বাংলাদেশের পেস আক্রমণের অন্যতম ভরসা নাহিদ রানা। ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটারের বেশি গতির বোলিং, ধারালো বাউন্সার এবং আগ্রাসী মনোভাবের কারণে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খুব অল্প সময়েই তিনি নিজের পরিচিতি গড়ে তুলেছেন। ইয়ান বিশপ, ওয়াকার ইউনিস ও ওয়াসিম আকরামের মতো কিংবদন্তি ক্রিকেট বিশ্লেষকদের প্রশংসাও কুড়িয়েছেন এই তরুণ পেসার। কিন্তু জিম্বাবুয়ে সফরে পাওয়া পিঠের চোট এখন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজে তাঁর অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে বোলিং করার সময় পিঠের বাঁ পাশে ব্যথা অনুভব করেন নাহিদ রানা। ১৩তম ওভারে রায়ান বার্লের কাছে চার হজম করার পর তিনি সঙ্গে সঙ্গে ফিজিওর সহায়তায় মাঠ ত্যাগ করেন। চোটের কারণে সিরিজের শেষ ম্যাচে আর খেলতে পারেননি। এরপর থেকেই তাঁর চোটের ধরন ও পুনরুদ্ধারের সময় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
নাহিদ রানার চোট প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন বলেন, ‘পেস বোলাররা বোলিংয়ের পর চোটে পড়বে। এটা খেলারই একটা অংশ। কিন্তু এটা দুর্ভাগ্যজনক যদি সে চোটে পড়ে যায়, যদি খেলতে না পারে, সেটা দুর্ভাগ্যজনক। আমরা সবরকম চিন্তাভাবনা করেই কিন্তু এগিয়েছিলাম। যে কারণে আমরা তাকে টেস্টে খেলাইনি। ওয়ানডেতেও সব খেলাইনি।টি-টোয়েন্টিও হয়তো দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টির পর তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে খেলত না। কিন্তু এটা হয়ে গেছে।’
জিম্বাবুয়ে সফরে পেস বিভাগে চোটের মিছিল শুধু নাহিদ রানাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। মোস্তাফিজুর রহমান চোটের কারণে টি-টোয়েন্টি সিরিজে খেলতে পারেননি। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে শরীফুল ইসলামও একটি টেস্টের বাইরে ছিলেন। ফলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের আগে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বেড়েছে।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ সামনে রেখে বিসিবি শুরু থেকেই পেসারদের ওয়ার্কলোড নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেছে বলে জানান সুমন। তিনি বলেন, ‘দেখুন, আমার কাছে এটা নিছকই একটা দুর্ঘটনা। দেখুন নাহিদ রানা, তাসকিন-যারা টেস্টে আমাদের নিয়মিত বোলার, শরীফুল…. যেহেতু আমাদের সামনের যে টেস্ট সিরিজটা আছে সেটা টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ, সেটাকে কিন্তু আমরা সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিচ্ছি। জিম্বাবুয়ের সঙ্গে টেস্ট ম্যাচটা অতটা প্রাধান্য দিইনি।’
সফরে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে নাহিদ রানাকে পর্যায়ক্রমে বিশ্রামও দেওয়া হয়েছিল। তিন ওয়ানডের মধ্যে দুটি এবং তিন টি-টোয়েন্টির মধ্যে দুটি ম্যাচ খেলেন তিনি। প্রথম ওয়ানডেতে ২১ রানে ৬ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে সেরা বোলিংয়ের নতুন রেকর্ডও গড়েন এই ডানহাতি পেসার।
ওয়ার্কলোড ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রধান নির্বাচক বলেন, ‘নাহিদ রানা কিন্তু ৩ ওয়ানডের দুইটা খেলেছে, একটাতে খেলেনি। একটা টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি খেলতে গিয়ে চোটে পড়েছে। আমার মনে হয় যে তার চোট হয়তো আগেই দেখা দিয়েছিল। এটা এখানে না হলে টেস্ট ম্যাচে হয়ে যেত। তো আমরা কিন্তু যথেষ্ট ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট করি এবং আমাদের যারা ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট করে ফাস্ট বোলারদের, তাদের কিন্তু একটা বড় বিল্ডআপ করার ব্যাপার থাকে।’
নাহিদ রানার চোট এবং শরীফুল ইসলামের ফিটনেসের কারণেই এখনো অস্ট্রেলিয়া সফরের দল ঘোষণা করতে পারেনি বিসিবি। একই সঙ্গে পিতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকা ইবাদত হোসেনের ফেরাও নিশ্চিত নয়।
এ প্রসঙ্গে সুমন বলেন, ‘এজন্যই কিন্তু আমরা অপেক্ষা করছি। আমাদের কিন্তু দলটা দিয়ে দেওয়ার কথা ছিল ৫-৬ দিন আগে। আমরা কিন্তু এখন দিতে পারছি না। কারণ, এই চোটের জন্য আমাদের বসে থাকতে হচ্ছে। ইবাদতের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। সে চেষ্টা করছে আগে চলে আসতে। কারণ, ইবাদত আসলে যাওয়ার আগে ভিসা করে যায়নি। তার ভিসার একটা ব্যাপার আছে। যেহেতু সে পিতৃত্বকালীন ছুটিতে আছে, তাই তার পরিবারের একটা ব্যাপার আছে।’
পেসারদের ম্যাচ প্রস্তুতি নিয়েও নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন প্রধান নির্বাচক, ‘আমিও এ ব্যাপারটা নিয়ে এখন অনেক বেশি পরিষ্কার—সেটা হচ্ছে একজন বোলার যখন টেস্ট ম্যাচ খেলতে যায়, তার যেমন বেশি ওভার ওয়ার্কলোডের দুশ্চিন্তা, যদি কম বোলিং করে সেটাও আসলে দুশ্চিন্তা। নাহিদ রানা, তাসকিন এদের যাওয়ার আগেই কিন্তু কিছু ম্যাচ খেলে যেতেই হতো। নির্দিষ্ট সংখ্যক ওভার বল করতেই হতো। সেটাই কিন্তু যাচাই করে দেখা হয়েছিল। এটা নিছকই একটা দুর্ঘটনা।’
আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনে শুরু হবে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার প্রথম টেস্ট। দ্বিতীয় টেস্ট শুরু ২২ আগস্ট।










Discussion about this post