আত্মবিশ্বাসী শুরুটা শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারল না বাংলাদেশ। কুলিং ব্রেকের পর ছন্দ হারিয়ে সিঙ্গাপুরের চাপের মুখে পড়ে গোল হজম করল থমাস ডুলির দল। এরপর দ্বিতীয়ার্ধজুড়ে সমতা ফেরানোর চেষ্টা করেও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি তারা। হ্যারিস স্টুয়ার্টের একমাত্র গোলে সিঙ্গাপুরের কাছে ০-১ ব্যবধানে হেরে ফিফা আসিয়ান কাপে টানা দ্বিতীয় পরাজয় বরণ করল বাংলাদেশ।
আজ জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুটা অবশ্য বাংলাদেশের জন্য ছিল আশাব্যঞ্জক। প্রথম ২৫ মিনিটে মাঝমাঠে সিঙ্গাপুরের সঙ্গে সমানে লড়াই করেছে বাংলাদেশ। রাকিব হোসেন ও সুকি ইতুফুসার মাধ্যমে কয়েকবার আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করলেও শেষ মুহূর্তে গিয়ে সেই আক্রমণগুলো আর ধারালো হয়ে উঠতে পারেনি।
৬ মিনিটেই হলুদ কার্ড দেখেন শমিত সোম। এরপর ১৭ মিনিটে সিঙ্গাপুরের আক্রমণ থেকে বিপদ তৈরি হলে বাংলাদেশকে রক্ষা করেন গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ। বাঁ প্রান্ত থেকে আসা ক্রসে ইলহান ফান্দির শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন তিনি।
প্রথমার্ধের মাঝামাঝি পর্যন্ত বাংলাদেশ নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেললেও কুলিং ব্রেকের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে সিঙ্গাপুরের হাতে চলে যায়। ৩২ মিনিটে হ্যারিস স্টুয়ার্টকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন জিদান ইউসুফ। সেই ফ্রি-কিক থেকে জ্যাকব উইলিয়ামের হেড গোলমুখে যাচ্ছিল। আবারও বাধা হয়ে দাঁড়ান শ্রাবণ। তাঁর প্রতিহত করা বল থেকে তৈরি হওয়া পরবর্তী বিপদও সামাল দেন তারিক কাজী।
তবে দুই মিনিটের ব্যবধানে সিঙ্গাপুরের চাপ আর ঠেকাতে পারেনি বাংলাদেশ। ৩৫ মিনিটে বাঁ প্রান্ত দিয়ে নুর আদম আব্দুল্লাহর বাড়ানো ক্রসে দারুণ হেড করেন হ্যারিস স্টুয়ার্ট। কাছ থেকে নেওয়া সেই হেডে শ্রাবণকে পরাস্ত করে বল জড়িয়ে যায় বাংলাদেশের জালে।
গোল হজমের পর আরও চাপে পড়ে বাংলাদেশ। ৩৭ মিনিটে সিঙ্গাপুরের একটি শট বাংলাদেশের ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। প্রথমার্ধে বলের দখলে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকলেও লক্ষ্যে কোনো শট নিতে পারেনি। সিঙ্গাপুর সেখানে পাঁচটি শট নেয়, যার চারটি ছিল লক্ষ্যে।
বিরতির পর গোল শোধের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামে বাংলাদেশ। কিন্তু সিঙ্গাপুরের রক্ষণভাগ ভেদ করে পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়ে। ৪৭ মিনিটে শাহ শাহিরানের দূরপাল্লার শট কর্নারের বিনিময়ে ঠেকিয়ে দেন শ্রাবণ। এরপর ৫৮ মিনিটে শেখ মোরসালিনকে তুলে মিনহাজুল করিম স্বাধীনকে মাঠে নামান ডুলি।
৬৪ মিনিটে সমতা ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। সাদ উদ্দিনের ডান প্রান্তের ক্রসে হেড করার চেষ্টা করেন শমিত সোম। কিন্তু বল চলে যায় বারের ওপর দিয়ে।
শেষ ২০ মিনিটে আক্রমণের গতি বাড়াতে একসঙ্গে দুটি পরিবর্তন করেন ডুলি। শমিত সোমের জায়গায় সোহেল রানা জুনিয়র এবং সুকি ইতুফুসার বদলে মাঠে নামেন ফাহামিদুল ইসলাম। এরপর কয়েকটি আক্রমণ তৈরি হলেও সিঙ্গাপুরের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি বাংলাদেশ।
৭৯ মিনিটে ফাহামিদুলের ক্রস থেকে রাকিব হোসেনের হেড সিঙ্গাপুরের হ্যারিস স্টুয়ার্টের গায়ে লেগে কর্নারে যায়। সেটিও কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। শেষ বাঁশি পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়েও সমতাসূচক গোলের দেখা না পাওয়ায় ১-০ ব্যবধানের হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় লাল-সবুজের দলকে।
বাংলাদেশের জন্য এই পরাজয়ের সঙ্গে ফিরে এসেছে পুরোনো হতাশাও। গত মার্চে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ, সেই ম্যাচেও জয়সূচক গোল করেছিলেন হ্যারিস স্টুয়ার্ট। এবারও তাঁর গোলেই বাংলাদেশের পরাজয়।
মালয়েশিয়ার কাছে প্রথম ম্যাচে ০-৩ গোলে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও হারায় দুই ম্যাচে কোনো পয়েন্ট ছাড়াই ‘এ’ গ্রুপের তলানিতে রয়েছে বাংলাদেশ। এক জয় ও এক হার নিয়ে তিন পয়েন্টে সিঙ্গাপুর তৃতীয়। সমান তিন পয়েন্টে ইন্দোনেশিয়া দ্বিতীয় এবং মালয়েশিয়া রয়েছে শীর্ষে।
১ অক্টোবর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ইন্দোনেশিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। তবে সিঙ্গাপুরের কাছে এই হারের পর শিরোপার লড়াই থেকে ইতোমধ্যেই ছিটকে গেছে ডুলির দল। এখন শেষ ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য মূলত টুর্নামেন্টে নিজেদের অবস্থান ও সম্মান ধরে রাখার লড়াই।



