কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে কেন্টের প্রথম বিভাগে ওঠার স্বপ্ন যখন কঠিন সমীকরণে আটকে, তখন বল হাতে দলটির ভরসার নাম হয়ে উঠেছেন হাসান মাহমুদ। ডার্বিশায়ারের বিপক্ষে দুই ইনিংসে ৭ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের এই পেসার একাই লড়াইটা জমিয়ে দিয়েছেন, যদিও ৪৩০ রানের লক্ষ্য সামনে রেখে কেন্ট এখন দাঁড়িয়ে কঠিন পরীক্ষার মুখে।
তবে দলের বিপদের দিনে বল হাতে দারুণ পারফরম্যান্স করে স্বস্তি এনে দিয়েছেন বাংলাদেশের পেসার হাসান। দুই ইনিংস মিলিয়ে ৭ উইকেট নিয়ে ম্যাচে কেন্টের হয়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল পারফরমার তিনি। অন্যদিকে এই ম্যাচে কাউন্টি অভিষেক হয়েছে আরেক বাংলাদেশি পেসার খালেদ আহমেদের।
১২তম রাউন্ডের ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ডার্বিশায়ার ৩০০ রানে অলআউট হয়। তাদের ইনিংসে কেন্টের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন হাসান মাহমুদ। ডানহাতি এই পেসার তুলে নেন ৪ উইকেট। খালেদ আহমেদও অভিষেক ম্যাচে নজর কাড়েন ৩ উইকেট নিয়ে। বাংলাদেশের দুই পেসারের বোলিংয়ে ডার্বিশায়ারকে বড় সংগ্রহ থেকে আটকে রাখার আশা তৈরি হলেও ব্যাটিংয়ে গিয়ে তা কাজে লাগাতে পারেনি কেন্ট।
প্রথম ইনিংসে কেন্টের ব্যাটিং থামে মাত্র ২১৯ রানে। ফলে ৮১ রানের লিড পায় ডার্বিশায়ার। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে স্বাগতিকরা আরও বড় সংগ্রহ গড়ে। মার্টিন অ্যান্ডারসন, লুইস রিস ও ব্রুক গেস্টের অর্ধশতকে ভর করে ৮ উইকেটে ৩৫২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে তারা। প্রথম ইনিংসের লিডসহ ডার্বিশায়ারের মোট ব্যবধান দাঁড়ায় ৪৩৩ রানে, আর কেন্টের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৩০ রান।
ডার্বিশায়ারের দ্বিতীয় ইনিংসেও কেন্টের হয়ে আলো ছড়ান হাসান। আগের দিন একটি উইকেট নেওয়ার পর তৃতীয় দিনের শুরুতে ম্যাথু মন্টগোমেরিকে ৪৬ রানে ফেরান তিনি। এরপর কোনো রান যোগ করার আগেই ডার্বিশায়ারের অধিনায়ক ওয়েইন ম্যাডসেনকে আউট করে ইনিংসে নিজের তৃতীয় উইকেট পূর্ণ করেন। শেষ পর্যন্ত ১৬ ওভারে তিন মেডেনসহ মাত্র ৩২ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন হাসান।
দুই ইনিংস মিলিয়ে ৭ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি হাসান নিজের সাম্প্রতিক দুর্দান্ত ফর্মও ধরে রেখেছেন। এর আগের ম্যাচে উস্টারশায়ারের বিপক্ষেও দুই ইনিংস মিলিয়ে ৭ উইকেট নিয়ে কেন্টের জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি। কাউন্টিতে নিজের প্রথমবারের অভিযানে এখন পর্যন্ত চার ম্যাচে হাসানের শিকার ২৬ উইকেট। তার বোলিং ইকোনমি ৩.২৩। চলতি আসরে কেন্টের তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি তিনি, যদিও তার সামনে থাকা দুই বোলার খেলেছেন আট ও নয়টি ম্যাচ।
খালেদ আহমেদের জন্য অভিষেকটিও মন্দ যায়নি। প্রথম ইনিংসে ৩ উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে উইকেটশূন্য ছিলেন তিনি। ১৮.৪ ওভারে তিন মেডেনসহ ৬৪ রান খরচ করেন এই পেসার। ফলে ম্যাচে বাংলাদেশের দুই পেসারের সম্মিলিত শিকার দাঁড়িয়েছে ১০ উইকেট।
ডার্বিশায়ারের দেওয়া বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অবশ্য বৃষ্টির কারণে কেন্টের ব্যাটিংয়ে তেমন অগ্রগতি হয়নি। তৃতীয় দিনের খেলা শেষ হওয়ার সময় ১.৩ ওভারে ৩ রান তুলেছে তারা, কোনো উইকেট হারায়নি। ফলে শেষ দিনে জয়ের জন্য কেন্টের প্রয়োজন আরও ৪৩১ রান। হাতে রয়েছে ১০ উইকেট, কিন্তু এত বড় লক্ষ্য তাড়া করে জয় তুলে নেওয়া তাদের জন্য নিঃসন্দেহে কঠিন চ্যালেঞ্জ।



