জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) চতুর্থ রাউন্ডে এসে মৌসুমের প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছে ঢাকা বিভাগ। রাজশাহীকে ইনিংস ও ১০৩ রানে হারিয়ে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট তুলে নিয়েছে দলটি। অন্য তিন ম্যাচ শেষ হয়েছে ড্রয়ে। তবে ব্যাট হাতে আলো ছড়িয়েছেন সিলেটের অমিত হাসান, চট্টগ্রামের শাহ পরান, রংপুরের মিম মোসাদ্দেক ও নবীন ইসলাম। শেষ দিনে অমিত পূর্ণ করেছেন ডাবল সেঞ্চুরি, আর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের প্রথম শতককে স্মরণীয় করে রেখেছেন শাহ পরান ১২ ছক্কার ঝড়ে।
রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে স্বাগতিক রাজশাহীকে ইনিংস ব্যবধানে হারিয়ে পয়েন্ট তালিকায় দুইয়ে উঠে এসেছে ঢাকা। প্রথম ইনিংসে ৫২১ রান করা ঢাকা রাজশাহীকে প্রথম ইনিংসে ১৬২ রানে অলআউট করে ফলোঅনে পাঠায়। দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেটে ২১৫ রান নিয়ে শেষ দিন শুরু করা রাজশাহী আর মাত্র ৪১ রান যোগ করতেই হারায় বাকি পাঁচ উইকেট। ৭০.৪ ওভারে ২৫৬ রানে গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস।
দিনের শুরুতে আগের দিনের ৬৪ রানেই আউট হন সাব্বির রহমান। শেষ চার উইকেট থেকে রাজশাহী যোগ করতে পেরেছে মাত্র ১৬ রান। এসএম মেহেরব হাসান ৩৩ ও সানজামুল ইসলাম ২৭ রান করলেও দলের হার এড়াতে পারেননি। ঢাকার হয়ে এনামুল হক তিনটি উইকেট নেন। দুটি করে উইকেট পান সুমন, রিপন ও আমিনুল। ম্যাচসেরা হয়েছেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ, যিনি ঢাকার প্রথম ইনিংসে ২৮২ রান করেছিলেন।
আগের তিন ম্যাচ ড্র করা ঢাকা এই জয়ে পেয়েছে ৮ পয়েন্টের সঙ্গে ইনিংস ব্যবধানে জেতার বোনাস ১ পয়েন্ট। চার ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে দলটি। ২১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে খুলনা। রাজশাহীর চার ম্যাচে সংগ্রহ ১২ পয়েন্ট।
বগুড়ায় ময়মনসিংহের বিপক্ষে চট্টগ্রামের শাহ পরান খেলেছেন রঙিন এক ইনিংস। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের তৃতীয় ম্যাচে এসে প্রথম সেঞ্চুরি পেয়েছেন ২৫ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান। সাত নম্বরে নেমে ১৬৬ বলে ১১ চার ও ১২ ছক্কায় ১৬৩ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। গত মৌসুমে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেকেই ৯১ রান করে আউট হয়েছিলেন শাহ পরান। এবার শতক পেরিয়ে নিজের সামর্থ্যের জানান দিলেন এই ব্যাটসম্যান।
চট্টগ্রাম আগের দিন ৬ উইকেটে ৪২৪ রান নিয়ে খেলা শুরু করে। শাহ পরানের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে দলটির প্রথম ইনিংস শেষ হয় ৫৯৯ রানে। দশম উইকেটে ইফরান হোসেনের সঙ্গে ৭৯ রান যোগ করেন তিনি। এই জুটিতে ইফরানের অবদান ছিল মাত্র ৫ রান। চট্টগ্রাম প্রথম ইনিংসে ১৩৪ রানের লিড পায়।
শাহ পরানের ইনিংসে ছক্কার সংখ্যা ছিল ১২। সঙ্গীর অভাবে বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ১৬ ছক্কার রেকর্ড স্পর্শ করা কিংবা ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করা হয়নি তার। তবে প্রথম সেঞ্চুরির ইনিংসেই তাঁর এই ব্যাটিং নজর কেড়েছে।
