ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচ, সামনে তুলনামূলক দুর্বল শক্তির শ্রীলঙ্কা। জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ১৬৬ রান। কিন্তু সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেই যেন ম্যাচ থেকে ছিটকে গেল বাংলাদেশ। একের পর এক ব্যাটসম্যানের ব্যর্থতায় ১৭.৩ ওভারে মাত্র ১০২ রানে অলআউট হয়ে ৬৩ রানে হেরে গেল লিটন দাসের দল। ফলে এশিয়ান গেমস ক্রিকেট থেকে কোনো পদক ছাড়াই দেশে ফিরতে হচ্ছে বাংলাদেশ পুরুষ দলকে!
আজ বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়ের শুরু প্রথম ওভার থেকেই। ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান দ্রুত ফিরে যাওয়ার পর ক্রিজে আসেন অধিনায়ক লিটন দাস। কিন্তু দলের প্রয়োজনের মুহূর্তে তিনিও দাঁড়াতে পারেননি। ইনিংসের প্রথম বলেই বোল্ড হয়ে গোল্ডেন ডাক নিয়ে সাজঘরে ফেরেন লিটন। গত ম্যাচেও তার ব্যাট থেকে এসেছিল মাত্র ২ রান। সর্বশেষ পাঁচ আন্তর্জাতিক ইনিংসের চারটিতেই শূন্য রানে আউট হয়েছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক।
টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যানের এমন ব্যর্থতার পর ম্যাচে ফেরার জন্য বড় জুটি প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু সেই জুটি আর হয়নি। একের পর এক উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। চারজন ব্যাটসম্যান কোনো রান না করেই ফিরে যান। শেষ পর্যন্ত দলের কোনো ব্যাটসম্যানই ৩০ রান করতে পারেননি।
নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে নামা নাসুম আহমেদ দলের হয়ে সর্বোচ্চ ২৬ রান করেন। ইয়াসির আলী রাব্বি করেন ২১ এবং পারভেজ হোসেন ইমন করেন ২০ রান। তাদের ছোট ছোট ইনিংস বাংলাদেশের সংগ্রহ একশ ছাড়ালেও পরাজয়ের ব্যবধান কমানো ছাড়া আর কিছু করতে পারেনি।
শ্রীলঙ্কার বোলারদের মধ্যে নুয়ান থুসারা, থারিন্দু রত্নায়েকে, বিজয়াকান্ত ভিয়াসকান্ত ও ওয়ানুজা সাহান দুটি করে উইকেট নেন। বাংলাদেশের ইনিংস গুটিয়ে যায় ১০২ রানে।
এর আগে শ্রীলঙ্কার ইনিংসের শুরুটা অবশ্য বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রণেই ছিল। টস জিতে ব্যাটিং নেওয়া লঙ্কানরা মাত্র ২১ রানেই হারায় চার উইকেট। বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণের সামনে বেশ কিছুটা সময় রান তুলতে হিমশিম খায় তারা।
আলিস আল ইসলাম তিন ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে একটি উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের হয়ে শুরুটা ভালো করেন। তার করা ১৮ বলের ১২টিই ছিল ডট। শেখ মেহেদী হাসানও কার্যকর ছিলেন। চার ওভারে ১৯ রান দিয়ে তিনি নেন দুটি উইকেট।
তবে ১৩ ওভার পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে থাকা শ্রীলঙ্কা শেষ দিকে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেয়। ১৪তম ওভারে বল হাতে আসেন মুস্তাফিজুর রহমান। শুরুটা তার জন্য দুঃস্বপ্নের মতো হয়। প্রথম ওভারেই ২৫ রান দেন তিনি। পরের ওভারেও আসে ১১ রান। রিশাদ হোসেনের শেষ ওভার থেকেও ২১ রান তুলে নেয় শ্রীলঙ্কা।
১৩ থেকে ১৮ ওভারের মধ্যে ৮৩ রান যোগ করে শ্রীলঙ্কা। একসময় ১৪৭ রানে পাঁচ উইকেট হারানো দলটি শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৬৫ রান সংগ্রহ করে।
শ্রীলঙ্কার হয়ে সবচেয়ে বড় ইনিংস খেলেন থারিন্দু রত্নায়েকে। ৩২ বলে ৬৫ রান করেন তিনি। সাহান আরাচিগের ব্যাট থেকে আসে ৩৩ রান। বাংলাদেশের হয়ে মেহেদী হাসান, সাইফ হাসান ও মুস্তাফিজুর রহমান দুটি করে উইকেট নেন। রিশাদ হোসেন নেন একটি।
শ্রীলঙ্কার ইনিংসের শেষ দিকে রান আটকাতে না পারলেও বাংলাদেশকে জয়ের সুযোগ করে দিয়েছিল বোলাররা। প্রয়োজন ছিল শুধু ব্যাটসম্যানদের দায়িত্বশীল ব্যাটিং। কিন্তু শুরুতেই তিন টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানের শূন্য রানে ফেরার পর সেই সুযোগ আর কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ।
শেষ পর্যন্ত ৬৩ রানের হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশকে। শ্রীলঙ্কা পায় ব্রোঞ্জ পদক, আর বাংলাদেশকে ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে। এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে বাংলাদেশের পুরুষ দলের ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো পদক ছাড়া দেশে ফেরার ঘটনা ঘটল।



