টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ২০০ বা ২৫০ রানও এখন অনেক সময় নিরাপদ মনে করা হয় না। সেই বাস্তবতায় মাত্র ৮৫ রান করে একটি ফাইনাল জেতা তো দূরের কথা, ম্যাচে টিকে থাকাই কঠিন। কিন্তু গ্লোবাল সুপার লিগের ফাইনালে সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করেছে গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স। প্রভিডেন্সে রোববার শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে সান ফ্রান্সিসকো ইউনিকর্নসকে ৬ রানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জিতেছে স্বাগতিকরা। একই সঙ্গে টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের ফাইনালে সর্বনিম্ন রান ডিফেন্ড করার নতুন ইতিহাসও গড়েছে তারা।
গায়ানার শিরোপা জয়ের গল্পের শুরু অবশ্য ছিল ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়ে। টস জিতে আগে ব্যাটিং করতে নেমে মাত্র ৬.২ ওভারের মধ্যে শীর্ষ পাঁচ ব্যাটারকে হারিয়ে চরম সংকটে পড়ে দলটি। একসময় স্কোরবোর্ডে ৮ উইকেটে ছিল মাত্র ২৯ রান। জনসন চার্লস, রহমানউল্লাহ গুরবাজ, মোহাম্মদ হারিস, শিমরন হেটমায়ার, মোহাম্মদ নবী, রভম্যান পাওয়েল—কেউই দায়িত্ব নিতে পারেননি।
ধ্বংসস্তূপের মধ্যে লড়াইয়ের সাহস দেখান ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস ও ১০ নম্বরে নামা ম্যাথু ফোর্ড। নবম উইকেটে তাদের ৪১ রানের জুটিই গায়ানাকে লড়াই করার মতো সংগ্রহ এনে দেয়। ফোর্ড ২৩ বলে ২৮ রান করেন, আর প্রিটোরিয়াস ৩০ বলে ১৭ রানে অপরাজিত থাকেন। শেষ উইকেটে ইমরান তাহিরের ১১ রানের ছোট কিন্তু কার্যকর অবদান মিলিয়ে গায়ানার ইনিংস থামে ৮৫ রানে।
এমন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে তিন উইকেট হারালেও সান ফ্রান্সিসকো দ্রুত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। অলিভার পিকের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে একসময় তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ৫৩ রান। তখন মনে হচ্ছিল, লক্ষ্য স্পর্শ করা সময়ের ব্যাপার মাত্র।
কিন্তু সেখান থেকেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন গায়ানার অভিজ্ঞ বোলাররা। মোহাম্মদ নবী সঞ্জয় কৃষ্ণমূর্তি ও সেট ব্যাটার অলিভার পিককে ফিরিয়ে বড় ধাক্কা দেন। এর মাঝেই ইমরান তাহির জোড়া আঘাত হেনে প্রতিপক্ষের মধ্যক্রম ভেঙে দেন। শেষ পর্যন্ত ৫৩/৩ থেকে ৭৯ রানে গুটিয়ে যায় সান ফ্রান্সিসকো। শেষ সাত উইকেট হারায় মাত্র ২৬ রান যোগ করে।
রুদ্ধশ্বাস সমাপ্তিতে জয়ের জন্য শেষ ১০ বলে সান ফ্রান্সিসকোর প্রয়োজন ছিল ৭ রান। শেষ জুটির ওপর ভরসা করেছিল দলটি। কিন্তু শেষ ব্যাটার ক্যালাম স্টো সিঙ্গেল নিতে গিয়ে মিড অফ থেকে শিমরন হেটমায়ারের দুর্দান্ত থ্রোয়ে রান আউট হন। তৃতীয় আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে রান আউট নিশ্চিত হতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে গায়ানা শিবির। ৪৭ বছর বয়সী ইমরান তাহিরের চিরচেনা দৌড়ে উদযাপন যেন অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনেরই প্রতীক হয়ে ওঠে।
গায়ানার হয়ে ফাইনালের নায়ক ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস। ১৭ রান করার পাশাপাশি বল হাতে তিনটি উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন তিনি। মোহাম্মদ নবী চার ওভারে মাত্র ১২ রান দিয়ে তিন উইকেট নেন, আর তাহির শিকার করেন দুটি উইকেট। সান ফ্রান্সিসকোর হয়ে পিটার সিডল ও অনিরুদ্ধ ইমানুয়েল তিনটি করে উইকেট নিলেও তা দলকে শিরোপা এনে দিতে পারেনি।
টুর্নামেন্ট শেষে ব্যক্তিগত স্বীকৃতিও গেছে গায়ানার ঝুলিতে। ১০ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টসেরা হয়েছেন মোহাম্মদ নবী। গ্লোবাল সুপার লিগের তৃতীয় আসরে এ নিয়ে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জিতল গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স। উদ্বোধনী আসরের চ্যাম্পিয়ন ছিল বাংলাদেশের রংপুর রাইডার্স। এবার ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিল ৮৫ রান রক্ষা করে জেতা এক অবিশ্বাস্য ফাইনাল।









Discussion about this post