ক্রিকেটের নিলাম বলতেই এত দিন সামনে এসেছে অর্থের হিসাব। যে দলের হাতে যত বেশি অর্থ, পছন্দের ক্রিকেটারকে দলে ভেড়ানোর সুযোগও তত বেশি। নিলামের টেবিলে একের পর এক ডাক, আর শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি অর্থ খরচ করতে পারা দলই পেয়ে যায় কাঙ্ক্ষিত ক্রিকেটারকে। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নতুন টুর্নামেন্ট ডি থ্রিতে সেই পরিচিত ছবিটা দেখা যাবে না। এখানে ক্রিকেটার দলে নেওয়ার লড়াই হবে, তবে টাকার বিনিময়ে নয়-পয়েন্টের হিসাবে।
ডি থ্রি টুর্নামেন্টের জন্য অভিনব নিলাম পদ্ধতির পরিকল্পনা করেছে বিসিবি। ক্রিকেট অপারেশন্স ইনচার্জ শাহরিয়ার নাফীস জানিয়েছেন, এই টুর্নামেন্টে ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি ও ডেইলি অ্যালাউন্স আগে থেকেই নির্ধারিত থাকবে। ফলে একজন ক্রিকেটারকে দলে নিতে গিয়ে অন্য দলের সঙ্গে অর্থের প্রতিযোগিতায় নামার সুযোগ থাকছে না।
নাফীস বলেন, ‘ডি থ্রি টুর্নামেন্ট নিয়ে খুব সফলভাবে দুটি প্রোগ্রাম করেছি। দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এই টুর্নামেন্টে ম্যাচ ফি ও ডেইলি এলাউন্স নির্ধারিত।’
অর্থের পরিবর্তে পয়েন্ট ব্যবহারের কারণেই ডি থ্রির নিলাম হয়ে উঠতে পারে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে ভিন্নধর্মী একটি আয়োজন। নাফীস জানিয়েছেন, প্রচলিত নিলাম ব্যবস্থার মতো এখানে বেশি অর্থ ডাকলেই বেশি পারিশ্রমিক পাওয়ার বিষয়টি থাকবে না। বরং প্রতিটি দলের জন্য নির্দিষ্ট পয়েন্ট বরাদ্দ থাকবে এবং সেই সীমার মধ্যেই পুরো স্কোয়াড সাজাতে হবে।
নাফীস বলেন, ‘অকশনের যে সিস্টেম, তা পয়েন্টের সিস্টেমে। অকশনে যত বেশি ডাকা যায় তত পেমেন্ট, এখানে এমন থাকছে না। পয়েন্ট অকশন হবে।’
নিলামের মঞ্চে কোনো দল চাইলে নিজের সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করতে পারবে না। প্রতিটি দলের জন্য নির্ধারিত থাকবে একটি পয়েন্ট পার্স। সেই পার্স থেকেই বিভিন্ন ক্রিকেটারের জন্য ডাক দিতে হবে। একজন ক্রিকেটারকে নিতে বেশি পয়েন্ট খরচ করলে অন্য ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে কম পয়েন্টে হিসাব মেলাতে হবে। ফলে দল সাজানোর ক্ষেত্রে অর্থের চেয়ে কৌশল এবং পয়েন্ট ব্যবস্থাপনাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
বিষয়টি পরিষ্কার করে নাফীস বলেন, ‘প্রতিটি দলের পার্স বেধে দেওয়া থাকবে, যে এত পয়েন্টের বেশি কেউ ডাকতে পারবে না। দলগুলোকে ঐ পয়েন্টের মধ্যে থেকেই দল গঠন করতে হবে।’
ডি থ্রির প্রতিটি দলকে শেষ পর্যন্ত ২৩ জনের স্কোয়াড গঠন করতে হবে। এর মধ্যে আইকন ক্রিকেটার ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে। ফলে নিলামের মূল আকর্ষণ হবে বাকি ২২ ক্রিকেটারকে দলে ভেড়ানোর লড়াই। এই ২২ ক্রিকেটারের জন্যই দলগুলোকে নিজেদের নির্ধারিত পয়েন্টের সর্বোচ্চ কার্যকর ব্যবহার করতে হবে।
নাফীস জানিয়েছেন, ‘২৩ জন খেলোয়াড় নিয়ে দল করতে হবে। আইকন নেওয়া হয়েছে, বাকি ২২ জন নিবে দলগুলো।’



