টানা তিন ম্যাচে হারের পর অবশেষে জয়ের দেখা পেল বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস। ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লিজেন্ডসে (ডব্লিউসিএল) নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত চ্যাম্পিয়নসকে ৩ রানে হারিয়েছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল। শারজা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রোববার রাতে অনুষ্ঠিত রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে বাংলাদেশের ১৪১ রানের জবাবে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৩৮ রানেই থেমে যায় ভারতের ইনিংস।
স্বল্প পুঁজি নিয়েও বোলারদের দাপটে জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করেছিল বাংলাদেশ। তবে শেষ দিকে পবন নেগি ও পীযূষ চাওলার ব্যাটিংয়ে ম্যাচে ফেরে ভারত। শেষ ওভারে জয়ের জন্য ভারতের প্রয়োজন ছিল ১২ রান, হাতে ছিল ২ উইকেট। এমন পরিস্থিতিতে বল হাতে দায়িত্ব নেন আবু জায়েদ রাহি। একটি ওয়াইড দিলেও ওভারে মাত্র ৮ রান খরচ করে দলকে ৩ রানের রোমাঞ্চকর জয় এনে দেন তিনি।
এর আগে টানা তিন ম্যাচে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হেরে চাপে ছিল বাংলাদেশ। ফলে ভারতের বিপক্ষে এই জয় মাহমুদউল্লাহদের জন্য ছিল আসরে ঘুরে দাঁড়ানোর বড় সুযোগ।
টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ভারতের অধিনায়ক যুবরাজ সিং। ব্যাটিংয়ে নেমে ঝোড়ো শুরু পায় বাংলাদেশ। প্রথম দুই ওভারেই স্কোরবোর্ডে ৩০ রান যোগ করেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা। তবে তৃতীয় ওভারের প্রথম বলেই ৬ বলে ১০ রান করে ইমরুল কায়েসের বিদায়ে ছন্দপতন ঘটে। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে দলটি।
এক প্রান্ত আগলে রেখে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন রনি তালুকদার। ২৫ বলে ৪টি চার ও ২টি ছক্কায় ৪০ রান করেন তিনি। তবে ফজলে রাব্বি, জহুরুল ইসলাম ও অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বড় অবদান রাখতে পারেননি। মাহমুদউল্লাহর ব্যাট থেকে আসে মাত্র ১ রান।
মধ্য ওভারে দলের হাল ধরেন নাসির হোসেন ও আরাফাত সানি। চাপের মুখে ২১ বলে ২৪ রান করেন নাসির। তার ইনিংসে ছিল দুটি চার। অন্যদিকে ৩৮ বলে ৩৭ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন আরাফাত সানি। শেষ দিকে আবু জায়েদের ১০ রানের অবদানে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৪১ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। ভারতের পক্ষে পীযূষ চাওলা নেন ৩ উইকেট। পবন নেগি ও ঋষি ধাওয়ান পান ২টি করে উইকেট।
১৪২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বাংলাদেশের বোলারদের তোপে পড়ে ভারত। দ্রুত উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দলটি। পাওয়ারপ্লের মধ্যেই আম্বাতি রায়ডু, স্টুয়ার্ট বিন্নি ও যুবরাজ সিংয়ের উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে ভারত। পরে রবিন উথাপ্পা ও ইউসুফ পাঠানও ফিরে গেলে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫৫ রানে ৫ উইকেট।
এ পর্যায়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের হাতে চলে এলেও লড়াই ছাড়েনি ভারত। ইরফান পাঠান ৪১ বলে ২৪ রান করে ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেন। ঋষি ধাওয়ান ১৮ বলে ২৪ রান করে জয়ের আশা জিইয়ে রাখেন। শেষ দিকে পবন নেগি ও পীযূষ চাওলার ব্যাটে ম্যাচ জমে ওঠে। নেগি মাত্র ১৪ বলে ২৬ রান করে অপরাজিত থাকেন। চাওলাও ১৮ বলে ২৪ রান করে অপরাজিত থেকে ভারতের জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করেন।
১৯তম ওভারে কামরুল ইসলাম রাব্বির খরচ করা ১২ রান ম্যাচে নতুন উত্তেজনা ছড়ায়। শেষ ওভারে ভারতের প্রয়োজন নেমে আসে ১২ রানে। হাতে থাকা দুই উইকেট নিয়ে ভারত যখন জয়ের স্বপ্ন দেখছিল, তখনই চাপ সামলে দুর্দান্ত বোলিং করেন রাহি। তাঁর নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৩৮ রানেই থামে ভারতের ইনিংস।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল এনামুল হক জুনিয়র। ৩ ওভারে মাত্র ১২ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন তিনি। আবু জায়েদ রাহি ও কামরুল ইসলাম রাব্বিও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তুলে নেন। বিশেষ করে শেষ ওভারে রাহির নিয়ন্ত্রিত বোলিং বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখে।
এই জয়ে চার ম্যাচে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ২ পয়েন্টে। তবে পয়েন্ট তালিকায় ছয় দলের মধ্যে এখনো সবার নিচে রয়েছে মাহমুদউল্লাহর দল। বাংলাদেশের নেট রানরেট -১.০৫১। সমান ২ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থানে থাকা ভারতের নেট রানরেট +০.১২৪। অন্যদিকে তিন ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
ভারতের বিপক্ষে এই জয় বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস ফেরানোর পাশাপাশি টুর্নামেন্টে টিকে থাকার আশাও বাড়িয়েছে। আগামী বুধবার শারজায় দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে জয় পেলে পয়েন্ট তালিকায় অবস্থান উন্নত করার সুযোগ পাবে দলটি।



