নাগোয়ার নিশিন করোগি স্পোর্টস পার্কে তখন বাংলাদেশের সামনে ফাইনালে ওঠার হাতছানি। বৃষ্টির কারণে ম্যাচ নেমে এসেছিল ১৩ ওভারে। স্লো উইকেটে ১১২ রানের লক্ষ্যও ছিল কম চ্যালেঞ্জিং নয়। বোলিংয়ে শুরুটা ছিল বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণেই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত একটি ভয়ংকর ওভারই বদলে দিল পুরো ম্যাচের গল্প। পাকিস্তানের বিপক্ষে ৬ উইকেটের হারে এশিয়ান গেমসে সোনা জয়ের স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল লিটন দাসের দলের।
আজ টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ১৩ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১১১ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪২ রান করেন তাওহীদ হৃদয়। সাইফ হাসান যোগ করেন ১৯ রান। মোসাদ্দেক হোসেন করেন ১১, আর শেষ দিকে মেহেদী হাসান ৮ রানে অপরাজিত থাকেন। পাকিস্তানের মুকিম নেন ৩ উইকেট, আরাফাতের শিকার ২ উইকেট।
নাগোয়ার স্লো উইকেটে বাংলাদেশের সংগ্রহটা যে একেবারে সহজ লক্ষ্য নয়, ম্যাচের শুরুতেই তার আভাস পাওয়া যাচ্ছিল। রান তাড়ায় পাকিস্তানও শুরুতে খুব স্বচ্ছন্দ ছিল না। বাংলাদেশের স্পিনাররা চাপ তৈরি করছিলেন। চারজন স্পিনার নিয়ে মাঠে নামলেও অধিনায়ক লিটন দাস ব্যবহার করেননি মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে। অন্যদিকে বাংলাদেশের সবচেয়ে অভিজ্ঞ পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের ওপর ছিল বড় দায়িত্ব।
কিন্তু সেই মুস্তাফিজই শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন প্রতিপক্ষের পক্ষে।
নিজের দ্বিতীয় ওভারে পাকিস্তানের ব্যাটারদের সামনে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ হারান মুস্তাফিজ। ওই ওভারে আসে পাঁচটি বাউন্ডারি, মোট ২৩ রান। দুই ওভার মিলিয়ে তিনি দেন ৪১ রান। পাকিস্তানের রান তাড়ায় সেটিই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় বাঁকবদল। মাত্র ১০ বল পরেই পাকিস্তানের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল মাত্র কয়েক রান।
শেষ পর্যন্ত আব্দুল সামাদের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের প্রতিরোধ ভেঙে পড়ে। মাত্র ১৫ বলে অপরাজিত ৩০ রান করেন সামাদ। তাঁর সঙ্গে হাসান ২৭ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। ১১.৩ ওভারেই ১১২ রান তুলে নেয় পাকিস্তান। হাতে তখনও ছিল ৬ উইকেট।
ম্যাচ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নাগোয়ার আশিন সিটিতে থাকা বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যেও নেমে আসে হতাশা। লিটন-মুস্তাফিজদের জয় দেখতে তারা জড়ো হয়েছিলেন। পাকিস্তানকে হারাতে পারলে বাংলাদেশের ফাইনাল নিশ্চিত হতো, সঙ্গে অন্তত রৌপ্য পদকও নিশ্চিত হয়ে যেত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্নের বদলে এখন লড়তে হবে ব্রোঞ্জের জন্য।
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের পদক-ভাগ্যও তাই আপাতত ঝুলে রইল ক্রিকেটের ওপর। এবারের আসরে এখন পর্যন্ত দেশের একমাত্র পদক এসেছে উশু থেকে, ব্রোঞ্জ। ক্রিকেটে অবশ্য আরেকটি সুযোগ থাকছে। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার ম্যাচে যে দল হারবে, তাদের বিপক্ষেই ৩ অক্টোবর সকালে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে নামবে বাংলাদেশ।