জবাবে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে বিপদে পড়ে ময়মনসিংহ। মাত্র ২৮ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর দলটির সামনে হারের শঙ্কা দেখা দেয়। পরে ৩০ ওভারে ৫ উইকেটে ৬১ রান তোলার পর আলোকস্বল্পতায় খেলা বন্ধ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ড্র মেনে নেয় দুই দল। ম্যাচসেরা নির্বাচিত হয়েছেন ময়মনসিংহের মাহফিজুল ইসলাম।
কক্সবাজারে সিলেট ও খুলনার ম্যাচেও ব্যাটসম্যানদের দাপটে ফল আসেনি। প্রথম তিন দিনে মাত্র চারটি উইকেট পড়ার পর শেষ দিন ছিল অমিত হাসানের ডাবল সেঞ্চুরির অপেক্ষা। ১৭১ রানে অপরাজিত থেকে দিন শুরু করা সিলেটের এই ব্যাটসম্যান বাউন্ডারি মেরে পূর্ণ করেন দ্বিশতক। শেষ পর্যন্ত ৩৩৫ বলে ১৬ চার ও ২ ছক্কায় ২০১ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।
অমিতের ডাবল সেঞ্চুরির পর ৬ উইকেটে ৬৩২ রান তুলে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে সিলেট। আগের দিন সেঞ্চুরি পাওয়া আশরাফুল হাসান করেন ১১৪ রান। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি অমিতের তৃতীয় ডাবল সেঞ্চুরি। টানা তৃতীয় মৌসুমে এই কীর্তি গড়লেন তিনি। বাংলাদেশের সপ্তম ব্যাটসম্যান হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তিনটি ডাবল সেঞ্চুরির মালিক হলেন সিলেটের এই ব্যাটার।
জবাবে খুলনা প্রথম ইনিংসে ৭ উইকেটে ১৯৯ রান তোলার পর দুই দল ড্র মেনে নেয়। মোহাম্মদ মিঠুন ৬১ এবং আফিফ হোসেন ৫০ রান করেন। ম্যাচসেরা হয়েছেন অমিত হাসান। চার ম্যাচে দুই জয় ও দুই ড্রয়ে ২১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে খুলনা। ১৪ পয়েন্ট নিয়ে তিনে সিলেট।
সিলেটে রংপুর ও বরিশালের ম্যাচেও শেষ দিনে ব্যাটসম্যানদের দাপট অব্যাহত ছিল। প্রথম ইনিংসে রংপুরের ৪০২ রানের জবাবে বরিশাল ৯ উইকেটে ৪৪৩ রান করে ইনিংস ঘোষণা করেছিল। বিনা উইকেটে ৫ রান নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করা রংপুর শেষ দিন ৭৮ ওভারে ৫ উইকেটে ২৮৮ রান তোলে। এরপর ড্র মেনে নেয় দুই দল।
রংপুরের হয়ে ওপেনার মিম মোসাদ্দেক ১২ চার ও এক ছক্কায় ১২১ রান করেন। পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে নবীন ইসলাম ১৪ চার ও এক ছক্কায় করেন ১০৪ রান। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দুজনেরই এটি দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। ম্যাচসেরা হয়েছেন মিম মোসাদ্দেক।
চার ম্যাচে রংপুরের এটি তৃতীয় ড্র। একটি ম্যাচে হারায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের সংগ্রহ ৬ পয়েন্ট, অবস্থান সাত নম্বরে। অন্যদিকে আগের তিন ম্যাচে হারা বরিশাল এবার প্রথম পয়েন্ট পেলেও টেবিলের তলানিতেই রয়েছে।
চতুর্থ রাউন্ড শেষে পয়েন্ট তালিকায় খুলনার আধিপত্য বজায় রয়েছে। ঢাকা বিভাগের প্রথম জয় দলটিকে দুইয়ে তুলেছে। অন্যদিকে তিনটি ম্যাচ ড্র হওয়ায় ব্যাটসম্যানদের ব্যক্তিগত অর্জনই ছিল আলোচনার কেন্দ্রে। অমিত হাসানের ডাবল সেঞ্চুরি, শাহ পরানের ১২ ছক্কার ইনিংস এবং মিম মোসাদ্দেক ও নবীন ইসলামের শতক রাউন্ডটিকে স্মরণীয় করে রেখেছে।



