বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আসন্ন নির্বাচন ঘিরে দেশের ক্রিকেট অঙ্গন এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। নির্বাচন নিয়ে নাটকীয়তা চলছে কয়েকদিন ধরেই। বিশেষ করে ঢাকার ১৫টি ক্লাবকে বাদ দিয়ে প্রাথমিক ভোটার তালিকা প্রকাশের ঘটনায় তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তবে সর্বশেষ প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় ফিরেছে বাদ পড়া সেই ১৫ ক্লাব।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিসিবির সক্রিয় ক্রিকেটাররাও নিজেদের অবস্থান জানাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুখ খুলেছেন। সৌম্য সরকার, তাইজুল ইসলাম, মুমিনুল হক, ইরফান শুক্কুর এবং মোহাম্মদ মিঠুন ফেসবুক পেজে একযোগে একই লেখা পোস্ট করেন। তারা নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান।
এ বিষয়ে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) সভাপতি মিঠুন লেখেন, ‘বিসিবি নির্বাচন ঘিরে যা কিছু ঘটছে, তা কখনোই কাম্য নয়। এটা বাংলাদেশের ক্রিকেট ও ক্রিকেটারদের ভবিষ্যতের বিষয়। আমরা চাই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হোক।’
জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার রুবেল হোসেনও লিখেছেন, ‘বোর্ড প্রেসিডেন্ট আসা-যাওয়া যেন ক্রিকেটের টসের মতো-কখন কার ভাগ্য জোটে বলা মুশকিল। সুন্দর পরিবেশে বোর্ড নির্বাচন হোক, প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকুক, শত্রুতা নয়। জয়ী হোক কেবল ক্রিকেট।’
তবে ক্রিকেটারদের এমন অবস্থানকে ভালোভাবে নেননি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভুঁইয়া। তিনি দাবি করেছেন, পৃথিবীর কোথাও কোনো সক্রিয় ক্রিকেটার বোর্ড নির্বাচনের মতো বিষয়ে প্রকাশ্যে মত দেন না। তার ভাষায়, ‘এটা তাদের কন্ট্রাক্টের শর্ত ভঙ্গের শামিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘ক্রিকেটারদের দলাদলি করানো বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন কিছু নয়। দুই বছর আগে, পাঁচ বছর আগে-এমন ঘটনা আমরা দেখেছি। যারা এটা করাচ্ছেন, তাদের লজ্জা পাওয়া উচিত। একজন ক্রিকেটারকে এনে দলাদলি করানো খুবই দুঃখজনক।’
এর আগে নির্বাচন ঘিরে আদালতে রিট হয়। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের পাঠানো চিঠির কার্যকারিতা হাইকোর্ট স্থগিত করলেও পরে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেন। এরপর নির্বাচন কমিশন ২৩ সেপ্টেম্বর ১৭৭ জন কাউন্সিলরের তালিকা প্রকাশ করে। সর্বশেষ ২৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয় চূড়ান্ত ভোটার তালিকা।
বিসিবির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, বোর্ড পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন তিনটি ক্যাটাগরিতে অনুষ্ঠিত হয়। জেলা ও বিভাগ থেকে ১০ জন পরিচালক, ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে ১২ জন এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও সংস্থা নিয়ে গঠিত ক্যাটাগরি থেকে একজন পরিচালক নির্বাচিত হবেন। পরে মোট ২৫ পরিচালকের ভোটে নির্বাচিত হবেন বিসিবি সভাপতি।
আগামী ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে বিসিবির নির্বাচন।










Discussion about this post