সামনে এশিয়া কাপ ও ওয়ানডে বিশ্বকাপ। বড় দুই টুর্নামেন্টের আগে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজকে নিজেদের প্রস্তুতি ঝালিয়ে নেওয়ার বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক লিটন দাস। তার বিশ্বাস, সামর্থ্য অনুযায়ী সেরা ক্রিকেট খেলতে পারলে এই টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়া সম্ভব। আজ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের ত্রিদেশীয় সিরিজের অভিযান।
সিরিজের গুরুত্ব তুলে ধরে লিটন বলেন, ‘অধিনায়ক হিসেবে এটা আমার জন্য বড় সুযোগ।
সামনে আমাদের এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপ আছে। এশিয়া কাপ বাংলাদেশে হবে। এই ত্রিদেশীয় সিরিজটা তাই আমাদের জন্য সেরা প্রস্তুতির সুযোগ। এশিয়া কাপ ও ত্রিদেশীয় সিরিজের মধ্যে মিল আছে। দুই ক্ষেত্রেই চাপ থাকবে, ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। আমরা ভালো ক্রিকেট খেলতে পারলে অবশ্যই চ্যাম্পিয়ন হতে পারি।’
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক দিক দেখছেন অধিনায়ক। তার মতে, দলে প্রতিভাবান ও অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের সমন্বয় রয়েছে। সবাই নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারলে বিশ্বকাপেও ভালো কিছু করা সম্ভব। লিটন বলেন, ‘আমরা বেশ কয়েকটি ভালো সিরিজ খেলেছি। বিশেষ করে ঘরের মাঠে আমাদের খেলার ধরন ভালো ছিল। এই দলে অনেক প্রতিভাবান ক্রিকেটার আছে, পাশাপাশি অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররাও আছেন। আমরা যদি নিজেদের সেরা ক্রিকেট খেলতে পারি, তাহলে সবকিছুই সম্ভব।’
তবে ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের ইতিহাস খুব সমৃদ্ধ নয়। ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে আয়ারল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নিয়ে আয়োজিত ত্রিদেশীয় সিরিজে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। সেটিই এই সংস্করণে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য শিরোপা জয়। এর বাইরে ২০১৮ সালের নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে উঠলেও ভারতের কাছে শেষ মুহূর্তে হেরে যায় দলটি।
ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের সাফল্য কম হওয়ার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে এই ধরনের টুর্নামেন্টে অভিজ্ঞতার ঘাটতির কথা তুলে ধরেছেন লিটন। তাঁর মতে, দ্বিপক্ষীয় সিরিজের তুলনায় ত্রিদেশীয় সিরিজে চাপের ধরন আলাদা। এখানে একটি ম্যাচে হারও ফাইনালে ওঠার সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। রান রেটের হিসাবও হয়ে উঠতে পারে গুরুত্বপূর্ণ।
এ প্রসঙ্গে লিটন বলেন, ‘আমরা খুব বেশি ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলি না। আমি অনেক দিন ধরে খেলছি, কিন্তু এই ধরনের টুর্নামেন্ট খেলার অভিজ্ঞতা খুব বেশি নেই। ত্রিদেশীয় সিরিজে তিনটি দলেরই ফাইনালে ওঠার চাপ থাকে। প্রথম ম্যাচ হেরে গেলে রান রেটের হিসাবসহ নানা সমীকরণ চলে আসে, তখন পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। দ্বিপক্ষীয় সিরিজে প্রথম ম্যাচ হারলেও ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ থাকে।’
