প্রতিশোধের মঞ্চে জয় তুলে নিয়ে ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখেছিল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হলো না। মেয়েদের এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টির আগের আসরের সেমিফাইনালে ভারতের কাছে হেরে বিদায় নেওয়া বাংলাদেশ এবারও একই প্রতিপক্ষের কাছে আটকে গেল। গতকাল দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম সেমিফাইনালে ভারত ৪০ রানে হারিয়েছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দলকে। এই জয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে ভারত।
গত রাতে জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য ছিল ১৫০ রান। চলতি টুর্নামেন্টে আগের তিন ম্যাচে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ ছিল ১২৯ রান, ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে। ফলে ভারতের বিপক্ষে দেড় শ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে হলে ব্যাটিংয়ে নিজেদের সেরাটা দিতে হতো বাংলাদেশকে। কিন্তু বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারার পর ব্যাটিংয়েও ব্যর্থ হয়েছে দলটি।
১৫০ রানের লক্ষ্য তাড়ায় বাংলাদেশ শুরুটা অবশ্য খারাপ করেনি। ওপেনিংয়ে দিলারা আক্তার ও জুয়াইরিয়া ফেরদৌস মিলে গড়েন ২৬ রানের জুটি। ষষ্ঠ ওভারে ব্যক্তিগত ১৪ রানে জুয়াইরিয়া ফেরদৌস আউট হলে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি। কিছুক্ষণ পর দিলারাও ফিরে যান ২৪ রান করে। ৩৫ রানে দুই উইকেট হারানোর পর সোবহানা মোস্তারি ও অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি মিলে ইনিংসে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন।
দুজনের ৩৪ বলে ৩১ রানের জুটি কিছুটা আশার আলো দেখিয়েছিল বাংলাদেশকে। কিন্তু এরপর দ্রুতই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারায় দলটি। মাত্র ১৭ রানের ব্যবধানে বাংলাদেশ হারায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। সোবহানা মোস্তারি ১৮, নিগার সুলতানা জ্যোতি ১৯ এবং শারমিন আক্তার মাত্র ১ রান করে সাজঘরে ফেরেন। এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বাংলাদেশ।
স্বর্ণা আক্তার শেষ পর্যন্ত ১৮ বলে একটি চার ও একটি ছক্কায় ২২ রান করে অপরাজিত থাকলেও তা দলের পরাজয় ঠেকানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। ফাহিমা খাতুন করেন ১৪ বলে ১৪ রান। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের ইনিংস থামে ১০৯ রানে। ভারতের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন দীপ্তি শর্মা। ২৬ রান দিয়ে তিনি নেন ৩ উইকেট।
এর আগে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে শুরুতেই চাপ তৈরির সুযোগও পেয়েছিল বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে সুলতানা খাতুনের স্পিনে মাত্র ২ রান করে ফিরে যান ভারতের ওপেনার স্মৃতি মান্ধানা। তখন ভারতের স্কোর ছিল ৯ রান।
এরপর শেফালি ভার্মাকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন প্রতিকা রাওয়াল। দুজনের ৪৪ বলে ৫০ রানের জুটি ভারতকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দেয়। দশম ওভারে ২৪ বলে ২০ রান করা প্রতিকা রাওয়ালকে রাবেয়া খাতুন ফিরিয়ে দিলে ভাঙে এই জুটি। তখন ভারতের সংগ্রহ ছিল ২ উইকেটে ৫৯ রান।
তবে ভারতের ইনিংসের মূল ভিত গড়ে দেন শেফালি ভার্মা। একাধিকবার জীবন পাওয়ার পর বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চড়াও হন তিনি। শেষ পর্যন্ত সুলতানা খাতুনের স্পিনে আউট হওয়ার আগে ৪০ বলে ৬৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন শেফালি। তাঁর ইনিংসে ছিল সাতটি চার ও তিনটি ছক্কা; স্ট্রাইক রেট ছিল ১৬০।
শেফালির পাশাপাশি হারমানপ্রীত কৌর ২৮ বলে ২৪ রান করে অপরাজিত থাকেন। রিচা ঘোষের ব্যাট থেকে আসে ২১ রান। বাংলাদেশের হয়ে সুলতানা খাতুন ৩৯ রান দিয়ে নেন দুটি উইকেট। মারুফা আক্তার, রাবেয়া খাতুন ও নাহিদা আক্তার নেন একটি করে উইকেট।
বাংলাদেশের পরাজয়ের পেছনে ফিল্ডিং ব্যর্থতাও বড় ভূমিকা রেখেছে। ভারতের ইনিংনের তৃতীয় ওভারে মারুফা আক্তারের বলে মিড-অনে শেফালি ভার্মার ক্যাচ মিস করেন বাংলাদেশের ফিল্ডার। এর আগে দ্বিতীয় ওভারেও জীবন পেয়েছিলেন শেফালি। সুলতানা খাতুনের বলে বাউন্ডারি লাইনের কাছাকাছি তাঁর ক্যাচ নিতে পারেননি ফাহিমা খাতুন। পরে শেফালিকে রানআউট করার সুযোগও কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। একাধিকবার জীবন পাওয়া শেফালিই শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচের অন্যতম পার্থক্য গড়ে দেন।
ভারতের বিপক্ষে আগের আসরের সেমিফাইনালের হারের প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ এবারও কাজে লাগাতে পারল না বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ে বড় রান তুলতে না পারা, ফিল্ডিংয়ে একের পর এক সুযোগ নষ্ট করা এবং ভারতের ইনিংসের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বোলিংয়ে চাপ ধরে রাখতে না পারার খেসারত দিয়ে সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হলো নিগার সুলতানাদের।



