জয়ের জন্য শেষ দিনে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৭ উইকেট। অন্যদিকে আফগানিস্তানের সামনে লক্ষ্য ছিল ৪৭৯ রান, পঞ্চম দিনের শুরুতে হাতে ছিল ৭ উইকেট। জয়ের সম্ভাবনা ক্ষীণ হলেও উইকেট আঁকড়ে থেকে ড্রয়ের লক্ষ্যে এগিয়ে যায় আফগানিস্তান। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের বোলারদের প্রতিরোধ করে ৮ উইকেটে ৩৪৬ রান তুলে ম্যাচ ড্র করেছে তারা। ফলে জয়ের ভালো সুযোগ তৈরি করেও হতাশ হতে হয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দলকে।
আজ পঞ্চম দিনের খেলা শুরুতে ৩ উইকেটে ১৩২ রান ছিল আফগানিস্তানের সংগ্রহ। জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল আরও ৩৪৭ রান। তবে শুরু থেকেই জয়ের চেয়ে উইকেট ধরে রেখে ম্যাচ বাঁচানোর দিকেই মনোযোগী ছিল দলটি। আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটার সেদিকুল্লাহ আতাল ও হাশমতউল্লাহ শহীদি সতর্ক ব্যাটিংয়ে সকালের সময় পার করেন।
একাধিকবার বোলিং পরিবর্তন করেও শুরুতে সাফল্য পাচ্ছিলেন না বাংলাদেশ অধিনায়ক শান্ত। আবুধাবির উইকেটে শেষ দিনে ফাটল দেখা গেলেও তা থেকে প্রত্যাশিত সুবিধা আদায় করতে পারেননি বাংলাদেশের স্পিনাররা। তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাঈম হাসানের বোলিংয়ে খুব একটা ধার দেখা যায়নি। প্রচণ্ড গরমে ক্র্যাম্পের কারণে প্রথম সেশনেই মাঠ ছাড়তে হয় শহীদিকে। তিনি ৩৩ বলে ২০ রান করেন।
লাঞ্চের কিছুক্ষণ আগে অবশেষে উইকেটের দেখা পায় বাংলাদেশ। এবাদত হোসেনের করা ৭৮তম ওভারের প্রথম বলটি লেগ স্টাম্পের বাইরে খাটো লেংথে ছিল। পুল করতে গিয়ে ব্যাটের বাইরের কানায় বল লাগিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ইকরাম আলিখিল। ডানদিকে ঝাঁপিয়ে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন উইকেটকিপার লিটন দাস। ৬৯ বলে ৩৩ রান করে ফেরেন ইকরাম।
এরপর সেদিকুল্লাহ আতালের সঙ্গে জুটি গড়েন ইসমত আলম। দুজন মিলে যোগ করেন ৪০ রান। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে অধিনায়ক শান্তর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ইসমত। ৬০ বল খেলে মাত্র ৪ রান করেন তিনি।
রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়ার পর আবার ব্যাটিংয়ে নামেন শহীদি। তবে এবারও জুটি ভাঙেন মিরাজ। তার বলে হাসান মাহমুদের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন আফগান অধিনায়ক। আউট হওয়ার আগে ৬৯ বলে ৩৬ রান করেন তিনি।
এক প্রান্তে নিয়মিত বিরতিতে সতীর্থদের হারালেও অবিচল ছিলেন আতাল। ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেন এই আফগান ওপেনার। ৩৩২ বলের ইনিংসে ৯টি চার ও ৩টি ছক্কায় ১১১ রান করেন তিনি। তাঁর এই ইনিংসই আফগানিস্তানকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখতে বড় ভূমিকা রাখে।
তাইজুল ইসলামের ঘূর্ণিতে আতাল সাজঘরে ফেরার পর বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়ে ওঠে। তবে এরপরও আফগানিস্তানের লোয়ার অর্ডার হাল ছাড়েনি। ইয়ামিন আহমাদজাই ও কায়েস আহমেদের দৃঢ় ব্যাটিংয়ে শেষ পর্যন্ত ম্যাচ বাঁচাতে সক্ষম হয় সফরকারীরা। শেষ দিনে ৫ উইকেট হারালেও ৮ উইকেটে ৩৪৬ রান তুলে মাঠ ছাড়ে আফগানিস্তান।
বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন এবাদত হোসেন ও মেহেদী হাসান মিরাজ। দুজনই নেন ৩টি করে উইকেট। এ ছাড়া হাসান মাহমুদ ও নাঈম হাসান পেয়েছেন একটি করে উইকেট।
ম্যাচে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৩৪৬ রান করে। জবাবে আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংস শেষ হয় ২৪০ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ৩৭২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। এতে আফগানিস্তানের সামনে ৪৭৯ রানের লক্ষ্য দাঁড়ায়। কিন্তু শেষ দিনে দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তুলে ৮ উইকেটে ৩৪৬ রান করে ম্যাচ ড্র করে আফগানিস্তান।
শেষ দিনে প্রয়োজনীয় উইকেট তুলে নিতে না পারায় বাংলাদেশের জয়ের সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে। অন্যদিকে সেদিকুল্লাহ আতালের সেঞ্চুরি এবং শেষ দিকে ইয়ামিন আহমাদজাই ও কায়েস আহমেদের লড়াই আফগানিস্তানকে এনে দিয়েছে স্বস্তির ড্র।



