ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লিজেন্ডসের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া চ্যাম্পিয়ন্সের কাছে ৩৭ রানে হেরেছে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্স। টসে জিতে আগে ব্যাট করে অস্ট্রেলিয়া ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২০৩ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে। জবাবে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ঝড়ো ৭৩ রানের ইনিংসের পরও বাংলাদেশ ৬ উইকেটে ১৬৬ রানের বেশি করতে পারেনি।
অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের শুরুটা অবশ্য স্বস্তিদায়ক ছিল না। দলীয় ২৭ রানের মধ্যেই উসমান খাজা ও ডেভিড ওয়ার্নারের উদ্বোধনী জুটি ভেঙে দেন বাংলাদেশের আবু জায়েদ চৌধুরী রাহি। এরপর তিন নম্বরে নামা ড্যাসি শর্টকেও ফেরান তিনি। জো বার্নসও বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারেননি। ৬ বলে ৯ রান করে বিদায় নেন তিনি।
এরপর ডেভিড ওয়ার্নারের সঙ্গে জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসকে এগিয়ে নেন কালাম ফার্গুসন। দুজনের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে দ্রুত বাড়তে থাকে রান। উইকেটের চারপাশে দারুণ সব শটে রান তুলে ফিফটি পূর্ণ করেন ওয়ার্নার।
দলীয় ১৩৩ রানে ৩৮ বলে ৬৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে রুবেল হোসেনের বলে আউট হন ওয়ার্নার। তবে ফার্গুসন তখনও ক্রিজে ছিলেন। তিনিও তুলে নেন ফিফটি এবং শেষ পর্যন্ত ৩৬ বলে ৬৩ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। তাঁর বিদায়ের সময় অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ছিল ১৭৭ রান।
শেষ দিকে বেন ডাঙ্কের আগ্রাসী ব্যাটিং অস্ট্রেলিয়াকে দুইশ ছাড়ানো সংগ্রহ এনে দেয়। ২৪ বলে ৪৫ রান করে অপরাজিত থাকেন ডাঙ্ক। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৬ উইকেটে ২০৩ রান সংগ্রহ করে অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের হয়ে ৩ উইকেট নেন আবু জায়েদ চৌধুরী রাহি। জিয়াউর রহমান পান ২ উইকেট এবং রুবেল হোসেন নেন একটি।
২০৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল আশাব্যঞ্জক। ইমরুল কায়েস ও রনি তালুকদার মিলে উদ্বোধনী জুটিতে ৩০ রান যোগ করেন। ৬ বলে ৯ রান করে রনি ফিরলে ভাঙে জুটি। অন্য প্রান্তে ইমরুল বেশ সাবলীল ব্যাটিং করতে থাকেন। তাঁর সঙ্গে ফজলে মাহমুদ রাব্বির জুটিতে এগিয়ে যেতে থাকে বাংলাদেশ।
দলীয় ৭১ রানে ভাঙে এই জুটি। ৩০ বলে ৪১ রান করে আউট হন ইমরুল কায়েস। পরের ওভারেই বিদায় নেন রাব্বি। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ২০ বলে ২৭ রান।
এরপর দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। এক প্রান্তে অবশ্য লড়াই চালিয়ে যান অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। দলের অন্য ব্যাটসম্যানরা প্রত্যাশিতভাবে রান করতে না পারলেও রিয়াদ একাই ম্যাচে উত্তেজনা ধরে রাখেন।
মাত্র ২৬ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। এরপরও থামেনি তাঁর আক্রমণাত্মক ব্যাটিং। একের পর এক ছক্কা ও বাউন্ডারিতে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। শেষ পর্যন্ত ৩৫ বলে ৭৩ রানে অপরাজিত থাকেন রিয়াদ। তাঁর ইনিংসে ছিল ২টি চার ও ৮টি ছক্কা।
তবে লক্ষ্য থেকে বাংলাদেশ তখন অনেক দূরে। শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৫১ রান। শেষ ছয় বলে ১৩ রান তুলতে পারে বাংলাদেশ। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৬৬ রানেই থেমে যায় তাদের ইনিংস। ফলে ৩৭ রানের জয় পায় অস্ট্রেলিয়া চ্যাম্পিয়ন্স।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ফাওয়াদ আহমেদ নেন ২ উইকেট। ড্যাসি শর্ট, কেইন রিচার্ডসন ও বেন হিলফেনহাস একটি করে উইকেট শিকার করেন। বাংলাদেশের পরাজয়ের মাঝেও মাহমুদউল্লাহর বিধ্বংসী ৭৩ রানের ইনিংসটি ছিল ম্যাচের অন্যতম আলোচিত পারফরম্যান্স।



