এশিয়ান গেমসে পদকের আশা নিয়ে যাওয়া বাংলাদেশ পুরুষ ক্রিকেট দলকে শেষ পর্যন্ত ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে। ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কার কাছে ৬৩ রানে হেরে গেছে লিটন দাসের দল। শ্রীলঙ্কার তুলনামূলক খর্বশক্তির দলের বিপক্ষে এমন হারে টুর্নামেন্ট থেকে হতাশাজনক বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ।
নিশিনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে শ্রীলঙ্কা ১৬৫ রান সংগ্রহ করে। জবাবে বাংলাদেশের ইনিংস থেমে যায় মাত্র ১০২ রানে। ব্যাটিংয়ে লিটন দাস, সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিমরা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। বোলিংয়েও বেশ কিছু পর্যায়ে খরুচে ছিল বাংলাদেশ। ফলে ম্যাচে বড় ব্যবধানে হার এড়াতে পারেনি দলটি।
হারের পর নিজেদের পারফরম্যান্সের জন্য সরাসরি দুঃখ প্রকাশ করেন বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দীন। তিনি বলেন, ‘সত্যিকার অর্থে আমরা দেশবাসীর কাছে লজ্জিত। কোচ হিসেবেও মনে করি আমরা ব্যর্থ হয়েছি। আমাদের কাছে দেশবাসীর যে প্রত্যাশা ছিল সেটা পূরণ করতে পারিনি। খুবই হতাশাজনক এবং পুরো দেশবাসীর কাছে আমরা লজ্জিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।’
বাংলাদেশের বোলিংয়েও ছিল হতাশার চিত্র। বিশেষ করে মুস্তাফিজুর রহমান তিন ওভারে ৪৩ রান দিয়ে ছিলেন বেশ খরুচে। আগের ম্যাচেও পাকিস্তানের বিপক্ষে ভালো করতে পারেননি বাঁহাতি এই পেসার। মুস্তাফিজের পারফরম্যান্সের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সালাহউদ্দীন বলেন, ‘মুস্তাফিজ অনেকদিন ধরে চোটে ছিল। গত ১০ বছরে সে আমাদের সেরা খেলোয়াড়দের একজন। খেলার মধ্যে নতুন কোনো ইন্সট্রাকশন পাঠানো হয় না। বিশেষ করে সে ডেড ওভার স্পেশালিস্ট। ফলে তার ওপর আমাদের ভরসা রাখতেই হবে।’
দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স নিয়েও সন্তুষ্ট নন বাংলাদেশ কোচ। সালাহউদ্দীন বলেন, ‘এই উইকেটে বোলাররা কয়েক ওভার খুব বাজে বল করেছে। যারা টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট তারাই বেশি রান দিয়েছে। ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লে-তে বেশি উইকেট হারিয়েছি।’
অধিনায়ক লিটন দাসও টুর্নামেন্টে ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বের হতে পারেননি। পাকিস্তানের বিপক্ষে সেমিফাইনালে মাত্র ২ রান করে আউট হওয়ার পর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম বলেই বোল্ড হন তিনি। দুই ম্যাচে অধিনায়কের ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দীন বলেন, ‘আমি সব সময় বলব তারা দেশের জন্য লড়ে। তারা ফেইল করছে, সেটা নিয়ে আমরা অবশ্যই লজ্জিত। টু বি অনেস্ট আমরা টোটাল টিম হিসেবে ভালো পারফর্ম করিনি।’
বৃষ্টির কারণে চীনের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়েছিল। এরপর টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকার সুবাদে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ। তবে শেষ চার থেকে পাকিস্তানের কাছে হারের পর ব্রোঞ্জের লড়াইয়েও শ্রীলঙ্কার কাছে পরাজিত হয় দলটি। ফলে এশিয়ান গেমসে এবার কোনো পদকই জিততে পারল না বাংলাদেশ পুরুষ ক্রিকেট দল।
খেলার পর নিজেদের ব্যর্থতার কারণ হিসেবে গেমপ্ল্যান বাস্তবায়নে ঘাটতির কথাও উল্লেখ করেন সালাহউদ্দীন। ক্রিকেটারদের চেষ্টা নিয়ে তিনি বলেন, ‘প্লেয়াররা তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে, কিন্তু আমার মনে হয় আমরা গেমপ্ল্যান ঠিকমতো বাস্তবায়ন করতে পারিনি। ব্যাটিংয়ে দ্রুত উইকেট পড়ে যাওয়ায় ম্যাচটি বের করা সম্ভব হয়নি।’
পদকের লক্ষ্য নিয়ে এশিয়ান গেমসে গেলেও শেষ পর্যন্ত ব্রোঞ্জ পদকও অর্জন করতে পারেনি বাংলাদেশ। পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পরপর দুই ম্যাচে হেরে এশিয়ান গেমস থেকে শূন্য হাতে দেশে ফিরতে হচ্ছে লিটন দাসের নেতৃত্বাধীন দলকে।



