ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপকে একের পর এক প্রশ্নের মুখে ফেলেছে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ। প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত বোলিংয়ের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও স্বাগতিকদের টপ অর্ডারে ধস নামিয়েছে তাসকিন আহমেদ, ইবাদত হোসেন ও হাসান মাহমুদরা। বাংলাদেশের পেসারদের এমন পারফরম্যান্সে মুগ্ধ অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ফাস্ট বোলার জেসন গিলেস্পি। তবে এই দুর্দান্ত বোলিংয়ের মাঝেও তরুণ পেসার নাহিদ রানাকে মিস করছেন তিনি।
ডারউইন টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে ম্যাচে চালকের আসনে রয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে দুইশর নিচে আটকে দিয়ে ২২৮ রানের লিড নেয় সফরকারীরা। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসেও বল হাতে দারুণ শুরু পেয়েছে বাংলাদেশ। দলীয় ৭৩ রানের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার টপ অর্ডারের তিন ব্যাটারকে সাজঘরে ফেরান বাংলাদেশের বোলাররা। প্রতিবেদন লেখার সময় স্বাগতিকদের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ৮৭ রান, বাংলাদেশের চেয়ে এখনো ১৪১ রানে পিছিয়ে অস্ট্রেলিয়া।
বাংলাদেশের বোলারদের এমন দাপটে মুগ্ধ গিলেস্পি মনে করছেন, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এখন বাংলাদেশের হাতেই। তৃতীয় দিনের খেলা চলাকালে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৭১টি টেস্ট খেলা সাবেক এই পেসার বলেন, প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের পেসাররা অসাধারণ বোলিং করেছেন এবং দ্বিতীয় ইনিংসেও তারা ভালো শুরু পেয়েছেন। তাঁর মতে, ফুলার লেন্থে বল করে অফ স্টাম্পকে চ্যালেঞ্জ জানানোর কারণেই অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের ক্রমাগত সমস্যায় ফেলতে পেরেছেন বাংলাদেশের পেসাররা।
বাংলাদেশের বোলিংয়ের সবচেয়ে বড় আলোচনার নাম অবশ্যই হাসান মাহমুদ। প্রথম ইনিংসে ৫৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কোনো বাংলাদেশি বোলারের সেরা বোলিং ফিগারের রেকর্ড গড়েছেন তিনি। হাসানের এই পারফরম্যান্সকে প্রাপ্য বলেই মনে করছেন গিলেস্পি। তার মতে, হাসান দারুণ বল করেছেন এবং এমন বোলিংয়েরই প্রাপ্য ছিলেন তিনি। একই সঙ্গে ইবাদত ও তাসকিনের বোলিংয়েরও প্রশংসা করেছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক এই পেসার। মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলামও প্রয়োজনের সময় কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলাদেশের বর্তমান পেস আক্রমণের গভীরতাও মুগ্ধ করেছে গিলেস্পিকে। তার মতে, বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ে এখন যথেষ্ট বিকল্প তৈরি হয়েছে, যা যেকোনো দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের আগের প্রজন্মের পেসারদের কথাও স্মরণ করেছেন তিনি। মাশরাফি বিন মুর্তজা ও শাহাদাত হোসেনের প্রশংসা করে গিলেস্পি বলেন, মাশরাফির সুইং ছিল ভালো, আর শাহাদাতেরও ভালো গতি ছিল। তবে বর্তমান বাংলাদেশ দলে পেস বোলিংয়ের যে গভীরতা তৈরি হয়েছে, সেটিকেই সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন তিনি।
বাংলাদেশের এই পেস বিপ্লবের পেছনে কোচিং স্টাফদেরও কৃতিত্ব দিয়েছেন গিলেস্পি। তার মতে, সব ফরম্যাটের জন্য বাংলাদেশের কোচিং স্টাফরা দারুণ একটি গ্রুপ তৈরি করছে এবং বর্তমান পেস আক্রমণের গভীরতা তারই প্রতিফলন।
তবে এমন দুর্দান্ত পেস আক্রমণের মাঝেও একজনকে মিস করছেন গিলেস্পি-নাহিদ রানা। অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ সিরিজ শুরুর আগে বাংলাদেশের সবচেয়ে আলোচিত পেসারদের একজন ছিলেন নাহিদ। কিন্তু চোটের কারণে পুরো সফর থেকেই ছিটকে গেছেন তিনি। তাঁর অনুপস্থিতি অবশ্য হাসান, তাসকিন ও ইবাদতের পারফরম্যান্সে অনেকটাই আড়াল হয়ে গেছে।
নাহিদের প্রসঙ্গ টেনে গিলেস্পি বলেন, তাকে মাঠে দেখতে পেলে ভালো লাগত। নাহিদের অসাধারণ গতি ও আগ্রাসনের প্রশংসা করে তিনি বলেন, তরুণ এই পেসার অনেক লম্বা এবং অত্যন্ত দ্রুতগতির বোলার। তার ধারণা, নাহিদের সাইড স্ট্রেইনের চোট হয়ে থাকতে পারে। দ্রুত সুস্থ হয়ে নাহিদ মাঠে ফিরবেন-এমন আশাও প্রকাশ করেছেন তিনি।
তবে চোটকে একজন পেসারের ক্যারিয়ারের স্বাভাবিক অংশ হিসেবেই দেখছেন গিলেস্পি। তার মতে, একজন ক্রিকেটারকে যতটা সম্ভব চোট এড়িয়ে চলার চেষ্টা করতে হবে, প্রয়োজনীয় প্রটোকল মেনে চলতে হবে, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে এবং নিয়ম মেনে খেলতে হবে। কিন্তু খেলাধুলায় চোট পুরোপুরি এড়িয়ে চলা সবসময় সম্ভব নয়।
নাহিদকে হারানোর হতাশা থাকলেও ডারউইনে বাংলাদেশের পেসারদের পারফরম্যান্সে সেই ঘাটতি আপাতত বুঝতে দিচ্ছে না। বরং হাসান মাহমুদের রেকর্ড গড়া বোলিং, তাসকিন-ইবাদতের কার্যকর স্পেল এবং পুরো পেস ইউনিটের ধারাবাহিকতায় অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংকে কঠিন পরীক্ষার সামনে পড়তে হয়েছে।



