বোলিং করতে হওয়ায় পেসারদের জন্য কন্ডিশনটি কঠিন হতে পারে। সেই বাস্তবতা মাথায় রেখে ম্যাচের দুই দিন আগে থেকেই নিজের প্রস্তুতি শুরু করেছেন পেসার ইবাদত হোসেন।
অতিরিক্ত গরমে শরীর থেকে ঘামের সঙ্গে পানি ও প্রয়োজনীয় উপাদান বেরিয়ে গিয়ে ডিহাইড্রেশন এবং পেশিতে টান ধরার ঝুঁকি বাড়ে। তাই শরীরকে আগে থেকেই কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন ইবাদত।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘এখানে অনেক গরম। তাই ম্যাচের দুই দিন আগে থেকেই আমার প্রস্তুতি শুরু হয়। হাইড্রেটেড থাকার চেষ্টা করি, প্রচুর পানি ও তরল পান করি। নারকেলের পানি ও ফলও খাই। এই গরমে অনেক ঘাম হয়। ম্যাচের দিন যদি শরীরে পানির ঘাটতি থাকে, তাহলে ক্র্যাম্প হওয়ার ঝুঁকি থাকে। আমার শরীরেও অনেক ক্র্যাম্প হয়।’
দুবাইয়ে অনুশীলনের সময় প্রায় ৪৫ ডিগ্রি অনুভূত তাপমাত্রার মধ্যেও শরীরকে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন এই পেসার। তার মতে, টেস্টের মতো দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেটে এমন গরমে কার্যকর বোলিং করতে হলে ম্যাচের আগেই প্রস্তুতি শুরু করা জরুরি।
ইবাদত বলেন, ‘এই গরমে আপনি অনেকক্ষণ বোলিং করতে পারবেন না। আসলে বিষয়টা হলো প্রস্তুতি এবং কীভাবে আমি নিজেকে এই গরমের জন্য প্রস্তুত করছি। তাই টেস্ট ম্যাচ হলে, বিশেষ করে এমন কন্ডিশনে, আমার ম্যাচ প্রস্তুতি দুই দিন আগেই শুরু হয়ে যায়।’
বাংলাদেশ এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেললেও সেগুলো ছিল দিবারাত্রির ম্যাচ। এবারই প্রথম দিনের বেলায় পাঁচ দিনের টেস্ট খেলতে যাচ্ছে দলটি। ফলে গরমের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতিও নিতে হচ্ছে ভিন্নভাবে। গত ১ অক্টোবর দুবাইয়ে পৌঁছে প্রথম কয়েক দিন আইসিসি একাডেমি মাঠে অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ। এরপর সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে দলটি।
প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ২৩৪ রানে অলআউট হয়। সৌম্য সরকার সর্বোচ্চ ৫৭ রান করেন। সাদমান ইসলাম ৪৬, নাঈম হাসান ৩৬ এবং মুমিনুল হক করেন ৩৩ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৬.৫ ওভারে ৩ উইকেটে ১১৪ রান করে বাংলাদেশ। মুশফিকুর রহিম ৪৪ ও সাদমান ইসলাম ৩২ রান করেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের একমাত্র ইনিংসে ২২২ রানে অলআউট হয়। বাংলাদেশের হয়ে রিজার্ভ হিসেবে থাকা পেসার ইকবাল হোসেন ৪ উইকেট নেন, তাইজুল ইসলাম পান ৩ উইকেট। ইবাদত ৯ ওভার বোলিং করে ৩৮ রান দিয়ে নেন ১ উইকেট।
শুধু জাতীয় দল নয়, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ থেকে যারা সংযুক্ত আরব আমিরাত বা একই ধরনের কন্ডিশনে খেলতে আসবেন, তাদেরও আগেভাগে আবহাওয়া সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ইবাদত। তাপমাত্রা, আর্দ্রতা এবং মাঠের পরিবেশ সম্পর্কে আগে থেকে জানলে প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হবে বলে মনে করেন তিনি।
এবাদত বলেন, ‘যারা এখানে আসবে, আমাদের অনূর্ধ্ব-১৯ দল কিংবা কখনো ইমার্জিং দল-তাদের জন্য আগে থেকেই এখানকার আবহাওয়া সম্পর্কে জানা ভালো। শুনেছি জুন-জুলাইয়ে তাপমাত্রা ৫১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। আমাদের দেশ থেকে যারা আসে, তাদের জন্য এটা অনেক বেশি। তাই এখানকার কন্ডিশন, আর্দ্রতা এবং কতটা গরম-এসব আগে থেকে জানা দরকার।’
কন্ডিশনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে নিজের একটি বিশেষ অভ্যাসের কথাও জানিয়েছেন ইবাদত। অনুশীলনের প্রথম দিন খালি পায়ে মাঠে হাঁটেন তিনি। তার ভাষায়, ‘আর্দ্রতা কেমন, গরম কেমন, এগুলো (আগে থেকেই) জানা গুরুত্বপূর্ণ। এখানে আসার পর আমি যেটা করি, প্রথম যেদিন অনুশীলন করি, তখন খালি পায়ে প্রায় আধঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা মাঠে হাঁটি।’
এই অভ্যাসের কারণ ব্যাখ্যা করে ইবাদত বলেন, ‘মাঠের সঙ্গে যেন একটা সংযোগ তৈরি হয়। এতে মাটির সঙ্গে মানুষের শরীরের যে সংযোগ, সেটা খুব ভালো হয়। শরীর এই আবহাওয়ার সঙ্গে তাড়াতাড়ি মানিয়ে নেয়। এখানে এসে জুতা ছাড়া খালি পায়ে আধা ঘণ্টা–এক ঘণ্টা মাঠে হাঁটলে শরীর এই আবহাওয়া, এই গরমের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে।’



