ব্যাট হাতে প্রত্যাশামতো রান আসেনি। একটা সময় মনে হচ্ছিল, এশিয়া কাপে প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশকে হয়তো কঠিন পরীক্ষাই দিতে হবে। কিন্তু রানটা যখন বোলারদের হাতে গেল, তখন বদলে গেল পুরো গল্প। একের পর এক আঘাত, স্পিনারদের ঘূর্ণি আর ইন্দোনেশিয়ার ব্যাটারদের অসহায় আত্মসমর্পণে শেষ পর্যন্ত বড় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল।
দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সোমবার এশিয়া কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইন্দোনেশিয়াকে ৭১ রানে হারিয়েছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। আগে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ১২৯ রান করেছিল বাংলাদেশ। জবাবে মাত্র ৫৮ রানেই অলআউট হয়ে যায় এশিয়া কাপে প্রথমবার খেলতে আসা ইন্দোনেশিয়া।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশের ইনিংস শুরু থেকেই আটকে ছিল। তৃতীয় ওভারেই ৭ বলে ৮ রান করে ফিরে যান জুয়াইরিয়া ফেরদৌস জয়িতা। এরপর দিলারা আক্তার দোলা ও সোবহানা মোস্তারি কিছুটা সামাল দেন। দ্বিতীয় উইকেটে ৪০ রান যোগ করতে এই জুটি খেলেছে ৪৩ বল।
৪ চারে ৩১ বলে ২৭ রান করে দিলারা ফিরলে আবারও চাপে পড়ে বাংলাদেশ। এরপর অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতিকে সঙ্গে নিয়ে ২৬ বলে ২৬ রান যোগ করেন সোবহানা। ১৪তম ওভারে ১১ বলে ১০ রান করে জ্যোতি আউট হলে বাংলাদেশের ইনিংস আবারও থমকে যায়।
সোবহানা অবশ্য শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যান। ২ চার ও ১ ছক্কায় ৪২ বলে ৪০ রান করেন তিনি। তবে বাংলাদেশের স্কোরকে লড়াইয়ের মতো জায়গায় নিয়ে যাওয়ার আসল কাজটি করেন স্বর্ণা আক্তার।
পাঁচ নম্বরে নেমে মুহূর্তেই বদলে দেন ইনিংসের গতি। মাত্র ১৮ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ৩১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন স্বর্ণা। তার ঝোড়ো ব্যাটিংয়েই শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ১২৯ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। ইন্দোনেশিয়ার হয়ে অফ স্পিনার নি কাদেক আরিয়ানি ২৮ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট।
রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই বাংলাদেশের বোলিংয়ের সামনে পথ হারায় ইন্দোনেশিয়া। পাওয়ার প্লের মধ্যেই দুই উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে দেন মারুফা আক্তার। এরপর দায়িত্বটা কাঁধে তুলে নেন বাংলাদেশের স্পিনাররা।
সানজিদা আক্তার মেঘলা ও নাহিদা আক্তারের বাঁহাতি স্পিনের সঙ্গে যোগ দেন লেগ স্পিনার ফাহিমা খাতুন। বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণের সামনে ইন্দোনেশিয়ার ব্যাটারদের মনে হয়েছে যেন রান নয়, উইকেট বাঁচানোই কঠিন।
নাহিদা ছিলেন সবচেয়ে সফল। ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে তুলে নেন ৩ উইকেট। আর শুরুতেই ধাক্কা দেওয়া মারুফা ৩ ওভারে একটি মেডেনসহ মাত্র ৬ রান খরচ করে নেন ২ উইকেট। মেঘলা ও ফাহিমাও তুলে নেন একটি করে উইকেট।
ইন্দোনেশিয়ার ব্যাটিংয়ের চিত্রটা বোঝাতে একটি পরিসংখ্যানই যথেষ্ট। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ ১২ রান করেন মারিয়া করাজোন। তার বাইরে আর কোনো ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ৫৮ রানেই থামে তাদের ইনিংস।
বাংলাদেশের ১২৯ রান তখন আর ছোট কোনো পুঁজি নয়; বরং বোলারদের দাপটে সেটিই হয়ে ওঠে বিশাল ব্যবধানের জয়ের ভিত্তি।
এশিয়া কাপের শুরুটা তাই ব্যাটিংয়ের নিখুঁত প্রদর্শনী দিয়ে না হলেও বোলারদের দাপটে নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিয়েই করল বাংলাদেশ। সামনে অবশ্য আরও কঠিন পরীক্ষা। একই মাঠে আগামী রোববার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে নিগার সুলতানার দল। সেখানে ব্যাটিংয়ের দুর্বলতা কাটিয়ে বোলিংয়ের এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই হবে বাংলাদেশের বড় চ্যালেঞ্জ।