অতীতের ব্যর্থতা নিয়ে পড়ে থাকতে চান না বাংলাদেশের অধিনায়ক। বরং ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে দায়িত্বশীল ক্রিকেট খেলার ওপর জোর দিচ্ছেন তিনি। ব্যাটিংয়ে ছয়-সাত নম্বর পর্যন্ত খেলোয়াড়দের ইনিংস শেষ করে আসার দায়িত্ব নেওয়ার কথাও বলেছেন লিটন। তাঁর ভাষায়, ‘আগে কী হয়েছে, সেটা মাথায় রেখে আমরা প্রস্তুতি নিতে পারি। কিন্তু সব সময় আগের ব্যর্থতা নিয়ে পড়ে থাকলে চলবে না। আমাদের মানসিকতা ইতিবাচক রাখতে হবে এবং ইতিবাচক ক্রিকেট খেলতে হবে। সিনিয়র ক্রিকেটার হিসেবে আমাদের দায়িত্ব নিতে হবে। ব্যাটিংয়ে ছয়-সাত নম্বর পর্যন্ত যারা আছি, ওপরের দিক থেকে শুরু করে আমাদের সবার দায়িত্ব থাকবে ইনিংসটা শেষ করে আসার।’
বাংলাদেশের আরেকটি বড় পরীক্ষা হতে পারে আফগানিস্তানের স্পিন আক্রমণ। তবে প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর প্রত্যাশা করছেন লিটন। তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তানের বিপক্ষে আমরা এই প্রথম খেলছি না। অনেক দিন ধরেই তাদের সঙ্গে খেলছি, আমাদের বেশির ভাগ ক্রিকেটারেরই অভিজ্ঞতা আছে। আগের ম্যাচগুলোতে আমাদের যে ঘাটতি ছিল, আশা করি, দেশে থাকা ক্রিকেটাররা তা নিয়ে কাজ করেছে। এখানে এক-দুই দিনের অনুশীলনে যতটুকু সুযোগ পেয়েছি, আমরা নিজেদের প্রস্তুত করার চেষ্টা করেছি। আফগানিস্তান ভালো দল। তাদের স্পিন আক্রমণ যেমন ভালো, পেস বোলিংও মানসম্পন্ন।’
সংযুক্ত আরব আমিরাতের কন্ডিশন ও উইকেট নিয়েও কৌতূহল রয়েছে বাংলাদেশের অধিনায়কের। উইকেট সম্পর্কে নিজের ধারণার কথা জানিয়ে লিটন বলেন, ‘কন্ডিশন একই রকম হওয়ায় উইকেটও খুব বেশি আলাদা হওয়ার কথা নয়। আমি দেখতে চেয়েছিলাম কী ধরনের উইকেট তৈরি হয়েছে। কারণ, ধারণা করেছিলাম মাঝের উইকেটে খেলা হবে, কিন্তু কিউরেটর পাশের উইকেটগুলো তৈরি করেছেন। আশা করি, উইকেট ভালো হবে এবং সব দিক থেকে ভারসাম্যপূর্ণ থাকবে।’
ব্যাটিংয়ের ধরন ও বড় লক্ষ্য তাড়া করার চ্যালেঞ্জ নিয়েও কথা বলেছেন লিটন। তার মতে, আগে ব্যাটিং করা কিংবা রান তাড়া করা-দুই ক্ষেত্রেই ব্যাটারদের দায়িত্ব নিতে হবে। বড় লক্ষ্য তাড়া করার সময় বাড়তি চাপ এবং লোয়ার অর্ডারের অবদান রাখতে না পারার বিষয়টি দলের জন্য কঠিন হয়ে ওঠে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভালো প্রশ্ন। আগে ব্যাট করলে তো কোনো টার্গেট থাকে না। পরে ব্যাট করতে গেলে ৩০০ বা ৩০০+ রান টার্গেট থাকে, তখন একটু আগ্রাসী ব্যাট করতে হয়। আমরা বেশিরভাগ ৬ ব্যাটার নিয়েই খেলি, লোয়ার অর্ডার সেভাবে দলে অবদান রাখতে না পারলে কাজটা একটু কঠিন হয়ে যায়। তবে চেষ্টা করছি সেসব শুধরে নেওয়ার।’
অধিনায়কত্ব উপভোগ করার প্রসঙ্গে লিটনের সংক্ষিপ্ত উত্তর, ‘আমি শুরু থেকেই অধিনায়কত্ব উপভোগ করতাম।’
আজ আবুধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরু করবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে ম্যাচটি।



