আবুধাবি টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে স্বস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি বাংলাদেশ। দুই উইকেট নিয়ে দিন শুরু করে প্রথম ইনিংসে ৩৪৬ রানে অলআউট হওয়ার পর বল হাতে আফগানিস্তানের ওপর চাপ তৈরির সুযোগ পেয়েছিল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। শুরুতে সেই সুযোগ কাজে লাগালেও পঞ্চম উইকেটে অধিনায়ক রহমত শাহ ও ইকরাম আলীখিলের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে আফগানিস্তান।
দিন শেষে ৭৯ ওভারে ৪ উইকেটে ২১১ রান তুলেছে তারা। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের চেয়ে এখনো ১৩৫ রানে পিছিয়ে আছে আফগানরা।
আজ দিনের শুরুতে হাতে থাকা দুই উইকেটে বাংলাদেশ যোগ করতে পেরেছে মাত্র ২৯ রান। ৮.৩ ওভার ব্যাটিংয়ের পর শেষ দুটি উইকেট হারিয়ে ৩৪৬ রানে থামে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। এরপর আফগানিস্তানের ব্যাটিংয়ের সময় উইকেটের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে বাংলাদেশের বোলারদের।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে ভালোই এগোচ্ছিল আফগানিস্তান। ওপেনার আবদুল মালিকের ৬২ রানের ইনিংসে ভর করে তারা একপর্যায়ে দুই উইকেটে ১৩১ রান তুলে চা বিরতিতে যায়। তবে বিরতির পরপরই ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় বাংলাদেশ। আবদুল মালিককে ফিরিয়ে প্রথম আঘাত হানেন ইবাদত হোসেন চৌধুরী। এরপর সাবেক অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শহীদিকে রানের খাতা খোলার আগেই ফেরান মেহেদী হাসান মিরাজ। টানা দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে আফগানিস্তান।
কিন্তু সেই চাপ দীর্ঘস্থায়ী হতে দেননি রহমত শাহ ও ইকরাম আলীখিল। পঞ্চম উইকেটে ধৈর্য ধরে ব্যাটিং করে বাংলাদেশের বোলারদের হতাশ করেন দুজন। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দলকে বিপদমুক্ত করার পাশাপাশি বাংলাদেশের লিড কমিয়ে আনার কাজও চালিয়ে যান তাঁরা। শেষ বিকেলে আর কোনো উইকেট হারাতে হয়নি আফগানিস্তানকে।
অধিনায়ক রহমত শাহ ১৮৬ বলে আটটি চার ও একটি ছক্কায় ৮৪ রান করে অপরাজিত আছেন। সেঞ্চুরি থেকে আর ১৬ রান দূরে তিনি। অন্য প্রান্তে ইকরাম আলীখিল ৯১ বলে তিনটি চারের সাহায্যে ২৬ রান নিয়ে অপরাজিত রয়েছেন। পঞ্চম উইকেটে তাঁদের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে এসেছে ৭২ রান। প্রায় ১৯৪ বল ধরে গড়া এই জুটিই দ্বিতীয় দিনের শেষ ভাগে আফগানিস্তানকে ম্যাচে ফেরার আশা দেখাচ্ছে।
বাংলাদেশের হয়ে ইবাদত হোসেন দুটি উইকেট নিয়েছেন। হাসান মাহমুদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ পেয়েছেন একটি করে উইকেট। অন্য বোলাররা উইকেটের দেখা না পাওয়ায় দিনের শেষ ভাগে আফগানিস্তানের রান বাড়তে থাকে।
তৃতীয় দিনের সকালে নতুন বল বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। প্রথম ওভার শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয় নতুন বল নেওয়ার সুযোগ পাবে বাংলাদেশ। রহমত ও ইকরামের জুটি ভাঙতে পারলে আবারও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে শান্তর দলের সামনে। অন্যদিকে রহমত সেঞ্চুরি পূর্ণ করতে পারলে এবং ইকরামকে সঙ্গে নিয়ে জুটি বড় করতে পারলে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের লিড আরও কমে আসবে।



