ক্রিকেটারদের সাফল্যের পেছনে থাকে কঠোর পরিশ্রম, ত্যাগ আর নানা প্রতিকূলতার গল্প। মাঠে তাদের পারফরম্যান্স দেখা গেলেও ব্যক্তিগত জীবনের অনেক কষ্ট আড়ালেই থেকে যায়। বাংলাদেশের পেসার ইবাদত হোসেন চৌধুরীর জীবনেও তেমনই এক কঠিন সময় এসেছে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবি টেস্টে খেলার মধ্যেই আপন চাচাকে হারিয়েছেন তিনি। তবে স্বজন হারানোর শোক বুকে নিয়েও দেশের হয়ে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন এই পেসার।
আবুধাবি টেস্টের চতুর্থ দিনের খেলা শেষে ইবাদতের চাচার মৃত্যুর খবর আসে। দলের সঙ্গে ব্যস্ত থাকায় চাচার শেষ বিদায়ে উপস্থিত থাকার সুযোগ হচ্ছে না তার। এমন কঠিন সময়ে ইবাদতের পাশে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশ দলের সতীর্থ ও কর্মকর্তারা।
আজ পঞ্চম দিনের খেলা শুরুর আগে ইবাদতের প্রয়াত চাচার আত্মার মাগফিরাত কামনায় মোনাজাত করেন বাংলাদেশ দলের সদস্যরা। এ সময় তাকে সান্ত্বনা দেন সতীর্থরা। দলের পক্ষ থেকে তার প্রতি সমবেদনা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন জাতীয় দলের টিম ম্যানেজার নাফিস ইকবাল।
ইবাদতের চাচার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে নাফিস ইকবাল বলেন, ইবাদতের পরিবারের সদস্যকে হারানোর বিষয়টি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এমন কঠিন সময়েও তিনি দেশের হয়ে খেলতে দলের সঙ্গে রয়েছেন। দলের জন্য তার এই ত্যাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সবার পক্ষ থেকে তার জন্য দোয়া করা হয়।
ইবাদতের ত্যাগের ঘটনা অবশ্য এটাই প্রথম নয়। অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে সন্তানসম্ভবা স্ত্রীর পাশে থাকতে ছুটি নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু নাহিদ রানা ও শরিফুল ইসলাম চোটে পড়ায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ডাকে আবারও দলের সঙ্গে যোগ দেন এই পেসার। পরিবারের কাছ থেকে দূরে থেকে দেশের হয়ে দায়িত্ব পালনের সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
চলমান আবুধাবি টেস্টেও বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন ইবাদত। প্রথম ইনিংসে চার উইকেট শিকারের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা জিইয়ে রেখেছেন তিনি। ব্যক্তিগত জীবনে শোকের কঠিন মুহূর্ত পার করলেও মাঠে দলের জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন এই পেসার।



