বাংলাদেশ ক্রিকেটে নেতৃত্বের পরিবর্তন যেন এখন নিয়মিত আলোচনার বিষয়। একসময় তিন ফরম্যাটেই একজন অধিনায়ক রাখার নীতি অনুসরণ করলেও গত দুই বছরে সেই অবস্থান থেকে কয়েকবার সরে এসেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
এবার সেই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় আবারও ওয়ানডে দলের নেতৃত্বে নতুন মুখ দেখা যেতে পারে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ক্রিকবাজের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক লিটন দাসকে।
এই সম্ভাব্য সিদ্ধান্তকে কেবল একজন অধিনায়ক বদলের ঘটনা হিসেবে দেখলে ভুল হবে। বরং এটি বিসিবির দীর্ঘমেয়াদি নেতৃত্ব পরিকল্পনার অংশ বলেই মনে হচ্ছে। বোর্ডের ধারণা, টেস্ট ও সীমিত ওভারের ক্রিকেটের চাহিদা ভিন্ন। তাই টেস্টে নাজমুল হোসেন শান্ত এবং সীমিত ওভারের দুই সংস্করণে একজন অধিনায়ক রাখলে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহজ হবে। সেই জায়গায় লিটনের নামই সবচেয়ে বেশি আলোচনায়।
মঙ্গলবারের বোর্ড সভাকে ঘিরে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। একইসঙ্গে সহ-অধিনায়ক হিসেবেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত রয়েছে। টি-টোয়েন্টিতে এই দায়িত্ব পালন করা তাওহীদ হৃদয় ওয়ানডেতেও একই দায়িত্ব পেতে পারেন। জিম্বাবুয়ে সফরে লিটনের অনুপস্থিতিতে তার নেতৃত্বে সিরিজ জেতা বোর্ডের আস্থাও বাড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, মিরাজের নেতৃত্বের মূল্যায়ন করলে ছবিটি পুরোপুরি একপেশে নয়। দায়িত্ব নেওয়ার পর শুরুতে দল প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। পরে কিছু ইতিবাচক পারফরম্যান্স এলেও সর্বশেষ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ হার আবারও সমালোচনার জন্ম দেয়। শুধু ফল নয়, ম্যাচ পরিচালনা, বোলিং পরিবর্তন এবং চাপের মুহূর্তে সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
পরিসংখ্যানও মিশ্র বার্তা দিচ্ছে। এখন পর্যন্ত মিরাজের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ২৪টি ওয়ানডে খেলেছে। এর মধ্যে জয় ১০টি, হার ১৩টি এবং একটি ম্যাচ টাই হয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের জায়গা দেশের বাইরে পারফরম্যান্স। বিদেশের মাটিতে ১৩টি ওয়ানডেতে মাত্র দুটি জয় এসেছে, যা নেতৃত্বের কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনাকে আরও জোরালো করেছে।
তবে প্রশ্ন হলো, নেতৃত্ব পরিবর্তন কি সমস্যার স্থায়ী সমাধান? গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ জাতীয় দল একাধিকবার অধিনায়ক বদল করেছে। তামিম ইকবাল, নাজমুল হোসেন শান্ত, মেহেদী হাসান মিরাজ-প্রত্যেকেই কোনো না কোনো সময় ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। এখন যদি লিটনের হাতেও দায়িত্ব যায়, তাহলে অল্প সময়ের মধ্যে এটি হবে আরেকটি বড় পরিবর্তন। ফলে নতুন অধিনায়কের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে শুধু ম্যাচ জেতা নয়, বরং নেতৃত্বে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা।
ক্রিকবাজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নাজমুল হোসেন শান্তকে আবারও ওয়ানডে অধিনায়ক করার বিষয়টি বিবেচনায় ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত টেস্ট ও সীমিত ওভারের নেতৃত্ব আলাদা রাখার ভাবনাই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।









Discussion about this post